ঢাকা | শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৭ কার্তিক ১৪২৮

‘ডু অর ডাই’

মাহমুদুন্নবী চঞ্চল
প্রকাশনার সময়: ১৩ অক্টোবর ২০২১, ১০:০৮

হিসাব পরিষ্কার। ১৬ বছর পর সাফ ফুটবলের ফাইনালে ওঠতে শেষ ম্যাচে জয়ের বিকল্প নাই বাংলাদেশের। প্রতিপক্ষ সেখানে শক্তিশালী নেপাল। রাউন্ড রবিন লিগে নিজেদের শেষ ম্যাচে মালেতে আজ বিকেল ৫টায় নেপালের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস।

এবারই প্রথম সাফ ফুটবল অনুষ্ঠিত হচ্ছে কোনো গ্রুপ ছাড়া। পাঁচ দলের অংশগ্রহণে হচ্ছে রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতি। ইতোমধ্যে তিন ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে বাংলাদেশের। একটি করে জয়, ড্র ও হার। সব মিলিয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় চতুর্থ স্থানে দলটি। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে স্বাগতিক মালদ্বীপ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা নেপালের পয়েন্টও ৬। গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় দ্বিতীয় স্থানে দলটি। তিন ম্যাচে এক জয় ও দুই ড্রয়ে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে ভারতের অবস্থান তৃতীয়। চার ম্যাচে এক পয়েন্ট অর্জন করা শ্রীলঙ্কা বিদায় নিয়েছে আগেই।

লিগ পদ্ধতিতে চলমান এই টুর্নামেন্টে ফাইনালে উঠবে পয়েন্ট তালিকায় থাকা শীর্ষে দুটি দল। সেই হিসাবে বেশ এগিয়ে মালদ্বীপ ও নেপাল। কারণ নিজেদের শেষ ম্যাচে ড্র করলেই ফাইনালে উঠবে এই দুই দল। কিন্তু হেরে গেলে সমীকরণ বদলাবে। সেই সুযোগটাই নিতে মরিয়া বাংলাদেশ। আজ নেপালকে হারাতে পারলেই কোনো হিসাব ছাড়াই ফাইনালে উঠবে জামাল বিগ্রেড। অপর ম্যাচে মালদ্বীপের মুখোমুখি হবে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। এই ম্যাচে মালদ্বীপ ড্র করলেই ফাইনালে যাবে। তবে ভারতের বেলায় সমীকরণটা বাংলাদেশের মতো। তাদেরও ফাইনাল নিশ্চিত করতে হলে জয় দরকার, ড্র করলেও বিদায় নিতে হবে সুনীল ছেত্রীদের।

হেড টু হেডে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকছে। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে নেপালের চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ২২ বার। এর মধ্যে ১৩ বার জয় বাংলাদেশের। সাত হার ও দুটিতে ড্র। তবে শেষের পাঁচ লড়াইয়ে বাংলাদেশের সমীকরণটা বড্ড বিবর্ণ। হেরেছে তিন ম্যাচ। একটি করে ড্র ও জয়। শেষ জয় গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে, ২-০ ব্যবধানে।

তারপরও এই ম্যাচে নেপাল চাপে থাকবে বলে দাবি বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড রাকিবের। সোমবার অনুশীলন শেষে রাকিব বলেন, ‘আমরা চার পয়েন্ট নিয়ে জিততে যাব। এটা আগে থেকে জানি। নেপাল ৬ পয়েন্ট নিয়ে অনেকটা নির্ভর ছিল। ভারতের বিরুদ্ধে হেরে এখন তারা চাপে।’

বাংলাদেশের মূল সমস্যা স্কোরিং। জাতীয় দলে থাকা তিন ফুটবলার রাকিব, জুয়েল ও সুমন ঘরোয়া লিগে দেশি ফুটবলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ গোলদাতা। গত তিন ম্যাচের মধ্যে তারা কেউ গোল করতে পারেননি। এ সম্পর্কে রাকিব বলেন, ‘আমি জাতীয় দলের হয়ে এখনো কোনো গোল করতে পারিনি। আশা করি, দ্রুত গোলের দেখা পাব। আমরা সবাই গোল করতে চাই। ফরোয়ার্ড পজিশনে যারা খেলছেন সবাইই গোল করতে মরিয়া হয়ে আছে।’

গত মার্চে নেপালে অনুষ্ঠেয় ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ স্বাগতিকদের কাছে হেরে রানার্স আপ হয়েছিল। গতকাল ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে আগের প্রসঙ্গগুলো ওঠে আসছিল বারবার। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া এ নিয়ে বলেন, ‘আগে কি হয়েছিল সেটা আর মনে করতে চাই না। আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’ সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে জামালদের সামনে বাধা নেপাল। হিমালয় কন্যাদের হারাতে পারলে বাংলাদেশ ১৬ বছর পর ফাইনাল খেলবে।

অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া আশা দেখালেন দেশবাসীকে, ‘আমাদের এই দলটা ভালো। লিগের সেরা খেলোয়াড়রা এই দলে রয়েছে। আমরা ইতিহাস তৈরি করতে পারি।’ অধিনায়ক ইতিহাসের কথা বললেও আসলে ফাইনাল খেললে বাংলাদেশের ইতিহাস হবে না। বাংলাদেশ সাফের ফাইনাল এখন পর্যন্ত তিনবার খেলেছে। আজ নেপালের বিপক্ষে জিতলেই বাংলাদেশ ফাইনাল খেলতে পারবে। ফাইনাল খেলতে হলে প্রয়োজন গোলের। বাংলাদেশের সমস্যা স্কোরিং।

কাক্সিক্ষত গোল কে করবে এই বিষয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘গোলের সংকট বা স্কোরিং নিয়ে সমস্যা এটা মিডিয়ার কথা। আমি কোনো সংকট দেখি না। ১১ জনের মধ্যে যে কেউ গোল করতে পারে। বাংলাদেশ দলের হয়ে যে কেউ গোল করলেই হয়।’ সমর্থকদের কাছে বাড়তি সমর্থন চেয়েছেন অধিনায়ক, ‘মালদ্বীপে আমরা অনেক সমর্থন পাচ্ছি। আশা করি, আগামী ম্যাচেও এর ধারাবাহিকতা থাকবে। মালদ্বীপ ম্যাচ খুব কম টিকিট পেয়েছিল বাংলাদেশিরা। এই ম্যাচে অনেকে আসবে, সবাই সমর্থন দেবে।’

জাতীয় দলের ম্যানেজার সত্যজিত দাশ রুপুও এই দল নিয়ে আশাবাদী। বাংলাদেশের সমর্থকদের হতাশ করবে না জামালরা- এমনটি জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘নেপালকে হারাতেই হবে। কোচ সেই লক্ষ্যে ট্রেনিং প্ল্যান করেছে। আশা করছি, ছেলেরা কাউকে হতাশ করবে না। ওরা লড়াই করার জন্য প্রস্তুত।’

এদিকে বাংলাদেশের ম্যাচ নিয়ে মালেতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে বিরাজ করছে উত্তেজনা। গতকাল টিকিটের জন্য দিনভর লাইনে ছিল অনেকে। মালদ্বীপ ম্যাচে বাংলাদেশি প্রবাসীরা মাত্র আড়াইশ টিকিট পেয়েছিল। নেপাল ম্যাচে পাচ্ছে আড়াই হাজার। টিকিটের লাইন লম্বা থাকলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সাফ ফুটবলে বাংলাদেশ সর্বশেষ সেমিফাইনালে খেলেছিল ২০০৯ সালে (ঢাকায় অনুষ্ঠিত)।

এরপর ২০১১, ২০১৩, ২০১৫ ও ২০১৮ আসরে প্রতিবারই বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকেই। এবার অবশ্য সেমি ফাইনাল বলার অবকাশ নেই। কারণ খেলা হচ্ছে লিগ পদ্ধতিতে। তারপরও নেপালের সঙ্গে আজকের ম্যাচটি অলিখিত ফাইনালের মতো। অলিখিত এই সেমির গণ্ডি পেরুতে পারলে ঘুচতে পারে বাংলাদেশের দীর্ঘ ১৬ বছরের আক্ষেপ। অর্থাৎ ২০০৫ সালের পর আবারো তারা সাফের ফাইনালে নাম লেখাতে পারবে। বাংলাদেশের বহু আকাক্সক্ষা ও প্রতীক্ষার ফাইনালে নাম লেখানোর পথে এখন বাধা হিমালয়ের দেশ নেপাল। সাফে কোনো দিন ফাইনাল না খেলা নেপালকে হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে চোখ জামাল-তপু-রাকিবদের। স্বপ্নপূরণ হবে তো?

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন