ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯, ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

বিদায়বেলায় আবেগঘন স্ট্যাটাস সচিব হেলালুদ্দীনের

প্রকাশনার সময়: ২৩ মে ২০২২, ১৪:২২

অবসরে গেলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তার জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী।

রোববার (২২ মে) সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যান হেলালুদ্দীন আহমদ। পরে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া দীর্ঘ স্ট্যাটাসে কর্মজীবনের নানা সময়ের স্মৃতিচারণ করেন।

সচিব হেলালুদ্দীনের স্ট্যাটাসটি নয়া শতাব্দীর পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘আজ ২২ মে ২০২২ সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করলাম। আজ অপরাহ্নে নবাগত সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে আমার চাকরি জীবনের এখানেই ইতি টানলাম।

প্রায় ৩৫ বছর পূর্বে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৮ সালে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের সদস্য হিসেবে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, ঢাকা-তে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশ করি।

৩৫ বছরের এ সময়ের প্রায় ২৯ বছর কর্মজীবন অতিবাহিত হয় মাঠ প্রশাসনে। দীর্ঘ এই কর্মজীবনের পথচলায় সহকারী কমিশনার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর, উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিবের মতো গুরুদায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছি।

চাকরি জীবনের সব চাইতে চ্যালেঞ্জ ছিল স্বাধীনতাবিরোধী চক্র কর্তৃক সৃষ্ট নাশকতায় ২০১৩-১৫ সালে দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সকলকে সঙ্গে নিয়ে বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে মোকাবিলা করা এবং নির্বাচন কমিশন সচিব হিসেবে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করার সৌভাগ্য অর্জন করা।

প্রায় ৩ বছর সময়কালে স্থানীয় সরকার বিভাগে ২ বছরব্যাপী অতিমারি কোভিড মোকাবিলা করে প্রত্যন্ত গ্রাম হতে নগর উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ বাস্তবায়ন, সারাদেশে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা।

দীর্ঘকাল সরকার কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালন শেষে আজ ২২ মে সরকারি চাকরি হতে অবসরগ্রহণ করি।

চাকরিকালীন কর্মজীবনে আন্তরিকতা, ন্যায়নিষ্ঠা, সততা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে কর্তব্য পালনে সর্বোচ্চ সচেষ্ট ছিলাম।

চাকরিজীবনে আমার প্রতি আস্থা রেখে ২০০৯ সাল হতে আমাকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করার জন্য সর্বাজ্ঞচিত্তে বঙ্গবন্ধু কন্যা, সফল রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার পথচলায় একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে সহযোদ্ধা হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।

আমার কর্মজীবনের পথচলায় সকল সহকর্মী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো: তাজুল ইসলাম এমপিকেও ধন্যবাদ জানাই। সরকারি দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনসেবা ও দেশসেবা করতে পেরে চাকরি সমাপ্তিতে আমি পরিতৃপ্ত ও আনন্দিত।

আমার সুদীর্ঘ কর্মকালে আমার আচার-আচরণ কিংবা কর্মের মাধ্যমে অজ্ঞাতসারে যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি তা এ বিদায় মুহূর্তে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন বলে আশা রাখছি।’

নয়াশতাব্দী/জেডআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ