ঢাকা | বৃহস্পতিবার ৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৫ জিলহজ ১৪৪২

করোনাভাইরাসে নয়, তাদের মৃত্যু আগুনে

প্রকাশনার সময়: ১৩ জুলাই ২০২১, ১৭:৩৮ | আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২১, ২১:১২
ইরাকের একটি হাসপাতালে করোনাভাইরাসের আইসোলেশন ওয়ার্ডে আগুন লাগার পর স্বজনের আহাজারি ছবি: বিডিনিউজ

মৃত্যু অনিবার্য, চিরন্তন সত্য। এটা আমরা সবাই জানি। তবুও মানুষ সহজে তার প্রাণ হারাতে চান না। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চেষ্টা করেন বাঁচার জন্য। ইতিহাস বলে এ বিশ্বে আজ অবধি যতগুলো মহামারি এসেছে মানুষ তা মোকাবিলা করেছে। সেই যুদ্ধে অনেক মানুষই প্রাণ হারিয়েছে। তবুও কোনো মহামারিই স্থায়ী হতে পারেনি। হয়তো এই করোনা মহামারিও পারবে না। কিন্তু দু:খের বিষয় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কিন্তু অনেকের ভাগ্য তাদের সেখানেও বাঁচতে দেয়নি। ঢাকাসহ দেশের বাহিরে বেশ কয়েকটি হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুড়ে লাশ হয়েছেন প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ। বার বার কোভিড ইউনিটে আগুন লাগার বিষয়টি বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবৃন্দতে।

গতকাল সোমবার (১২ জুলাই) ইরাকের একটি হাসপাতালে করোনাভাইরাসের আইসোলেশন ওয়ার্ডে আগুন লেগে অন্তত ৪৪ জনের প্রাণ গেছে, আহত হয়েছেন ৬৭ জন। নাসিরিয়া শহরের আল-হুসেইন হাসপাতালে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। প্রাথমিকভাবে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে একটি অক্সিজেন ট্যাঙ্ক বিস্ফোরিত হওয়ার পর ওই হাসপাতালে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ২৫ এপ্রিল (২০২১) ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ইবনে খতিব হাসপাতালে করোনভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করা ইউনিটে আগুনে কমপক্ষে ২৩ জন নিহত হয়েছে। আগুনের ধোঁয়ায় বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ে। অক্সিজেন ট্যাঙ্ক ফেটে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর: বিবিস বাংলা

১৭ মার্চ (২০২১) বাংলাদেশের ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় আইসিইউতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে৷ ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের ডিউটি অফিসার জিয়া রহমান জানায়, সংবাদ পেয়ে ওই সময়ই তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নির্বাপন করে ফেলে। প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে আইসিইউর জানালা ভেঙে ধোঁয়া বের করে আনা হয়। পরে ভেতরে থাকা দুইজন রোগীকেও উদ্ধার করা হয়।

২৭ সেপ্টেম্বর (২০২০) মিসরের রাজধানী কায়রোর উপকণ্ঠে একটি হাসপাতালে বড় ধরণের অগ্নিকাণ্ডে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। হাসপাতালটিতে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। খবর: রয়টার্স।

৩০ এপ্রিল (২০২০) ভারতের গুজরাটের ভরুচে একটি কোভিড হাসপাতালে আগুন লেগে কমপক্ষে ১৮ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মধ্যরাতে আগুন লাগে ওই হাসপাতালে। খবর: আনন্দবাজার

০৯ আগস্ট (২০২০) ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়া শহরে কোভিট হাসপাতালে আগুন লেগে অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছে। এনডিটিভি জানিয়েছেন, শহরের হোটেল স্বর্ণা প্যালেসে অস্থায়ীভাবে কোভিড রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছিল রমেশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

১ জুন (২০২০) ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে করোনা ইউনিটে আগুনের শিকার হয়ে পাঁচজন মৃত্যুবরণ করেন। কোভিড থেকে তাঁরা বাঁচার জন্য দেশের অন্যতম সেরা ও ব্যয়বহুল হাসপাতালে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে আগুনে পুড়ে তাদের জীবনের সমাপ্তি ঘটে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

দেশ ও বিদেশে হাসপাতালগুলোর করোনা ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নেটিজনদের মাঝে নানান আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। কী কারণে বার বার কোভিড ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে? বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘ। করোনার এই ভয়াবহ দিনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার আরেকটি দৃষ্টান্ত উদাহরণ হয়ে থাকল এসব ঘটনাগুলো। হাসপাতালে যারা চিকিৎসা নিতে আসছিলেন তাদের করোনাভাইরাসে নয়, মৃত্যু হলো আগুনের ঘটনা বা দুর্ঘটনা থেকে। এসব মৃত্যুর দায় কে নিবে?

নয়া শতাব্দী/এম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এই পাতার আরও খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x