ঢাকা | বৃহস্পতিবার ৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৫ জিলহজ ১৪৪২

মৃত্যুই কী আমাদের শ্রদ্ধা?

প্রকাশনার সময়: ০৬ জুলাই ২০২১, ২১:০২ | আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২১, ২১:৩১

একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কিংবা তোমাদের কোনো ব্যস্ততার মাঝে হঠাৎ শুনবে আমার মৃত্যুর সংবাদ। হয়তো তখন একটু চমকে উঠবে। অনেকে খবরটা বিশ্বাস করতে চাইবে না, গুজব বলে উড়িয়ে দিবে।

কিছুক্ষণ পর যখন নিশ্চিত হবে সত্যিই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছে আমার প্রাণ। কেউ কেউ তখন ছুটে আসবে আমার নিথর দেহের পাশে। কেউ বা আবার আমার ছবি দিয়ে ফেইজবুকে মৃত্যুর সংবাদটি দিয়ে দিবে। পরিচিত সবাই শোককাতর হয়ে যাবে।

মৃত্যুর পরে হয়তো আমার প্রশংসায় মেতে উঠবে অনেকেই। একে অন্যের কাছে আমার সম্পর্কে ভাল-মন্দ বলাবলি করবে। পরিচিত সাংবাদিক বন্ধুরা হয়তো একটি শোক বার্তা পত্রিকায় ছাপা করতে ভুলবে না। কিন্তু কি হবে এত কিছু করে? জীবদ্দশায় যারা আমাকে বুঝলো না, মূল্যায়ন করলো না, মৃত্যুর পরে কেন এত শ্রদ্ধা? কেন এত ভক্তি? তবে কি মৃত্যুর সংবাদই তাদের কাছে খুশীর একটি বার্তা!

এমন কথাগুলো উদাহরণ টেনে লিখতে আমি প্রস্তুত ছিলাম না, তারপরো লিখলাম এ কারণে- আমাদের দেশ থেকে অনেক গুণী মানুষই জীবনের সমাপ্তি টেনেছেন। অনেক গুণী মানুষরা এখনো বেঁচে আছেন বাংলার বুকে। কিন্তু এই মানুষগুলোর জীবদ্দশায় আমরা কি একটিবারও কোনো খোঁজ রেখেছি? কোথায় আছে কেমন আছে? তাদের পাশে গিয়ে কি দাঁড়ানোর একটিবারও চেষ্টা করেছি?

সম্প্রতি সাপ্তাহিক ‘একতা’ পত্রিকায় আমার একটি লেখা ছাপা হয়েছিল দেশের চার বীর নারী নিয়ে। সেখানে উল্লেখ করেছিলাম দেশের চার বীর নারীর সংগ্রামী জীবনের কিছু কথা। নিজেদের সব কিছু হারিয়ে পথে বসেছিলেন এসব নারীরা।

যাদের কথা বলছিলাম তারা হলেন- ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, রমা চৌধুরী, কাকন বিবি ও তারামন বিবি। তারা জীবদ্দশায় বাঁচার জন্য অনেক সংগ্রাম করে গেছেন, কই কেউতো তখন তাদের পাশে দাঁড়াননি। মুক্তিযুদ্ধের পর এক বুক কষ্ট-দুঃখ-যন্ত্রণা নিয়ে বীর নারীরা তাদের আপনজনদের কাছে ফিরে গিয়েও কোথাও ঠাই মেলেনি তাদের। ধর্ষকেরা নাকি তাদের ইজ্জত নষ্ট করে ফেলেছে, তাদের আর ইজ্জত নেই, কাজেই স্বামী তাকে ঘরে তুলবে না। সমাজের মানুষ ধর্ষিতা নারী হিসেবে চোখ উচকিয়ে কথা বলতো। তবে তাদের মৃত্যুর পরে তাদেরকে নিয়ে কেন এত সম্মানের ষ্টাটাস? এর ব্যাখা কেউ কি দিতে পারবেন?

আমি মনে করি এগুলো লোক দেখানো দেশপ্রেমের প্রতি দ্বায়বদ্ধতা থেকে একটি সম্মানের শোক স্টাটাস মাত্র। তাদের মৃত্যুর পরে সম্মান দিলেন, নাকি খুশী হলেন সেটাই বোঝা দায়।

তবে কিছু মানুষ আছে এর ব্যতিক্রম যারা সত্যিই মানুষকে বেঁচে থাকতে যেমন সম্মান দিতে জানে, তেমনি মৃত্যুর পরেও।

অনেক গুণী মানুষরা আমাদের সমাজের প্রতি তিরস্কার জানিয়ে হাজারো অভিমান বুকে নিয়ে হারিয়ে গেছেন চিরতরে। জীবদ্দশায় আমরা পারিনি তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে। এজন্য আমাদের লজ্জিত হওয়া উচিত।

আমরা কি পারি না জীবদ্দশায় ভাল মানুষের পাশে দাঁড়াতে? তাদের প্রশংসা এবং প্রাপ্য সম্মান ও শ্রদ্ধা করতে?

কারো মৃত্যুর পরে লোক দেখানো সম্মান ও ভালোবাসা না দেখিয়ে আসুন নি:স্বার্থ ভাবে জীবদ্দশায় সেইসব মানুষের পাশে দাঁড়াই যারা আমাদেরকে ভালোবাসে, এ দেশকে ভালোবাসে এবং সমাজের মানুষদের নিয়ে ভাবে।

লেখক: সহ-সম্পাদক, নয়া শতাব্দী (অনলাইন)।

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এই পাতার আরও খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x