ঢাকা, শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯, ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

হতাশ হইও না...

প্রকাশনার সময়: ২৩ জুন ২০২২, ১৩:২৩

সময়টা ভালো যাচ্ছে না। হয়তো আপনি পৃথিবী বা জীবনের বিপর্যয় অথবা দুশ্চিন্তা বা কষ্ট থেকে সৃষ্ট বিষণ্নতায় ডুবে আছেন। বিষণ্নতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়া বা বিষণ্নতা পুষে রাখা মানসিক, আত্মিক ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আমাদের কি আসলে নিজেদের ক্ষতি করার অধিকার আছে বা বিষণ্ন হয়ে অসুস্থ হতে থাকার সুযোগ কিংবা বিষণ্নতায় খাওয়া-দাওয়া ভুলে যাওয়া, পড়াশোনা, কর্তব্য পালনে অবহেলা? আল্লাহ কি আমাদের সেই অনুমতি দিয়েছেন!

নিজের ওপর বিশ্বাস ও আশা হারিয়ে ফেলা ঠিক নয়; বরং এই পৃথিবীতে আমাদের আসার মূল উদ্দেশ্যটা হূদয়ে ভালো করে গেঁথে নেয়া উচিত। কেন এসেছি দুনিয়াতে, কতদিন থাকি এখানে, কী পাই, কেন পাই, কেন সবকিছু হারায়, কেন চলে যেতে হয় এক দিন— এগুলোর উত্তর জানলে কোনো ঘটনা, কোনো অপ্রাপ্তি বা কাউকে হারিয়ে ফেলার ভয়-আশঙ্কা, দুঃখ-কষ্ট আমাদের খুব বেশি তাড়িত করবে না। ইসলাম আমাদের এসব প্রশ্নের উত্তর জানিয়ে দেয়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সব ধরনের সম্ভাব্য অশান্তি, অস্থিরতার উত্তর বলে দিয়েছেন কোরআনে। তিনি আমাদের সব ডাক শোনেন। আমাদের আহ্বানে সাড়া দেন। এমনকি বুকের ভেতরে যে চাওয়া, যে আর্তি গুমরে কেঁদে ওঠে নিঃশব্দে, তিনি সেটাও স্পষ্ট শোনেন, জানেন। আল্লাহ সবসময় আমাদের সঙ্গে আছেন। জীবনে আমাদের যা কিছু ঘটে, সবকিছুরই অর্থ রয়েছে। কিন্তু আল্লাহ পৃথিবীটাকে ‘সিস্টেমেটিক’ করে বানিয়েছেন। কষ্ট-প্রশান্তি, শক্তি-দুর্বলতা, সুস্থ-অসুস্থতা সবকিছুই আমাদের জীবনেরই অংশ এবং আল্লাহর নির্দেশেই এগুলো আসে। আল্লাহ খুব ভালো করে জানেন আমাদের অবস্থা। তাই কখনই আশা না হারিয়ে বরং ধৈর্যধারণ করা উচিত। নিশ্চয়ই কষ্টের পরেই স্বস্তি থাকে।

মুমিন বান্দার জীবনে যতক্ষণ ঈমান আছে বুকের ভেতর, তার সবকিছুই কল্যাণকর। এমনকি শরীরে কাঁটা ফুটলেও, রোগ হলেও, সম্পদ হারিয়ে গেলেও, হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনের শোকের মধ্যে কল্যাণ রয়েছে। আল্লাহ এসবের বিনিময়ে পুরস্কার দেবেন এবং তার পরিমাণও হবে অনেক বড়— যা আমাদের কল্পনার অতীত।

কোরআন যখন তেলাওয়াত করি, প্রতিটি আয়াত আমাকে প্রশান্তি দেয়। হূদয়ে দারুণ আশা জাগিয়ে তোলে। আবার এমন ভীত-সন্ত্রস্তও করে দেয়, যা আমাকে কল্যাণের পথে দৃঢ় করে। আহ, আমার রবের কালাম!

কালামুল্লাহ থেকে কিছু আয়াত উল্লেখ করছি, ‘হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হইও না, নিশ্চয় আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও করুণাময়।’ (সুরা জুমার: ৫৩)

আমরা অনেক সময় হতাশ হয়ে আল্লাহকে ভুলে যাই। ধারণা করি, আল্লাহ আমাকে মাফ করবে না। আমার দিকে তাকাবে না। কিন্তু না, আপনি যখনই, যে পরিস্থিতিতে অল্লাহকে ডাকবেন, আল্লাহ আপনার ডাকে সাড়া দেবেন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব।’ (সুরা মুমিনুন: ৬০)

আল্লাহ তাআলা বান্দার সবচেয়ে কাছে থাকেন। বান্দার হূদয়ের নিঃশ্বাসও শুনেন। আল্লাহ অপেক্ষা করেন, বান্দা তাকে কখন ডাকবে। তার কাছে প্রার্থনা করবে। আল্লাহ বান্দার ডাক শোনার জন্য অধীর থাকেন। কোরআনে আছে, ‘বস্তুত, আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে, আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নিই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই তারা যেন আমার হুকুম মান্য করে এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে। যাতে তারা সৎ পথে আসতে পারে।’ (সুরা বাকারা: ১৮৬)

তাই আল্লাহর ওপরে ভরসা করতে হবে। নিজেকে চিনতে ও জানতে হবে, নিজের পরিচয় ও জীবনের অর্থ বুঝতে হবে। নিশ্চিত থাকতে হবে দৃশ্য-অদৃশ্যের মালিকের পরিকল্পনার ব্যাপারে। আমরা খুব কমই জানি এই সৃষ্টিজগতের। আল্লাহ সবকিছু বানিয়েছেন এবং তিনিই সবকিছুর একচ্ছত্র অধিপতি এবং তার সৃষ্টির মধ্যে কোনো খুঁত নেই। তিনি পরম করুণাময়। আমাদের জন্য তিনি কখনই অকল্যাণকর কিছু করেন না, আমাদের জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে আমরা অনেক কিছুই বুঝি না। আল্লাহ বলেন, ‘কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি আছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই স্বস্তি আছে।’ (সুরা ইনশিরাহ: ৫-৬)

উক্ত আয়াতটিতে লক্ষ্য করুন, দয়াময় আল্লাহ কত দৃঢ়ভাবে তাকিদ দিয়ে একটি কথা দু’বার বলেছেন! তাই শান্ত হোন, ধৈর্যধারণ করে সময়টাকে শুধু পেরিয়ে যেতে দিন।

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ