ঢাকা, শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯, ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

প্রতিশ্রুতি পালন অপরিহার্য

প্রকাশনার সময়: ২৩ জুন ২০২২, ১২:০৯

মাটির এ নশ্বর পৃথিবীতে সূচনাকাল থেকে শুরু করে চলে আসছে দেয়া-নেয়ার প্রতিশ্রুতি। কাজকর্ম, চলাফেরা, কথাবার্তায় পরস্পরের মধ্যে ঘটিত হচ্ছে কমিটমেন্ট তথা ওয়াদা। ভবিষ্যতে কোনো জিনিস আদায় করা, নিজের পক্ষে মতামত নিয়ে আসা, কারো ভেতর থেকে সন্দেহের দাগ মুছে ফেলতে দেয়া হয় ওয়াদা। রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে একেবারে পারিবারিক জীবনযাপনে হিরিক পড়ে ওয়াদার অধ্যায়। প্রত্যেক মানুষ তার ওয়াদা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। তার ওয়াদার সঠিক জবাব না দিয়ে পরপারে কেউ মুক্তি পাবে না। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা কেন এমন কথা বলো! যা কাজে পরিণত করো না, এটা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত জঘন্য ও ঘৃণিত কাজ যে, তোমরা বলবে এমন কথা যা করবে না। ’ (সুরা সফ: ২-৩)

অন্য আয়াতে বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা নিজেদের সন্ধিচুক্তি পালন করো।’ (সুরা: সফ, আয়াত : ০১)

মানুষ তাদের কৃতকর্ম ও স্বার্থ উদ্ধারের জন্য নানারকম প্রতিশ্রুতি দেয়। এই প্রতিশ্রুতি দৃঢ় ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য মহান রবের নাম নিয়ে কসম করে। আর আল্লাহর নাম নিলে মানুষ বিশ্বাস করে যে, এই ওয়াদা অবশ্যই পালনীয়। কেননা এই ওয়াদায় রয়েছে প্রতিপালকের নাম। সুতরাং ওয়াদা পালনে আমাদের হতে হবে আপসহীন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যখন আল্লাহর নামে ওয়াদা করো, তা পূর্ণ কর।’ (সুরা নাহল: ৯১)

দুনিয়ায় আমরা যেমন মানুষের সঙ্গে বিভিন্ন সময় নানারকম বিষয়ে ওয়াদা করি, তেমনি আমরা রবের হুকুম পালনের ওয়াদা দিয়ে এসেছিলাম রুহের জগতে। সেখানে অগণিত সৃষ্টিকুল সাক্ষী রেখে ওয়াদা করেছিলাম ইসলামি জীবনযাপনের। খোদার প্রদত্ত আদেশ পালনের। আমাদের দেয়া ওয়াদা সম্পর্কে আমরা জিজ্ঞাসিত হবো আপন রবের দরবারে। সেদিন ধরা পড়ে গেলে আর রক্ষা নেই। তখন ভুল শুধরানোর কোনো সুযোগ নেই। জ্বলতে হবে জাহান্নামের অনলে। কোরআনে ঘোষিত হয়েছে, ‘তোমরা ওয়াদা-প্রতিশ্রুতি পালন কর। নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে (তোমাদের) জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ (সুরা বনি ইসরাঈল: ৩৪)

প্রতিশ্রুতি পালনে আছে সফলতা। প্রতিশ্রুতি পালনে রয়েছে প্রভুর সন্তুষ্টি। এবং জীবনের গলিতে পবিত্রতার ছাপ। প্রতিশ্রুতি পালন করা হলো মুমিনের নিদর্শন। যে প্রতিশ্রুতি পালন করে না সে মুনাফিক। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুনাফিকের আলামত তিনটি, এক. যখন কথা বলে মিথ্যা বলে। দুই. যখন ওয়াদা করে, তা ভঙ্গ করে। তিন. তার কাছে যখন আমানত রাখা হয় সে তার খিয়ানত করে।’ মুসলিমের বর্ণনায় এটুকু বেশি রয়েছে, যদিও সে রোজা রাখে, নামাজ পড়ে এবং মনে করে যে সে মুসলিম। (বুখারি: ৩৩)

আমাদের মানবতার নবী প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) ওয়াদার ব্যাপারে খুব সতর্ক ছিলেন। কারো সঙ্গে কোনো বিষয়ে ওয়াদা করলে তা পালনের জন্য অধীর থাকতেন। তেমনি ছিল তার হাতে গড়া সাহাবি কিরাম (রা.)। তারা প্রতিশ্রুতি পালনে ছিলেন আপসহীন। জাবির (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) আমাকে ডেকে বলেন, বাহরাইন থেকে সম্পদ এসে গেলে তোমাকে এ পরিমাণ দেব। বলা বাহুল্য, বাহরাইন থেকে সম্পদ আসার আগেই নবী (সা.)-এর ইন্তেকাল হয়ে যায় (এবং আবু বকর খলিফা নিযুক্ত হন)। এরই মধ্যে বাহরাইন থেকে সম্পদ এসে গেল। আবু বকর আহ্বানকারীকে নির্দেশ দিলেন।

আহ্বানকারীকে ডেকে বলেন, যার সঙ্গে রাসুল (সা.)-এর কোনো ওয়াদা রয়েছে সে যেন আমাদের কাছে এসে যায়। এ কথা শুনে আমি এলাম এবং আবু বকরের কাছে বললাম। নবী করিম (সা.) আমাকে এরূপ বলেছিলেন। আবু বকর আমাকে ভয়ে ভয়ে মেপে দিলেন (যেন প্রতিশ্রুতি পরিমাণের চেয়ে কম হয়ে না যায়)। আমি গুনে দেখলাম ৫০০ দিরহাম। আবু বকর (রা.) বলেন, ‘এর দ্বিগুণ নিয়ে যাও।’ (বুখারি ও মুসলিম)

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ