ঢাকা, শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি ২০২২, ৭ মাঘ ১৪২৮, ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

অন্যকে উপদেশ দেয়ার আগে...

প্রকাশনার সময়: ১৩ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৩১

এক ব্যক্তি হাসান বসরি (রহ.)-এর কাছে এসে বলল, মাননীয় ইমাম! আপনি খুতবায় গোলাম-বাদি আজাদ করার ব্যাপারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন না কেন?

হাসান বসরি (রহ.) বললেন : ইনশাআল্লাহ আগামীতে করব।

পরবর্তী জুমায় তিনি খুতবা দিলেন, কিন্তু উক্ত বিষয়ে কিছু না বলে অন্য বিষয়ে আলোচনা করলেন। দ্বিতীয় জুমায়ও তাই করলেন। তৃতীয় এবং চতুর্থ জুমায়ও তাই করলেন। পঞ্চম জুমায় তিনি গোলাম-বাদি মুক্ত করার ব্যাপারে আলোচনা করলেন।

এতে লোকটি অবাক হয়ে হাসান বসরি (রহ.) এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল— মাননীয় ইমাম! আমি আপনাকে চার জুমা পূর্বে এ বিষয়ে আলোকপাত করতে আবেদন করেছি অথচ আপনি চার জুমা পরে এসে এ ব্যাপারে আলোচনা করলেন? রহস্যটা কী?

হাসান বসরি (রহ.) বললেন: চার জুমা অবধি আমার কাছে উপযুক্ত টাকা-পয়সা ছিল না। যখন টাকা-পয়সা হলো বাজারে গিয়ে গোলাম-বাদি কিনে মুক্ত করেছি। তারপর এ বিষয়ে আলোকপাত করেছি। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছি। যাতে সেসব লোকদের অন্তর্ভুক্ত না হই, যারা মানুষকে উপদেশ দিয়ে বেড়ায় অথচ নিজেরা আমল করে না।

বলা হয়— পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ কাজ হলো অন্যকে উপদেশ দেয়া। আর সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো সেই উপদেশ নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা। আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাইলকে তাদের কথা ও কাজের অমিলের কারণে তিরস্কার করে বলেন; ‘তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও এবং নিজেরা নিজেদেরকে ভুলে যাও, অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর? তবুও কি তোমরা চিন্তা করো না?’ (সুরা বাকারা : ৪৪)

অন্য আয়াতে মুমিনদেরকে উপদেশ প্রদান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দিয়ে বলেন- ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা কেন এমন কথা বল, যা তোমরা নিজেরাই মেনে চল না? তোমরা যা কর না, তোমাদের তা বলা আল্লাহর কাছে অতিশয় অসন্তোষজনক।’ (সুরা সফ : ২-৩)

প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের চরিত্র এমন হওয়া চাই যে সে নিজে আমল করবে, অন্যকেও সেই আমলের ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করবে। এমনটা নয় যে সে নিজে আমল করলো, অন্যকে এ ব্যাপারে কোনোই উপদেশ প্রদান করলো না অথবা সে শুধু অপরকে উপদেশ দিয়ে বেড়ালো আর নিজ সেই আমলের ব্যাপারে থাকলো সম্পূর্ণ গাফিল।

নিজে আমল না করে অন্যকে যারা উপদেশ দিয়ে বেড়ায়— হাদিসে তাদের ব্যাপারে শাস্তির বাণী উচ্চারিত হয়েছে, উসামা বিন যায়েদ (রা.) বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কেয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে এনে দোজখে নিক্ষেপ করা হবে। এর ফলে তার নাড়ি-ভুঁড়ি বের হয়ে আসবে। সে এটা নিয়ে বারবার চক্কর দিতে থাকবে, যেভাবে গাধা চক্রের মধ্যে বারবার ঘুরতে থাকে।

দোজখিরা তার চারপাশে জড়ো হয়ে জিজ্ঞাসা করবে, হে (অমুক) লোক! তোমার এ অবস্থা কেন? তুমি কি লোকদেরকে সৎ কাজের আদেশ দিতে না এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকার কথা বলতে না?

জবাবে সে বলবে, ‘হ্যাঁ’ আমি সৎ কাজের আদেশ দিতাম কিন্তু আমি নিজে তা পালন করতাম না। আমি অন্যদেরকে খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে বলতাম কিন্তু আমি নিজে তা মানতাম না।’ (বুখারি : ৩২৬৭)

সুতরাং সর্বপ্রথম নিজের প্রতি নসিহত প্রদান করতে হবে। নিজের কর্মে সেই আমল-ইবাদত প্রস্ফুটিত করতে হবে। তারপর অন্যকে সেই আমলে, ইবাদাতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এতে আমাদের দাওয়াহ ও নসিহত খুব শীঘ্রই প্রতিফলিত হবে।

নয়া শতাব্দী/এম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়