ঢাকা | শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০ আশ্বিন ১৪২৮

উম্মতের জন্য মানবতার নবীর কান্না

আবু আফিফা

প্রকাশনার সময়

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৫২

জগতবাসীর জন্য আল্লাহ তাকে রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন। তাইতো আজীবন করেছেন, ভেবেছেন আর কেঁদেছেন মানুষের জন্য। আমাদের মতো পাপী উম্মতের জন্য। আজ আপনাদের কয়েকটি গল্প শোনাব তিনি আমাদের কত ভালোবাসতেন তা বোঝাতে।

ক. একদিন রাসুলকে (সা.) বেশ উৎফুল্ল দেখে আয়েশা (রা.) বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ, আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। রাসুল (সা.) দোয়া করলেন ‘হে আল্লাহ, আয়েশাকে মাফ করে দাও। তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দাও, তার আগামীর গুনাহ মাফ করে দাও, তার গোপনে করা গুনাহ মাফ করে দাও, তার প্রকাশ্যে করা গুনাহ মাফ করে দাও।’

রাসুল (সা.) এর দোয়া শুনে আয়েশা (রা.) হাসলেন। রাসুল (সা.) আয়েশা (রা.) কে জিজ্ঞেস করলেন, আমার এই দোয়া কি তোমাকে আনন্দিত করেছে?

আয়েশা (রা.) বললেন, কী করে এমন দোয়া কাউকে সন্তুষ্ট করতে না পারে! আমাদের প্রিয় নবী আয়েশা (রা.) কে বললেন, আল্লাহর কসম! আমি আমার উম্মতের জন্য আমার প্রতিটি নামাজে এই একই দোয়া করি!

এবার ভাবুন যে দোয়া রাসুল (সা.) আপন প্রিয়তমা স্ত্রীর জন্য করেছেন সেই একই দোয়া প্রতি নামাজে তিনি তার উম্মতের জন্য করেছেন, আপনার জন্য, আমার জন্য করেছেন। তিনি আমাদের প্রিয় রাসুল (সা.)।

খ. একদিন চলার পথে রাসুল (সা.) কেঁদে উঠলেন। সাহাবায়ে কেরাম কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমি আমার ভাইদের জন্য কাঁদছি। সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমরা কী আপনার ভাই নই? রাসুল (সা.) বললেন, তোমরা তো আমার সাথী। আমার ভাই হল তারা, যারা আমার পরে আসবে আর আমাকে না দেখেই আমার ওপর ঈমান আনবে।

রাসুল (সা.) আপনার জন্য কেঁদেছেন, আপনাকে মিস করেছেন, আপনি এই দুনিয়াতে আসার আগেই। আপনি কখনো প্রিয় নবীকে মিস করেছেন? কেঁদেছেন কখনো? যে নবী আপনার জন্য প্রতি ওয়াক্ত নামাজে দোয়া করতেন সেই নবীর নামে দরুদ পড়েছেন কোনোদিন? ভালোবেসে কোনোদিন তার একটা সুন্নাহ পালন করেছেন?

রাসুল (সা.) একটি গাছে হেলান দিয়ে খুতবা দিতেন, তখনো মিম্বার তৈরি হয়নি। পরের সপ্তাহে রাসুল (সা.) যখন মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন সাহাবারা বলেন, গাছের শিশুর মতো অঝোরে কান্না তারা শুনতে পেয়েছেন। একটি গাছও রাসুল (সা.) কে মিস করেছে, তার জন্য চোখের পানি ফেলেছে।

রাসুল (সা.) এর মৃত্যুর পর বিলাল (রা.) আর আজান দিতে পারেনি। এরপর একদিন বিলাল (রা.) মদিনা ছেড়েই চলে গিয়েছিলেন। একদিন তিনি রাসুল (সা.) কে স্বপ্নে দেখলেন। রাসুল (সা.) বিলালকে বলছেন, এতদিনেও কী তোমার সময় হয়নি আমার রওজায় আসার। ছয় বছর পর বিলাল (রা.) মদিনায় আসলে সবাই তাকে আজান দিতে অনুরোধ করল। কিন্তু তিনি মনস্থির করেছেন রাসুলের জন্য যে আজান দিতেন তা আর কোনদিন কারো জন্য দিবেন না। শেষে উমার (রা.) এর অনুরোধে বিলাল (রা.) আজান দেয়া শুরু করলেন।

সেই আজান, সেই মধুময় সময়, রাসুলুল্লাহর স্মৃতি সব একসাথে ভেসে আসা শুরু করল। কিছুক্ষণের জন্য মানুষ মনে করল, রাসুল (সা.) আবার ফিরে এসেছেন, মদিনার ঘর থেকে সবাই বেরিয়ে আসা শুরু করল, বিলাল (রা.) যখন আজানে আশ হাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহর জায়গায় এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন, পুরো মদিনা জুড়ে হু হু কান্নার শব্দ ছাড়া আর কিছু শোনা যায়নি...।

আপনি কী কখনো আজানের এই বাক্য শুনে কেঁদেছেন? কোনোদিন কী নাড়া দিয়েছে আপনাকে কালেমায় শাহাদাত? কিংবা আপনি কী কখনো নিজে আজান দিতে গিয়ে ওই বাক্যটি পড়ে কেঁদেছেন? এবার ভাবুন, আমরা আসলে আমাদের নবীকে সত্যিকার অর্থে কতটা ভালোবাসি? কিংবা কতটুকু অনুভব করি এই ভালোবাসা?

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x