ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০২৩, ১০ চৈত্র ১৪২৯, ১ রমজান ১৪৪৪

সন্তানকে যেভাবে শেখাবেন ভালো-মন্দের পার্থক্য

প্রকাশনার সময়: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:১৫ | আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:১৭

সন্তানদের উদ্দেশে লোকমান হাকিমের চতুর্থ নসিহত ছিল— মানুষদের ভালো কাজের আদেশ দাও। আর পঞ্চম নসিহত ছিল—মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখ। এ দুই নসিহত থেকে মানুষকে ভালো-মন্দ কাজে আদেশ-নিষেধ করার বিষয়টির গুরুত্বও অনুমেয়। ফলে মানুষকে ভালো কাজে আহ্বান করার জন্য সন্তানদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

অপরদিকে, আজকাল কেউ মন্দ কাজ করলে আমরা তাকে তা থেকে বিরত না রেখে বরং আরও এড়িয়ে যাই এবং অনেক ক্ষেত্রে তামাশা করি। এমনকি পিছনে গিয়ে আরও নিন্দা করা শুরু করি। এগুলো খুবই জঘন্য কাজ। এসব ব্যাপারে সন্তানদের বোঝাতে হবে যেন তারা কাউকে মন্দ কাজ করতে দেখলে তাদের এড়িয়ে না গিয়ে, তাদের প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ না করে বিনয়ের সঙ্গে বুঝিয়ে তা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে যায়। এসব বিষয় রীতিমতো ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।

সন্তানদের সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ সম্পর্কে এভাবে নসিহত করা যেতে পারে— আব্বু! তোমরা তোমাদের সহপাঠীদের নামাজ আদায় করার কথা বলে, সালাম আদান-প্রদানের কথা বলে, মা-বাবা তথা মানুষের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহারের কথা বলে, দান খয়রাতের কথা বলে ইত্যাদি ভালো কাজের পরামর্শ দিয়ে যেও। পক্ষান্তরে, বিভিন্ন খারাপ কাজ যেমন গীবত, হিংসা, অহংকার, মিথ্যা কথা বলা, চোগলখোরি করা, কারও সঙ্গে ঝগড়া করা, মানুষের হক নষ্ট করা ইত্যাদি বিষয়ে বিনয়ের সঙ্গে বুঝিয়ে তাদের মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে যেও-কেমন?

সন্তানকে ষষ্ঠ নসিহত যা করেছিলেন লোকমান হাকিম তা ছিল— ‘তোমার ওপর কোনো বিপদ-মসিবত এসে পড়লে তাতে ধৈর্য ধারণ কর; বিপদে ধৈর্য ধারণ করা নিশ্চয়ই একটি বড় সাহসিকতাপূর্ণ কাজ।’

সন্তানদের এভাবে নসিহত করা যেতে পারে— দেখ আমার কলিজার টুকরোরা! এই দুনিয়া হচ্ছে একটি পরীক্ষার ক্ষেত্র। তাই আমাদের এখানে প্রতিনিয়ত পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আর পরীক্ষায় সব সময় মনমতো প্রশ্ন কমন পড়ে না। কখনও কখনও কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। ফলে সেটার জন্যও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হয়।

মনে রাখবে, আল্লাহতায়ালা আমাদের বিভিন্ন সময় ভয়-ক্ষুধা, জানমাল, ফসলাদির ক্ষতি করে ইত্যাদি বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করবেন। এক্ষেত্রে আমাদের ধৈর্যহারা হয়ে গেলে চলবে না। পরীক্ষার হলে যেমন ধৈর্যসহকারে পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় তেমনি এই দুনিয়া নামক পরীক্ষার কেন্দ্রেও আমাদের ধৈর্যসহকারে পরীক্ষা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হবে। এখানে বিভিন্ন খেল-তামাশায় লিপ্ত থাকলে আমরা আখিরাতের কাঙ্ক্ষিত পুরস্কার পাওয়া থেকে বঞ্চিত থেকে যাব। আমাদের পরিণাম ভয়াবহ হবে।

তাদের এভাবেও বলা যেতে পারে— আব্বু! তোমরা কি আল্লাহর কাছে সাহসী হতে চাও? নিশ্চয়ই তারা হ্যাঁ সূচক বলবে। তখন বলবেন, যখন তোমরা কোনো বিপদে ধৈর্য ধারণ করবে, সবর করে আল্লাহর কাছে উত্তম বিনিময়ের আশায় থাকবে তখন বুঝবে আল্লাহর কাছে তোমরা অনেক সাহসের একটি কাজ করেছ। আর আল্লাহর কাছে সাহসী হওয়া অনেক বড় সম্মানের বিষয়। তোমরা মানুষের কাছে নয়, আল্লাহর কাছে সাহসী হওয়ার চেষ্টা করবে। এভাবে বললে দেখবেন তারা ধৈর্য ধারণের ব্যাপারে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হবে। তখন তারা ভাববে, আচ্ছা! ধৈর্য ধরতে পারা মানে আল্লাহর কাছে সাহসী হওয়া। আর আমি তো আল্লাহর কাছে সাহসী হতে চাই।

মোটকথা, সন্তানদের গুরুত্ব দিয়ে বিপদে ধৈর্য ধারণ করার শিক্ষা দেওয়া উচিত। কেননা তারা সামান্য বিপদে বা জীবন থেকে কিছু হারিয়ে গেলেই সহজে ভেঙে পড়ে, হতাশ হয়ে পড়ে। আত্মহত্যার মতো জঘন্য পাপে লিপ্ত হয়ে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। ফলে তাদের বুঝাতে হবে যেন তারা বিপদে ধৈর্যহারা হয়ে না যায়।

তারা যেন হাঁটতে-বসতে আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করে এবং বেশি বেশি দরুদ-ইস্তেগফার মুখে জারি রাখে। এগুলো অনেক শক্তিশালী আমল যা মনে প্রশান্তি এনে দেয়। মনের অশান্তি ও হতাশা দূর করে। আর তারা যেন সব সময় আল্লাহর ওপর ভরসা করে চলে। আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।’ (সুরা তালাক : ৩)

নয়া শতাব্দী/আরআর

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ