শনিবার, ০১ এপ্রিল ২০২৩, ১৮ চৈত্র ১৪২৯

ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ

প্রকাশনার সময়: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৬:৪৭

শামসুদ্দীন (৫৫); শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ীর বালুঘাটা গ্রামের বাসিন্দা। ২ ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান নিয়ে তার ৫ সদস্যের পরিবার। তাদের আয়ের একমাত্র উৎস ঘোড়া।

কারণ ওই ঘোড়া দিয়েই বছরের কিছু সময় ঘোড়ার গাড়িতে মালামাল আনা নেওয়ার কাজ করেন তিনি। আবার ইরি-বোরো ও আমন মৌসুমে চারা রোপণের আগে জমি সমান করার জন্য ঘোড়া দিয়ে মই দেন। আবার জমিও চাষ করেন ওই ঘোড়া দিয়েই। এতে দিনে ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয় তার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুধু শামসুদ্দীন নন, উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া, গোল্লারপাড় ও বালুঘাটা গ্রামের মানুষের আয়ের উৎস হিসেবে ঘোড়াকেই ব্যবহার করছেন। গ্রামাঞ্চলে গরু ও মহিষ দিয়ে হাল চাষ দেখা গেলেও ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ খুব একটা দেখা যায় না৷ তবে এবার ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ করেই সংসারের জীবিকা নির্বাহ করছেন ওই ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ।

শামছুদ্দীন বলেন, ঘোড়া যেনো আমার পরিবারেরই হাল বাইছে। ঘোড়া দিয়ে জমি মই দিলে একর প্রতি ৭০০-৮০০ টাকা পাই। আবার জমি চাষ দিয়ে কাঠা প্রতি (৫ শতাংশ) পাই ২০০ টাকা৷ প্রতিদিন এই ঘোড়া দিয়েই আমি এক হাজার টাকার মতো রোজগার করতে পারি। এতে ঘোড়ার যাবতীয় খরচ চালিয়ে অনায়াসে আমার সংসার চলে যায়৷

স্থানীয় কৃষক ও ঘোড়ার মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গরু ও মহিষ পালনের চেয়ে ঘোড়া পালনে খরচ অনেক কম হয়। আর ঘোড়ার রোগ-বালাই কম হয়৷ এছাড়াও ঘোড়া চুরি হওয়ার ভয় কম থাকায় অনেকেই ঘোড়া পালনে আগ্রহী হচ্ছেন।

অন্যদিকে, ঘোড়ার গাড়িতে মাল আনা-নেওয়ার পাশাপাশি ঘোড়া দিয়ে চাষাবাদের কাজ করে বাড়তি আয় করা যায়। দিনে ঘোড়া দিয়ে অনায়াসে ২-৩ একর জমি মই দেওয়া যায়। এছাড়াও জমিতে হাল চাষ করেও একর প্রতি ১৬০০ টাকা পাওয়া যায়। তাই দিন-দিন ঘোড়া দিয়ে হাল চাষে কৃষকদেরও আগ্রহ বাড়াচ্ছে।

ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করা আশরাফ আলী বলেন, ঘোড়ার দাম কম হওয়ায় ঘোড়া দিয়ে জমি চাষাবাদ করছেন অনেকে। তবে শুধু চাষাবাদ নয় মালামাল আনা নেওয়ার কাজেও ঘোড়া ব্যবহার করছি। ঘোড়া দিয়েই আমার সংসার চলে যাচ্ছে।

ঘোনাপাড়া গ্রামের ঘোড়ার মালিক দুদু মিয়া বলেন, ইরি-বোরো ও আমন মৌসুমে বাড়তি রোজগারের জন্য চাষাবাদের কাজ করি। দিনে ঘোড়া দিয়ে ২-৩ একর জমি মই দেওয়া যায়। আর প্রতি কাঠা ৪০-৫০ টাকা পাই। আর একর প্রতি পাই ৭০০-৮০০ টাকা। আর জমিতে হাল দিয়ে দিলে প্রতি কাঠা ২০০ টাকা পাওয়া যায়। এতে দিনে ১২০০-১৫০০ টাকা আয় হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর কবির জানান, এখন যান্ত্রিক উপায়েই জমি চাষ করেন কৃষকরা। তবে উপজেলার অনেকেই বাড়তি আয়ের জন্য ঘোড়া দিয়ে মই দেওয়া ও হালচাষ করছেন। এটি একটি অনন্য দৃষ্ঠান্ত।

নয়াশতাব্দী/জেডএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ