ঢাকা | বৃহস্পতিবার ৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৫ জিলহজ ১৪৪২

ইসলামে কেন ব্যাঙ হত্যা করা নিষেধ 

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশনার সময়: ১৩ জুলাই ২০২১, ১৬:১৪ | আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২১, ১৬:২৮

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রিয় বন্ধু, নবী ইব্রাহিম খলিলুল্লুাহকে নমরুদ আগুনে নিক্ষেপ করেছিল জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়ার জন্য। সেদিন আগুন নিভাতে ব্যাঙ সেই অগ্নিকাণ্ডের উপরে প্রস্রাব করে। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে ব্যাঙ এর প্রস্রাবে এত বড় অগ্নিকাণ্ডের কোন উপকার হয়ে যায়নি বা আগুন নিভেও যায়নি।

হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম ব্যাঙকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কেন এই কাজটি করেছিলে ?

উত্তরে ব্যাঙ বলে, আমার এই ক্ষুদ্র পানির ছিটায় আগুন যে নিববে না তা আমি জানি , আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে দেখাতে চাই, যে আমি নমরুদের পক্ষে নই, আমি এক এবং অদ্বিতীয় আল্লাহ ও তাঁর বন্ধু ইব্রাহিমের পক্ষে।

এজন্য পৃথিবীর একমাত্র প্রাণী ব্যাঙ, যার জলে বসবাসকারী প্রজাতির প্রস্রাবকে পাক বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এবং ইসলামে ব্যাঙ হত্যা করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এছাড়া ভূমিকম্পের পূর্বে কীভাবে মানুষকে সতর্ক করে ব্যাঙ? কেন লোকালয়ে আসা সাপের হাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে নিজের জীবন বিলিয়ে দেয় ব্যাঙ? কেন নবী ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের অগ্নিকুণ্ডে পানি নিক্ষেপ করেছিল ব্যাঙ? ইসলামে কেন ব্যাঙ হত্যা করা নিষেধ?

আজ এ বিষয়ে আপনাদের বিস্তারিত জানাবে নয়া শতাব্দী।

ব্যাঙ প্রকৃতির জন্য এমন এক উপকারি প্রাণী যা বর্তমান জ্ঞান বিজ্ঞান উন্নত হওয়ার পরে আমরা দিন দিন শুধু এর উপকারিতাই খুঁজে পাচ্ছি! এটি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি জমির উর্বরতা বাড়ায়।

ফসলের পোকামাকড় খেয়ে ফসলকে সুরক্ষিত করে। ব্যাঙ এর কল্যাণে জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক দিতে হয় না। এমনকি জমির উর্বরতাও নষ্ট হয় না। ব্যাঙ নানান আকৃতির এবং বিভিন্ন প্রকৃতির হয়ে থাকে।

ভূমিকম্পের পূর্বাভাস ব্যাঙ দিয়ে থাকে। ভূমিকম্পের কারণে প্রতি বছর শতশত মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী থেকে। ভূমিকম্পের ফলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলালের সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে ।

ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কোনো বিজ্ঞানী বা আবিষ্কৃত কোনো যন্ত্র না দিতে পারলেও কুনোব্যাঙ কিন্তু ঠিকই টের পেয়ে যায়। এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় শব্দ করে, কুনোব্যাঙ ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দিয়ে দেয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই জ্ঞান ব্যাঙকে দান করেছে।

শুধু তাই নয়, আমরা রাতের বেলায় রাস্তাঘাটে ব্যাঙ দেখলে হয় লাথি মারি, নয়তো পায়ের নিচে পিষে ফেলি। এটি একেবারেই উচিত নয়।

ব্যাঙ এমন এক স্থানে অবস্থান করে যে স্থান দিয়ে সাপ আসতে পারে। এবং সাপ যাতে মানুষের ক্ষতি করতে না পারে, এজন্য পাহারাদার হিসেবে ব্যাঙ দাঁড়িয়ে থাকে। যখনই মানুষের চলাফেরা কোন লোকালয়ের দিকে কোন বিষাক্ত সাপ আসতে নেয়, তখনই ব্যাঙ সেখানে এসে মানুষ এবং সাপের মধ্যখানে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কি অশেষ কুদরত, ব্যাঙ সে অবস্থানে দাঁড়ায় যে রাস্তা দিয়ে সাপ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এবং যখনই সাপ আসতে নেয়, তখনই সে তার শরীরকে ফুলিয়ে ফেলে। এর ফলে তার নিজের শরীর থেকে তিন-চারগুণ বড় আকৃতি ধারণ করে ব্যাঙটি। এবং তার শরীর থেকে এক ধরনের উৎকট রাসায়নিক পদার্থের দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। যার কারণে সাপ রাস্তা পরিবর্তন করে অন্য রাস্তায় চলে যায়। এবং মানুষ সাপের অনিষ্ট থেকে রক্ষা পায়।

কখনো কখনো ব্যাঙ নিজেই খাবার হয়ে মানুষকে সাপের ধ্বংসনের হাত থেকে রক্ষা করে।

নয়া শতাব্দী/জেআই/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এই পাতার আরও খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x