ঢাকা | সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৫ আশ্বিন ১৪২৮

বিয়ের জন্য যে পাত্র-পাত্রী নির্বাচন করবেন

শামসুর রহমান ওমর

প্রকাশনার সময়

০৮ আগস্ট ২০২১, ০৩:৫৫

বিয়ের আগে লোকে নারীর ‘রূপ’ আর পুরুষের ‘বিত্তের’ খোঁজ করলেও, বিয়ের পর ‘চিত্ত’টাই কাজে লাগে বেশি।

বিয়ের দিন সবাই আলোচনা করে, মেয়েটা দেখতে কেমন? ছেলেটা কিসে চাকরি করে, কত টাকা বেতন পায়? কিন্তু বিয়ের দু’ একদিন যেতে না যেতেই লোকে জানতে চায়, তারা (ছেলে/মেয়ে) মানুষ হিসেবে কেমন, আচার ব্যবহার সুন্দর কী না ইত্যাদি।

সাংসারিক জীবনে নারীর রূপ আর পুরুষের বিত্ত অর্থহীন, যদি দু’জনের মধ্যে মিলটাই না থাকে। দাম্পত্য জীবনের সবচেয়ে বড় অনুষঙ্গ হল, দু’জন মানুষের পারস্পরিক বোঝাপড়া। একজন অন্যজনকে যদি সম্মান দেয়, একে অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয়, তাহলেই সংসারটা সুন্দর হয়। কিন্তু, একে অন্যের বোঝাপড়ায় যদি সম্মান না থাকে, শ্রদ্ধা না থাকে, সহনশীলতা না থাকে, তখন এই ‘রূপ’ আর ‘বিত্ত’ কোনোই কাজে আসে না।

আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চমৎকার একটি হাদিস আছে। তিনি বলেছেন : ‘(সাধারণত) নারীদের চারটি গুণ দেখে বিয়ে করা হয়: তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার রূপ-সৌন্দর্য ও তার দ্বীনদারি। তবে তুমি দ্বীনদারিকে প্রাধান্য দেবে। নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ (সহিহ বুখারি)। এই হাদিসের মধ্যে একটা দারুন শিক্ষা রয়েছে। আল্লাহর রাসুল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরামর্শ দিয়েছেন, বিয়ের ক্ষেত্রে অন্য সব গুনের মধ্যে যেন দ্বীনদারিকে প্রাধান্য দেয়া হয়। নারী/পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য।

দ্বীনদারি বলতে কি বুঝায়? দ্বীনদারি বলতে কি শুধুই দাঁড়ি টুপি পাঞ্জাবী বোরকা লেবাস ইত্যাদি? না। এগুলো দ্বীনদারির বাহ্যিক আলামত। কিন্তু এগুলোই সব নয়। বরং

ক. দ্বীনদারির প্রথম দিক হল, সর্বাবস্থায় এক আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা। বিপদে আপদে, কঠিন সময়েও সবর করা। জীবনের শত অপ্রাপ্তির মাঝেও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা। কোনো মানুষের জীবনই নিখুঁত নয়। সব সংসারেই অপ্রাপ্তি, হতাশা আর আক্ষেপের গল্প থাকে। সংসার জীবনের নানা কঠিন মুহুর্তে ‘শোকর’ ‘সবর’ এর এই গুণ স্বামী স্ত্রীর পারস্পরিক বন্ধনকে মজবুত রাখতে সাহায্য করে।

খ. দ্বীনদারির অন্যতম দিক হল উত্তম আখলাক। অনেক (বাহ্যিক) দ্বীনদার ভাই/বোনেরা এর গুরুত্ব বুঝতেই চান না। তাদের লেবাস ভাল। সালাত সিয়াম ঈর্ষনীয়। কিন্তু মানুষের সাথে কটু ব্যবহার করেন। সুযোগ পেলেই দু’চারটা কড়া কড়া কথা শুনিয়ে দেন। কিন্তু যার আচরণ সুন্দর নয়, তার দাম্পত্য জীবনও মধুর হয় না। সংসার জীবন সুন্দর করতে উত্তম আখলাকের কোনো বিকল্প নেই।

গ. দ্বীনদারির আরো একটা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল, পর্দা। নারী ও পুরুষের মধ্যে যথাযথ পর্দা মানা না হলে সংসারে বিপর্যয় আসে, ভাঙন ধরে। কোনো বিবাহিত নারী/পুরুষ অন্য কোনো না-মুহরিম নারী/পুরুষের সাথে সরাসরি/মোবাইলে/চ্যাটিং এ বেশিদিন ভাবের আদান প্রদান করলে, নিজের রূপ সৌন্দর্য অন্যের সামনে আকর্ষনীয়ভাবে উপস্থাপন করলে, সংসারে জটিলতা তৈরি হয়। এতে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে। স্বামী স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্কে ফাটল ধরে। ফলশ্রুতিতে সংসার ভাঙে।

এসব কিছু বিবেচনায়, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিয়ের ক্ষেত্রে দ্বীনদারিতাকে প্রাধান্য দিতে বলেছেন। কিন্তু তার আমল আমাদের সমাজে দিন দিন কমে আসছে। ‘রূপ’ আর ‘বিত্ত’কে প্রাধান্য দিতে গিয়ে আমরা ‘চিত্তে’র সৌন্দর্য্যকে হারিয়ে ফেলেছি। তাই, সুন্দর দাম্পত্য জীবন গড়তে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই শিক্ষার অনুসরনের কোনো বিকল্প নেই।

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x