ঢাকা | সোমবার ২ আগস্ট ২০২১, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮, ২২ জিলহজ ১৪৪২

কেমন পশু কোরবানি দিবেন? কীভাবে জবাই করবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশনার সময়: ১৯ জুলাই ২০২১, ১৭:২২ |

মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তষ্টি অর্জনের জন্য পশু জবাই করাই কোরবানি। নবী হযরত ইব্রাহিম (আ:) এর সময় থেকে মূলত কোরবানির রীতি শুরু হয়। এরপর থেকে মুসলীম উম্মাহর সামর্থ্যবান নর-নারী আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জনের জন্য প্রতিবছর কোরবানি দিয়ে থাকে।

আজ কোরবানি ও কোরবানির পশু জবাইয়ের নিয়মাবলী তুলে ধরবো :

যে সকল পশু দিয়ে কোরবানি করা যাবে

ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, গরু, মহিষ ও উট এই ছয় ধরনের পশু দ্বারা কোরবানি দেওয়া যায়। এর বাইরে অন্য কোনো পশু দ্বারা কোরবানি দেওয়া যাবে না। ছাগল, ভেড়া, দুম্বার ক্ষেত্রে বয়স কমপক্ষে এক বছর হতে হবে। গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে বয়স কমপক্ষে দুই বছর এবং উটের বয়স কমপক্ষে পাঁচ বছর হতে হবে।

যেসকল পশু দ্বারা কোরবানি করা যাবে না

অন্ধ, যার অন্ধত্ব স্পষ্ট। এক চোক অথবা উভয় চোখে সমস্যা এমন পশু দ্বারা কোরবানি করা যাবে না। রোগাক্রান্ত পশু দ্বারা কোরবানি করা যাবে না। পঙ্গু পশু দিয়ে কোরবানি করলে কোরবানি হবে না। আহত, যার কোনো অঙ্গ ভেঙ্গে গেছে। নাসাঈর বর্ণনা ‘আহত’ শব্দের স্থলে ‘পাগল’ উল্লেখ আছে। সর্বোপরি কুরবানির পশু হৃষ্টপুষ্ট, অধিক গোশত সম্পন্ন, নিখুঁত, দেখতে সুন্দর হতে হবে।

কোন পশুতে কতজন শরিক হতে পারবেন

ছাগল, ভেড়া, দুম্বায় একজনের বেশি শরিক হয়ে কোরবানি করা যাবে না। এগুলো একটি একজনের নামেই কোরবানি দিতে হবে। গরু, মহিষ, উটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাতজন শরিক হতে পারবেন। তবে প্রত্যেকের ভাগ সমান হতে হবে।

পশু জবাই করার নিয়ম

নিজের কোরবানির পশু নিজেই জবাই করা সবচেয়ে উত্তম। রাসুল (সা.) নিজের পশু নিজে জবাই করতেন। তবে অন্য কাউকে দিয়ে জবাই করানোরও সুযোগ আছে। একটি পশুতে কতজন শরিক সেটা জবাইয়ের আগেই নির্ধারণ করতে হবে।

জবাইয়ের সময় পশুর মাথা দক্ষিণ দিকে এবং পা পশ্চিম দিকে রেখে অর্থাৎ কেবলামুখী করে শোয়ায়ে পূর্ব দিক থেকে চেপে ধরতে হবে। তারপর ছুরি চালাতে হবে।

জবাইয়ের ছুরি যেন খুব ধারালো হয়, পশুর যেন কষ্ট কম হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আর কোরবানি করার সময় খেয়াল রাখতে হবে সীনার উপরিভাগ এবং কণ্ঠনালীর মাঝামাঝি স্থানে যেন জবাই করা হয়।

কোরবানির গোশত

কোরবানির গোশত তিন ভাগে ভাগ করতে হবে। এক ভাগ নিজের জন্য, এক ভাগ গরিবদের জন্য, আর এক ভাগ আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের জন্য।

পশুর চামড়া

কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবহারের উপযুক্ত করে কোরবানিদাতা নিজেও ব্যবহার করতে পারবে। তবে বিক্রি করলে পুরো মূল্য সদকা করা জরুরি। সদকার ক্ষেত্রে গরিব আত্মীয়-স্বজনকে প্রাধান্য দিতে হবে।

জবাইকারী ও কসাইয়ের পারিশ্রমিক

কোরবানির পশু জবাইকারী ও কসাইয়ের পারিশ্রমিক আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হবে। কোনোক্রমেই তা কোরবানির চামড়া বা গোশত দিয়ে পরিশোধ করা যাবে না। অনেকে জবাইকারীকে চামড়াটি দিয়ে দেন এবং যারা কসাইয়ের কাজ করে তাদের গোশত দিয়ে দেন। এতে কোরবানি ত্রুটিপূর্ণ থেকে যায়।

সামান্য কিছু অর্থের জন্য কোরবানি নষ্ট করা ঠিক নয়। তবে জবাইকারী ও কসাইকে ন্যায্য পারিশ্রমিক পরিশোধ করার পর উপহার হিসেবে গোশত, চামড়া দেয়া যেতে পারে। গরিব হলে চামড়া বিক্রির টাকা দান করা যেতে পারে।

নয়া শতাব্দী/জেআই/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এই পাতার আরও খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x