ঢাকা | সোমবার ২ আগস্ট ২০২১, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮, ২২ জিলহজ ১৪৪২

বাহারি ওড়না

অনামিকা রহমান

প্রকাশনার সময়: ১৫ জুলাই ২০২১, ০০:০০ | আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২১, ০৫:৩২

ফ্যাশনেবল ওড়না : ফ্যাশন-সচেতন মানুষের রুচিবোধই আলাদা হয়। তাদের ফ্যাশনের ধরনটাই অন্যরকম। একটু এদিক-ওদিক করে নিলেই তৈরি হয়ে যায় নতুন স্টাইল। এতদিন কামিজ ও সালোয়ারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হতো পুরো ড্রেসটি। হাল ফ্যাশনে নতুনত্ব আনতে এখন উল্টো কাজটি করা হচ্ছে। ফ্যাশন ডিজাইনারের মতে, ‘ওড়নাটি হাইলাইট করে সালোয়ার-কামিজ তৈরি করা যায়। যে কোনো মেয়েকেই এ স্টাইলে স্মার্ট লাগবে। এখানে রং মিলিয়ে পরার বিষয়টি নিয়েও ভাবতে হয় না। মানাবে কি মানাবে না, সেটি নিয়েও চিন্তা করতে হয় না।’

হরেকরকম ওড়না : শুধু ওড়না কিনতে পাওয়া যায় অনেক দোকানে। সুতি থেকে শুরু করে সিল্ক সব কাপড়ের ওড়নাই পাওয়া যায়। সেগুলোতে কখনো ব্লকপ্রিন্ট, টাইডাই, বাটিকের বিভিন্ন রঙের খেলা, ভেজিটেবল ডাই, স্ক্রিনপ্রিন্ট, হ্যান্ডপেইন্টের কাজ করা হচ্ছে চমৎকারভাবে। পাশাপাশি ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে গ্রামবাংলার কাঁথাস্টিচের কাজও। জামদানি, মসলিনের ওড়নায় ভারী কাজ, অ্যান্ডি-সিল্ক মিশ্রিত, অ্যান্ডি-খাদি বা সুতি মিশ্রিত ওড়নাও চলছে পুরোদমে। স্টাইলিশ এসব ওড়না একরঙা কামিজ-সালোয়ার অথবা হালকা কাজের কামিজের সঙ্গে ভালো মানায়।

তবে কিছু কিছু ওড়নার উপকরণ ঘরের আলমারিতেই পড়ে থাকে বছরের পর বছর। যেমন দাদি-নানির পুরনো কাতান শাড়ি অথবা মায়ের বেনারসি শাড়িটি। অনেক দিনের পুরনো শাড়িটি কোথাও কোথাও হয়তো ফেসে গেছে। নষ্ট হয়ে যাওয়া জায়গাগুলো বাদ দিয়ে সহজেই তৈরি করে ফেলা যায় অনন্য একটি ওড়না। জমকালো দাওয়াতে আপনার ওড়নাটিই সবার নজর কাড়বে। বিয়ের শাড়ির সঙ্গে পরা জমকালো ওড়নাটিও আবার নতুনভাবে ব্যবহার করতে পারেন। এর সঙ্গে বানিয়ে নিতে পারেন নতুন এক সেট সালোয়ার-কামিজ।

লেইস-বাহার : স্টাইল যখন ওড়নাকে ঘিরে তখন সেটা তো একটু নজরকাড়া হতেই হবে। ওড়নাটি আরেকটু সুন্দর করতে চাইলে লাগাতে পারেন পছন্দসই লেস বা পাড়। তবে ওড়নায় কাজ কেমন হবে, সে ধারণা পাওয়া যাবে ওড়নাটি থেকেই। ফ্যাশন ডিজাইনারদের মতে টাইডাই, ভেজিটেবল ডাই অথবা সুতির ওড়নাগুলোতে সুতির লেস লাগানো ভালো। ক্রুশকাঁটার লেইসও দেখতে ভালো লাগবে। অর্থাৎ হালকা কাজের পাড়গুলো সুতি, তাঁত, খাদির তৈরি ওড়নার শোভা বাড়াবে। ভারী কাজ করা পাড়গুলো থাকুক মসলিন, অ্যান্ডি-সিল্ক অথবা সিল্কের ওড়নার জন্য।

ওড়না অনুযায়ী সালোয়ার-কামিজ : ওড়নার কাপড় কেমন, তার ওপর নির্ভর করবে আপনার সালোয়ার-কামিজের কাপড়। দোয়েল সিল্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিএম আলমগীর জানান, দামি ও ভারী কাপড়ের ওড়নার সঙ্গে সালোয়ার-কামিজের কাপড়ও হতে হবে মানানসই। অ্যান্ডি-সিল্ক, ডুপিয়ান, অ্যান্ডি-সুতি, মসলিন, শিফনের ওড়নার সঙ্গে সুপার বলাকা, সিল্ক, অ্যান্ডি-সিল্ক অথবা মসলিনের কাপড়ের কামিজ ভালো মানাবে। অন্যদিকে সুতির ওড়না, শিফনের ওড়নার সঙ্গে সুতির কামিজই ভালো মিলবে। তবে ওড়নায় যে সুতার কাপড় বেশি থাকে, কামিজটি ওই কাপড়ের হলেই দেখতে ভালো লাগে।

মিলিয়ে বা না মিলিয়ে : টাইডাই, ভেজিটেবল ডাই, স্ক্রিনপ্রিন্টের কাজ করা ওড়নাগুলোর সুবিধা আছে কিছু। কামিজের সঙ্গে মিলিয়ে বা না মিলিয়েও পরা যায়। নীল ও সবুজ ওড়না যেমন সাদা বা হলুদরঙা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে মানাবে, তেমনি এটি নীলরঙের কামিজের সঙ্গেও বেশ মানাবে। তবে ওড়না যখন স্টাইল স্টেটমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হবে, তখন কামিজের কাজ হতে হবে একেবারেই হালকা।

শারীরিক গঠন অনুযায়ী ওড়না : যাদের শারীরিক কাঠামো একটু ভারীর দিকে, তাদের নরম কাপড়ের তৈরি ওড়না বা সিল্ক পরলে ভালো দেখাবে। অন্যদিকে যারা একটু শুকনা, তারা চওড়া ওড়না ব্যবহার করতে পারেন।

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এই পাতার আরও খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x