ঢাকা | সোমবার ২ আগস্ট ২০২১, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮, ২২ জিলহজ ১৪৪২

মেহেদি রাঙা হাত

তনিমা রহমান

প্রকাশনার সময়: ১৫ জুলাই ২০২১, ০০:০০ | আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২১, ০৩:৫৯

ঈদ মানেই মেহেদি রাঙা হাত! মেহেদি ছাড়া ঈদের আনন্দ পরিপূর্ণতা পায় না। হাতে মেহেদির নকশা ছাড়া উৎসবের আনন্দ-উচ্ছ্বাস যেন ম্লান হয়ে যায়। ছোট-বড় সবাই ঈদের আগের রাতে মেহেদি দিয়ে নানারকম নকশায় হাত দুটি সাজিয়ে তুলেন। ঈদ এলেই হাত রাঙানো চাই মেহেদিতে।

বেশ কয়েক বছর আগেও উৎসবের আগের দিন বাড়ির তরুণীরা মেহেদি পাতা পাটায় বেটে হাতে লাগাত। সেই পাটায় বাটা মেহেদি দিয়ে হাতের মাঝখানে গোল নকশা অথবা পাতার নকশা করে মেহেদি পরার প্রচলন ছিল। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে মেহেদি দেয়ার নকশায়ও পরিবর্তন এসেছে।

সময়ের সঙ্গে সব কিছুতে লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। এখন বাজারে পাওয়া যায় নানারকম নকশা সমৃদ্ধ টিউব মেহেদি। তাই সবাই হাতে মেহেদি লাগায় বাহারি সব নকশা দিয়ে। এগুলো দিয়ে আপনি খুব সহজেই মনের মতো করে ডিজাইন করতে পারেন। টিউবজাত মেহেদি সাধারণত তৈরি হয় কাঁচা মেহেদি পাতা ও বিভিন্ন হারবাল উপাদানের সংমিশ্রণে। তাই খুব সহজেই এ মেহেদিতে হাত রঙিন করা যায়।

ঈদের মাত্র কয়েক দিন বাকি। ক্ষুদ্র ভাইরাস করোনার প্রভাবে অতিমারীর কারণে লকডাউন চলছিল। ইদ সামনে রেখে আজই তা শিথিল করা হলো। স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিয়ম মেনে ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে সবাই নিজের সাধ্যমতো কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়বে। ঈদের নতুন পোশাক আর পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে অনুষঙ্গ। সবশেষে কেনাকাটার তালিকা থেকে মেহেদি কিছুতেই বাদ পড়ে না। ঈদের সাজে নতুন প্রাণ আনে মেহেদি। ঈদের আগের দিন তরুণীরা চাঁদ দেখার পর সবাই প্রস্তুতি নেয় হাতে মেহেদি দেয়ার। ঈদের সকালে মেহেদির সদ্য রঙে সাজানো হাত দেখলে পরিবেশটাই বদলে যায়। তাই তো মেহেদি রাঙা হাত ছাড়া ঈদ যেন ভাবাই যায় না।

সাধারণত বাড়ির এক সদস্য যিনি নকশা আঁকতে পারদর্শী, তিনিই অন্য সদস্যের হাতে মেহেদি লাগিয়ে দেয়। মেহেদি লাগাতে গিয়ে কখন যে রাত শেষ হয়ে যায়, বোঝাই যায় না। গৃহবধূরাও মেহেদি লাগায় নিজেদের হাতে। এই মেহেদি উৎসবের আনন্দ থেকে বাদ যায় না ছেলেরাও। তারাও হাতে মেহেদি লাগায়।

মেহেদির প্রতিটি টিউবের সঙ্গে ডিজাইন ক্যাটালগ দেয়া থাকে। কেউ চাইলে ক্যাটালগ দেখে নিজে নিজেই মেহেদি দিতে পারেন। এখন ফেসবুকে নানা পেজের মাধ্যমেও মেহেদি লাগাচ্ছেন অনেকে।

সাজের ক্ষেত্রে মেহেদির নকশারও যেন শেষ নেই। কখনোবা ফুলের নকশা আবার কখনোবা পেখম তোলা। তবে নকশা যত সূক্ষ্ম আর চিকন হবে মেহেদির নকশাও তত ভালো বোঝা যাবে এবং দেখতে তত বেশি ভালো লাগবে।

মেহেদী পরার ক্ষেত্রে কেউ কেউ কনুই পর্যন্ত মেহেদি লাগাতে পছন্দ করেন। তবে জমকালো ডিজাইনের চেয়ে হালকা ও সহজ ডিজাইনে এখনকার তরুণীদের আকর্ষণ বেশি।

দোকানিদের বলেন, টিউবের কল্যাণে মেহেদি এখন সহজলভ্য হয়েছে। এ কারণেই মেহেদির চাহিদা বেড়েছে বহুগুণে। হাত রাঙানোর জন্য মেহেদি পাতা বেটে কাঠি দিয়ে নকশা করার রেওয়াজ এখন আর নেই। সবাই টিউব মেহেদি দিতেই অভ্যস্ত।

সতর্কতা : মেহেদি কেনার বা পরার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। যেমন, বাজারে এখন অনেক ধরনের আকর্ষণীয় গোল্ড মেহেদি পাওয়া যাচ্ছে। যেগুলো হাতে লাগালে পাঁচ মিনিটেই রং হয়ে যায়। এ ধরনের মেহেদি হাতের ক্ষতি করতে পারে। এসব মেহেদির রংও স্থায়ী হয় না। তাই বিজ্ঞাপন দেখে এ ধরনের মেহেদি না কেনাই ভালো। মেহেদি কেনার সময় ভালোভাবে মেয়াদ উত্তীর্ণ দেখে নেবেন।

হাতে মেহেদি লাগানোর আগে ভালোভাবে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে নেবেন। হাতের মেহেদি শুকিয়ে গেলে শুকনো মেহেদি তুলে হাতে ভালোভাবে তেল লাগাবেন। এতে মেহেদির রং গাঢ় হবে। এ ছাড়া শিশুদের কোমল হাতে মেহেদি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। তাই বড়দের উচিত ছোটদের যতটা সম্ভব কেমিক্যালমুক্ত মেহেদি হাতে দিয়ে দিতে। কারণ, শিশুর ত্বক কোমল ও নাজুক। কেমিক্যালযুক্ত মেহেদি শিশুর ত্বকের জন্য সহায়ক নয়, চর্মরোগ বা অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

কোথায় পাবেন : ঢাকার নিউমার্কেটের চাঁদনি চক, পুরান ঢাকার চকবাজার, যমুনা ফিউচার পার্ক, এলিফ্যান্ট রোডের বিয়ের সামগ্রীর দোকানগুলোয় ভালোমানের মেহেদি পাওয়া যায়। এছাড়া প্রায় সব মার্কেটে ও কসমেটিকের দোকানেই মেহেদি পাওয়া যায়। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মেহেদি পাওয়া যায় ৪০ টাকা থেকে শুরু করে আকারভেদে মেহেদির দাম পড়বে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা।

নয়া শতাব্দী /এসইউ

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এই পাতার আরও খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x