ঢাকা | শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৭ কার্তিক ১৪২৮

যত্নে থাক রসুইঘর

প্রকাশনার সময়: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৩৯

সকালে ঘুম থেকে চোখ খুলেই নাস্তার চিন্তা। উঠেই চায়ের তোড়জোড়। তারপর শুরু হয় একের পর এক খাবার তৈরির পালা। দুপুরের খাবার। বিকেল হতে না হতেই আবার নাস্তা তৈরির ব্যস্ততা। আর রাতের খাবারের প্রস্তুতি। এভাবে দিনের বেশিরভাগ সময়টা গৃহিণীর রান্নাঘরেই কেটে যায়। একটি বাড়ির যে অংশ এতটা গুরুত্বপূর্ণ তা কি আর অবহেলায় ফেলে রাখা যায়। আগেকার দিনে গৃহিণীরা রান্নাঘর নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতো না। যদিও রান্নাঘরের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সব সময় একইরকম। তবে সৌন্দর্যবর্ধনে বর্তমানে এ চিত্রটা পাল্টে গেছে। এখন সবাই অনেক বাস্তবিক।

তাই রান্নাঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার সঙ্গে সঙ্গে সুন্দর, পরিপাটি রাখার ওপরও নজর দেয়া হয়।রান্নাঘর নিয়ে গৃহিণীদের চিন্তার অন্ত নেই। সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে রাতের খাবার পর্যন্ত সময় রান্নাঘরেই কাটাতে হয়। তাই রসুইঘর মানে রান্নাঘরের সব ঠিক রাখার জন্য যথেষ্ট তদারকি প্রয়োজন। রান্নাঘরের তেল-মসলা, নানারকমের ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেটেস, বাসনপত্র, খাবার-দাবার সামলে পরিচ্ছন্ন রাখাটা সহজ ব্যাপার না। পুরো ব্যাপারটাই বেশ পরিশ্রমসাধ্য।

তবে শুরু থেকে রান্নাঘরের প্রতিটি কাজ পরিকল্পনা মাফিক করে নিলে তেমন অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় না। সব কাজ করা সহজ হয়। রসুইঘর সুন্দরতর রাখার কৌশল ও যত্ন-আত্মি নিয়ে এবার কিছু পরামর্শ জেনে নেয়া যাক। লিখেছেন তনিমা রহমান জায়গার সঠিক ব্যবহার

রান্নার সময় সহজেই হাতের কাছে প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়ার জন্য নিজের সুবিধামতো জিনিসপত্র গুছিয়ে নিতে হবে। রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিন্যস্ত খুবই জরুরি। এ জন্য সুবিধামতো ছোটখাটো কিছু অদল-বদল করে নিতে পারেন। এতে রান্নাঘরের রকমারি জিনিসপত্র ব্যবহারে সুবিধা হবে এবং মেইনটেন করা খুব সহজ হবে।

ক্যাবিনেট

* ক্যাবিনেটগুলো পছন্দমতো একেকটা বাসনের মাপ অনুযায়ী একেকরকম সাইজে বানিয়ে নিন। যেমন বোল বা প্যানগুলোর জন্য নির্দিষ্ট ক্যাবিনেটের চেয়ে আরেকটু লম্বা হবে ট্রে রাখার ক্যাবিনেট। প্রতিটি ক্যাবিনেটের দরজার ভেতরের দিকে নানা মাপের খুন্তা, হাতা, বড় চামচ ইত্যাদি ঝুলিয়ে রাখার আংটা রাখুন।

* রান্নাঘরের মধ্যে পুল আউট টেবিল বানিয়ে নিন। ইচ্ছামতো সেটা তুলে বোল্ট আটকে দিয়ে গ্যাপটা ভরাট করে নিলেই চলবে। এবার ওই টেবিলের ওপর রেখে প্রয়োজনীয় কাটা-বাছা, রুটি বেলা সব কাজ করা যেতে পারে।

* জায়গাজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু কিছু কিচেন ফার্নিচার বাতিল করে ফাঁকা ওয়ালস্পেসে কিছু হ্যাঙ্গিং ক্যাবিনেট ও শেলফ বানিয়ে নিন। এতে করে দেখতেও সুন্দর লাগবে, আবার চলাফেরার জন্য জায়গাও বাড়বে।

বাসনপত্র

*প্রতিটি ছোটখাটো বাসনও নির্দিষ্ট ক্যাবিনেটে রাখার ব্যবস্থা করুন।

*প্রতিদিন ব্যবহারের যেসব বাসন, যেমন লাঞ্চ বা ডিনারের সেট, গ্লাস ও কাপ, চায়ের কাপ-পিরিচ, ছুরি, চামচ, এগুলো খাবার ঘরের সাইড-বোর্ডে রাখার ব্যবস্থা করুন। তাহলে রান্নাঘরে অন্য জিনিস স্টোরেজের জায়গা বের হবে।

* বাসনপত্র ধোয়ার পর, ভালো করে মুছে তারপর তুলে রাখুন। বাসন মোছার জন্য সবসময় পেপার টাওয়েল ব্যবহার করুন।

সিঙ্ক ও গ্যাসের চুলা

* যদি সম্ভব হয় গ্যাস স্টোভের সামনের দেয়ালে জানালার মতো চারকোনা খোপ কেটে নিতে পারেন। আবার এই খোপের তলার অংশটি তাকের মতো ব্যবহার করে রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাখতে পারেন। তাহলে রান্নার সময় এ কেবিনেট থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বের করে হাতের কাছে নিতে পারবেন।

* সিঙ্কের নিচের ফাঁকা জায়গায় শেলফ বানিয়ে নিন। সেখানে বাসন ধোয়ার সাবান, স্ক্র্যাবার, বাসুন মোছার ন্যাপকিনস গুছিয়ে রাখুন।

* রান্নাঘরে অবশ্যই নোংরা ময়লা ফেলার একটি ঢাকনা দেয়া বালতি রাখবেন।

কিচেন গ্যাজেটসের ব্যবহার

রান্নাঘরের গ্যাজেটপত্তর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি এগুলোর হ্যান্ডেলিংটাও একটা জরুরি ব্যাপার। চটপট রান্নার পাট চুকিয়ে ফেলার জন্য হাতের কাছে রাখুন কয়েকটি স্মার্ট অপশন।

ইলেকট্রিক চিমনি

*নতুন সিস্টেমে কার্বন ফিল্টারে দূষিত ধোঁয়াটা পিউরিফাই হয়ে বেরিয়ে যায়। এর জন্য আলাদা নলের দরকার হয় না।

* বেশি ভাজাভুজি বা ঝাল মসলার রান্না হলে তেল, গ্যাস শুষে নেয়ার জন্য মোটরের ক্যাপাসিটি কত জেনে নিন। চিমনির এয়ার সাকশন ক্যাপাসিটি কত সেটাও মনে রাখুন।

নিরাপদ থাকার জন্য

সারাদিন বেশ কিছুটা সময় আমাদের রান্নাঘরেই কাটাতে হয়। রান্নাঘরে নিরাপদ থাকার জন্য কতগুলো জরুরি কথা অবশ্যই মেনে চলা দরকার।

পোশাক

*সিন্থেটিক মেটিরিয়ালের তৈরি জামাকাপড় পরবেন না। সুতির কাপড় পরুন। ঝোলা লম্বা হাতার পোশাক বা এলোমেলো কাটের পোশাক পরবেন না। ঢাকা জুতা পরে রান্নাঘরে কাজ করার চেষ্টা করুন।

পরিচ্ছন্নতা

*মেঝে কখনই অপরিষ্কার রাখবেন না, বিশেষ করে তরকারির খোসা, পানি, তরকারির ঝোল পড়ে থাকলে বাচ্চারা পড়ে যেতে পারে। হাতের কাছে মোছার জন্য কাপড়, ডাস্টার, কাপড়ের টুকরো বা ছোট তোয়ালে রাখুন।

পানি পড়লে ভালো করে মুছে ফেলতে হবে। এতে ঘর পরিষ্কারই হলো না, পা পিছলে পড়ে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকল না।

* রান্না শেষে চুলা, বেসিন, সিঙ্ক ও রান্নাঘরের মেঝে সুন্দর করে পরিষ্কার করুন।

গ্যাজেটস

* মিক্সিতে পেস্ট করার পর পুরোটা বের করতে না পারলে চামচ ব্যবহার করুন। কখনই হাত ঢুকিয়ে দিয়ে বাকি জিনিস বের করতে যাবেন না। হাত কেটে যেতে পারে। গ্যাজেটসের প্লাগ কখনোই পানির কাছে রাখবেন না। পেপার টাওয়েলের মতো কোনো দাহ্য বস্তু বার্নারের কাছে রাখবেন না। কিছুদিন পর পর গ্যাসের পাইপ পরীক্ষা করুন। কোনো লিকেজ থাকলে বদলে ফেলুন। গ্যাসের পাইপের ওপরে গরম খাবার ফেলবেন না।

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন