ঢাকা | শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২ আশ্বিন ১৪২৮

ঝাল মিষ্টির স্বাদে চিঁড়া

শতাব্দী ডেস্ক

প্রকাশনার সময়

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:২০

সহজপাচ্য খাবার হিসেবে চিঁড়ার আলাদা কদর রয়েছে। চিঁড়া দিয়ে অনেক মজার মজার খাবার তৈরি করা যায়। যা স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী। তাই চিঁড়া দিয়েই যদি তৈরি করা যায় ভারি আর মুখরোচক খাবার, তবে কেমন হয়! ভোজনের আয়োজন এবার সাজানো হয়েছে চিঁড়ার তৈরি ঝাল মিষ্টি খাবারের রেসিপি দিয়ে।ছবি ও রেসিপি দিয়েছেন - মনিরা বেগম

চিঁড়ার পোলাও

উপকরণ : চিঁড়া দেড় কাপ, চিকেন ব্রেস্ট ১টি (জুলিয়ান কাট বা ছোট কুচি), ফেটানো ডিম ২টি (ঝুরি করে ভেজে নিতে হবে একটু লবণ দিয়ে), গাজর কুচি ১-২ কাপ, ক্যাপসিকাম কুচি ১টি (সবজি সব একইরকম কাটতে হবে), কাঁচামরিচ কুচি ৩-৪টি (কাঁচা-পাকা), ধনেপাতা কুচি পরিমাণ মতো, লবণ স্বাদমতো, চিনি আধ চা চামচ, মিক্সড মসলা গুঁড়া ১-২ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১-২ চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি বড় ১টি, আদা-রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ।

প্রস্তুত প্রণালি: প্রথমে চিঁড়া স্টেইনারে বা ঝাঁঝরিতে নিয়ে পানিতে হালকাভাবে ধুয়ে নিন। পানি ঝরিয়ে একদম ঝরঝরা করে নিতে হবে। এরপর চিকেন কিউব বা জুলিয়ান শেইপ করে কেটে নিয়ে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। গাজর, ক্যাপসিকাম, কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ ও ধনেপাতা কুচি করে একটি প্লেটে আলাদা আলাদা করে রাখুন। এবার একটি ছড়ানো কড়াইতে এক টেবিল চামচ তেল গরম করে ফেটানো ডিম দিয়ে ঝুরি করে তুলে রাখুন। কড়াইতে আরো ২ টেবিল চামচ তেল গরম করুন। তাতে পেঁয়াজ কুচি দিন, নেড়ে আদা-রসুন বাটা দিন।

এরপর গুঁড়া মসলা দিয়ে নেড়ে নেড়ে কয়েক সেকেন্ড পর চিকেন দিয়ে ৩-৪ মিনিট নেড়ে নেড়ে ভাজুন। চুলার আঁচ মিডিয়াম করে রেখে রাখতে হবে। এবার সবজি ও লবণ দিয়ে নেড়ে ভাজুন। কাঁচামরিচ কুচি দিন। হাফ কাপ মতো গরম পানি দিয়ে নেড়ে নেড়ে ৬-৭ মিনিট ভাজতে হবে। এবার চিঁড়া দিয়ে হালকাভাবে নেড়ে মেশাতে হবে সবকিছু। এবার ডিমের ঝুরি মেশান। চিনি ও ধনেপাতা কুচি দিয়ে নেড়ে ঢেকে পাঁচ মিনিটের মতো দমে রেখে দিন। মাঝে মাঝে নেড়ে দিতে হবে। এবার নামিয়ে পছন্দমতো সাজিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন মজাদার চিঁড়ার পোলাও।

ডিম-চিঁড়ার জর্দা

উপকরণ : ডিম ৩টি (ফেটানো), চিঁড়া ১-২ কাপ (সঙ্গে বিস্কুটের গুঁড়া দিতে পারেন), চিনি ৬ টেবিল চামচ (মিষ্টি নিজের মতো করে দেবেন), দারচিনি ২ টুকরো, এলাচ ২টি, ঘন দুধ ১ কাপ, এগ ইউলো কালার সামান্য (দুধের সঙ্গে মেশাতে হবে), কিশমিশ ১ টেবিল চামচ (পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে), বাদাম (আলমন্ড) কুচি ১ টেবিল চামচ, দেশি ঘি ১-২ কাপ (তেলও দিতে পারেন)।

প্রস্তুত প্রণালি: প্রথমে চিঁড়া হালকা করে ধুয়ে একটু লবণ দিয়ে ১০ মিনিট অল্প পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর ছাকনিতে ঢেলে একদম পানি ঝরিয়ে নিন। একটি বাটিতে ডিম, চিনি ও দুধ নিয়ে কাঁটা চামচ দিয়ে চিনি গলে যাওয়া পর্যন্ত ফেটে নিন। এবার চিঁড়া দিয়ে মিশিয়ে নিন।

এবার প্যানে ঘি গরম করে, এলাচ, দারচিনি ও ডিম দিয়ে মিডিয়াম আঁচে অনবরত নাড়তে থাকুন যেন নিচে লেগে পুড়ে না যায়। ডিম যখন ঝুরঝুরে হয়ে প্যানের গা ছেড়ে আসবে, তখন বুঝবেন হয়ে গেছে। এরপর কিশমিশ, বাদাম কুচি দিয়ে ২ মিনিট নেড়ে নামিয়ে নিন। ঠা-া বা গরম প্লেটে নিয়ে ওপরে বাদাম কুচি দিয়ে সাজিয়ে মজাদার চিঁড়ার জর্দা পরিবেশন করুন।

চিঁড়ার পায়েস

উপকরণ : চিঁড়া ১ কাপ, চিনি ৩ টেবিল কাপ, এলাচ ৩টি, দারচিনি ছোট ২ টুকরা, দুধ ৫০০ গ্রাম, খোয়া ক্ষীর ৩ টেবিল চামচ, কিশমিশ ৭-৮টি, লবণ ১ চিমটি।

কাজু বাদাম ৩-৪টি কুচি করা, পেস্তা বাদাম ৩-৪টি, কুচি করা, ঘি- ২ টেবিল চামচ।

প্রস্তুত প্রণালি: একটি পাত্রে প্রথমে দুধ চুলায় দিতে হবে। দুধ জ্বাল দিতে হবে এমনভাবে যেন পাত্রের নিচে না লেগে যায়। এভাবে জ্বাল দিতে দিতে দুধ ঘন করতে হবে।

এবার অপর একটি পাত্র চুলায় গরম দিতে হবে। গরম হয়ে গেলে তাতে ১ টেবিল চামচ ঘি দিতে হবে ও অর্ধেক কাজু বাদাম ও পেস্তা বাদাম হালকা ভেজে নিতে হবে।

কাজু ও পেস্তা বাদাম ভাজা হয়ে গেলে এবার কিশমিশ ভেজে নিতে হবে, তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে বাদাম পুড়ে না যায়। বাদাম ও কিশমিশ ভাজা হয়ে গেলে তা একটি পাত্রে উঠিয়ে রাখুন। এবার বাকি ১ টেবিল চামচ ঘি দিয়ে চিঁড়া ভেজে নিতে হবে। তারপর ফুটন্ত জ্বাল দেয়া দুধে প্রথমে বাদাম ও কিশমিশ এবং পরে ভাজা চিঁড়া ঢেলে নাড়তে হবে। সঙ্গে চিনি, খোয়া ক্ষির ও লবণ দিয়ে আবার নাড়তে হবে। প্রায় ৫ মিনিট সময় ধরে নাড়তে হবে।

চিঁড়ার কাটলেট

উপকরণ : চিঁড়া ২ কাপ, আলু সিদ্ধ ১টি, পেয়াজ কুচি ১ কাপ, মরিচ কুচি ২ টেবিল চামচ, ধনিয়াপাতা ৩ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১-২ চামচ, গরম মসলা গুঁড়া ১ চা চামচ, ব্রেডকাম্ব ২ কাপ, ডিম ১টি, লবণ স্বাদমতো, সয়াবিন তেল ভাজার জন্য পরিমাণ মতো।

প্রস্তুত প্রণালি: ফ্রাইপ্যানে তেল মিডিয়াম গরম করে নিতে নিতেই চিঁড়া ১৫ মিনিট নরমাল পানিতে ভিজিয়ে পানি ঝরিয়ে চিঁড়া নরম করে আলুসহ ওপরের সবগুলো উপকরণ দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিতে হবে, শুধুমাত্র ডিম আর ব্রেডক্রাম্ব পরে ব্যবহার করা হবে। সব উপকরণ দিয়ে ভালো করে মেখে নিজেদের ইচ্ছামতো সেফ বা কাটলেটের মতো সেফ করে একপাশে রেখে দিতে হবে। এইভাবে সবগুলো কাটলেট বানানো হলে ডিম হালকা লবণ দিয়ে ফেটিয়ে নিতে হবে। এরপর কাটলেটগুলো ডিমে ডুবিয়ে ব্রেডক্রাম্বে গড়িয়ে ডুবু তেলে হালকা আচে ভাজতে হবে।

সবগুলো ভাজা হয়ে গেলে গরম গরম পরিবেশন করুন, সঙ্গে স্পাইসি টমেটো সস দিয়ে খেতে অনকে বেশি ভালো লাগবে।

টিপস:

চিঁড়ার কাটলেটে ঝাল একটু বেশি দিলে খেতে ভালো লাগে। চিঁড়ার থেকে আলুর পরিমাণ কম দিতে হবে।

খুব হালকা আচে ভাজতে হবে, না হলে পুড়ে যাবে। চিঁড়ার কাটলেট ডুবু তেলে ভাজার চেষ্টা করবেন।

চিঁড়ার নাড়–

উপকরণ : চিঁড়া আধা কেজি, খেজুরের গুড় ৮০০ গ্রাম, এলাচ ৫টা, জিরা গুঁড়া সামান্য, ঘি ১ টেবিল চামচ।

প্রস্তুত প্রণালি: প্রথমে চিঁড়া ভেজে নিন। গুড়ে সিকি কাপ পরিমাণ পানি ও ঘি দিয়ে চুলায় দিন। গুড় ফুটে উঠলে এলাচ গুঁড়া দিন। ঘন হয়ে এলে ভাজা চিঁড়া দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়–ন। চিঁড়া-গুড়ের মিশ্রণ ভালো করে মিশে গেলে জিরার গুঁড়া দিয়ে নামিয়ে নিন। ঠা-া হওয়ার আগেই হাতে একটু ঘি মাখিয়ে গোল গোল করে নাড়– তৈরি করুন।

চিঁড়ার মলিদা

উপকরণ : আতপ চালের মিহি গুঁড়া ১-২ কাপ, নরম নারিকেল মিহি করে বাটা ২ টেবিল চামচ, চিঁড়া ধুয়ে ভিজিয়ে রাখা ১-২ কাপ, তরল দুধ ১ কাপ, ডাবের পানি ১-২ কাপ, আদা বাটা ১-২ চা চামচ, লবণ পরিমাণমতো, চিনি পরিমাণমতো, বরফ কুচি পরিমাণমতো।

প্রস্তুত প্রণালি: প্রথমে একটি পাত্রে আতপ চালের গুঁড়া, লবণ, চিনি, ডাবের পানি ও ভিজিয়ে রাখা চিঁড়া নিয়ে ব্লেন্ডারে মিক্স করুন। এরপর আদা বাটা ও নরম নারিকেল বাটা দিয়ে আবারো ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। এখন এই ব্লেন্ড করা পানীয়টি প্রায় ২ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখুন। এবার পরিবেশনের পালা! গ্লাসে ঢেলে বরফ কুচি সাজিয়ে এবার ঠা-া ঠা-া চিঁড়ার মলিদা পরিবেশন করুন।

চিঁড়ার কচুরি

উপকরণ : চিঁড়া ১-২ কাপ, আলু সিদ্ধ দেড় কাপ, পাউরুটি ৬টি, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, লাল মরিচের গুঁড়া ১ চা চামচ, চাট মসলা ১-২ চা চামচ, কাঁচামরিচ কুচি ৩টি, ধনেপাতা কুচি ১ টেবিল চামচ, লবণ ও তেল পরিমাণমতো।

প্রস্তুত প্রণালি: একটি পাত্রে সিদ্ধ আলু, পাউরুটির টুকরো, শুকনো মরিচ গুঁড়া এবং সামান্য লবণ দিয়ে একসঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। এবার এই মিশ্রণ দিয়ে ছোট ছোট বল তৈরি করুন।

আরেকটি পাত্রে ভেজানো চিঁড়া, চিনাবাদাম কুচি, ধনেপাতা কুচি, কাঁচামরিচ কুচি, চাট মসলা, লেবুর রস, মরিচের গুঁড়া এবং লবণ দিয়ে মিশিয়ে নিন। এবার চিঁড়ার মিশ্রণটি হাতে নিয়ে রুটির মতো করে নিন। এর ভেতর আলুর মিশ্রণটি দিয়ে মুখ বন্ধ করে দিন। চুলায় মাঝারি আঁচে তেল গরম হয়ে এলে এতে কচুরিগুলো দিয়ে দিন। বাদামি রং হয়ে এলে নামিয়ে ফেলুন। এবার সস দিয়ে পরিবেশন করুন মজাদার চিঁড়ার কচুরি।

চিঁড়ার সমুচা

উপকরণ : চিঁড়া এক কাপ, সমুচার পেটি ৮টি, ময়দা ২ টেবিল চামচ, ২টি পেঁয়াজ কুচি, আস্ত জিরা ১ চা চামচ, মরিচের গুঁড়া ১ চা চামচ, জিরার গুঁড়া ১ চা চামচ, আদা কুচি ১ চা চামচ, কাঁচামরিচ কুচি, চাট মসলার গুঁড়া ১ চা চামচ, ধনেপাতা কুচি ১ টেবিল চামচ, চিনি ১ চিমটি, লবণ পরিমাণমতো।

প্রস্তুত প্রণালি: প্রথমে সমুচার পুর তৈরি করার পালা। এ জন্য চিঁড়ার সঙ্গে সব উপকরণ যেমনÑ লবণ, মরিচের গুঁড়া, চাট মসলা একসঙ্গে একটি পাত্রে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর একে একে ধনেপাতা কুচি, আস্ত জিরা, জিরার গুঁড়া, চিনি ও কাঁচামরিচ কুচির সঙ্গে সামান্য পানি দিয়ে ভালোভাবে সব উপকরণ মিশিয়ে নিয়ে চিঁড়ার পুর তৈরি করতে হবে। এবার একটি প্যানে পরিমাণমতো তেল হালকা আঁচে গরম করতে থাকুন। পাশাপাশি ময়দার সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। সমুচার পেটি ময়দার পেস্ট দিয়ে তিন কোনা আকৃতির তৈরি করুন। এবার এর মধ্যে পুর ভরে পুনরায় ময়দার মিশ্রণের সাহায্যে সমুচার মুখ বন্ধ করে দিন।

এদিকে প্যানে গরম হওয়া তেলের মধ্যে সমুচাগুলো ছেড়ে দিন। হালকা আঁচে ভাজতে থাকুন। এক পাশ হালকা বাদামি রঙা হলে অপর পাশ উল্টে দিন। এভাবেই তৈরি হয়ে যাবে মুচমুচে সমুচা। সবগুলো সমুচা ভাজা হয়ে গেলে গরম গরম একটি সার্ভিং বলে পরিবেশন করুন। টমেটো সস ও ধনেপাতার চাটনি দিয়ে পরিবেশন করতে ভুলবেন না।

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x