ঢাকা, শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯, ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

১৮৫ যাত্রীর প্রাণ রক্ষা পেল পাইলট মনিকার বুদ্ধিমত্তায়!

প্রকাশনার সময়: ২১ জুন ২০২২, ১৩:১৬ | আপডেট: ২১ জুন ২০২২, ১৩:৫৩

পটনা থেকে উড়ান দিয়েছিল স্পাইসজেটের যাত্রিবাহী বিমানটি। গন্তব্যে ছিল দিল্লি। কিন্তু টেক অফের কিছুক্ষণ পরেই নজরে পড়ে, বিমানের ডানায় আগুন।

সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দরে খবর দেওয়া হয়। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম থেকে জরুরি অবতরণের নির্দেশ দেওয়া হয় বিমানচালকদের। কিন্তু পটনার বিমানবন্দর এমন জায়গায়, যার রানওয়ের এক দিকে গাছের লম্বা সারি, অন্য দিকে রেললাইন।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেই জয়প্রকাশ নারায়ণ বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিমান অবতরণ করানো খুব সহজ নয়। তার উপর এ রকম জরুরি অবস্থা। বিমানের যাত্রী এবং কর্মীরা বেঁচে ফিরতে পারবেন তো? না কি, মাঝআকাশেই ইঞ্জিন থেকে পুরো বিমানে আগুন লেগে যাবে? চিন্তায় ছিলেন বিমানকর্মীরা।

এ নিয়ে প্রচণ্ড চিন্তায় ছিলেন সকলে। এই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন স্পাইসজেট বোয়িং ৭৩৭-এর নারী পাইলট ক্যাপ্টেন মনিকা খন্না।

মনিকার সাহস ও ধৈর্যের প্রশংসা করেছেন ডিজিসিএ-র কর্তা-সহ বহু বিমানসংস্থার অভিজ্ঞ আধিকারিক। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

তাদের বক্তব্য, এই পরিস্থিতিতে ‘ওভারওয়েট ল্যান্ডিং’ করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে মনিকা তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন।

সংবাদ সংস্থা সূত্রের খবর, মনিকা ২০১৮ সালে স্পাইসজেট বিমান সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হন। চার বছরে প্রচুর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন তিনি।

কিন্তু এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সম্মুখীন কখনও হতে হয়নি তাকে। বিমানটি টেক অফের কিছু সময় পর ওই বিমানের ক্রু সদস্যরা মনিকাকে জানান, পাখির ডানার ঝাপটা লেগে বিমানের একটি ইঞ্জিন থেকে আগুনের ফুলকি বেরোচ্ছে।

বিমানের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঝআকাশেই সবক’টি ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন মনিকা। তার পর ধীরে ধীরে বিমানটি রানওয়েতে নামিয়ে আনেন। এফও (ফার্স্ট অফিসার) বলপ্রীত সিংহ ভাটিয়ার অবদানও অনস্বীকার্য। অবতরণের সময় মনিকাকে যথেষ্ট সহায়তা করেছিলেন তিনি।

১৮৫ জন যাত্রীকে নিরাপদে বিমানবন্দরে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন তিনি। এই ঘটনার পর মনিকার অনুরাগীর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মহিলা পাইলট হিসাবে তিনি দেশবাসীর সামনে যে দৃষ্টান্ত তুলে ধরলেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসরণকারীর সংখ্যা ন’হাজারের বেশি। দেশ-বিদেশের নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াতে ভালবাসেন মনিকা।

নেপাল থেকে আর্মেনিয়া, মরিশাস—কর্মসূত্রে বহু জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি।

এখন অবশ্য কিছু দিনের জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে তাঁকে। তদন্ত শেষ হলেই আবার তিনি বিমান চালাতে পারবেন। তবে যে প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের পরিচয় তিনি দিয়েছেন, তা কুর্নিশ আদায় করে নিয়েছে সব পক্ষের কাছ থেকে।

নয়া শতাব্দী/ এডি

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ