ঢাকা | বৃহস্পতিবার ৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৫ জিলহজ ১৪৪২

মহানবী (স.) কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র আঁকা সেই শিল্পীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশনার সময়: ১৯ জুলাই ২০২১, ১৯:০৭ | আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২১, ১৯:১৬

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.) কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র আঁকা ডেনমার্কের বিতর্কিতত কার্টুনিস্ট কার্ট ওয়েস্টারগার্ড মারা গেছেন। মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র আঁকার কারণে বিশ্বব্যাপী মুসলমান সম্প্রদায়ের ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন।

রোববার ৮৬ বছর বয়সে মারা যান বলে ডেনমার্কের গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।

তার পরিবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। বার্লিংস্কে পত্রিকা রোববার এই খবর জানিয়েছে। ওয়েস্টারগার্ড ১৯৮০ এর দশকের শুরুতে রক্ষণশীল পত্রিকা জিলল্যান্ডস-পোস্টেনের কার্টুনিস্ট ছিলেন।

তবে তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান ২০০৫ সালে; ওই পত্রিকায় মহানবীর বিতর্কিত কার্টুন আঁকার জন্য। ওয়েস্টারগার্ড কার্টুনে দেখানো হয় একজনের মাথায় পাগড়ির মতো বোমা বাধা। পত্রিকাটিতে তার প্রকাশিত ১২টি কার্টুনের মধ্যে এটি একটি ছিল।

এর মাধ্যমে মূলত ইসলামের সেলফ-সেন্সরশিপ এবং সমালোচনার বিষয়টি সামনে আনা হয়।

মহানবীর প্রতিকৃতি আঁকার বিষয়টি ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হিসাবে দেখা হয় এবং মুসলমানদের জন্য যা অবমাননাকর। পত্রিকার এই কার্টুনগুলোর কারণে পুরো ডেনমার্কে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ডেনমার্ক সরকারের কাছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের রাষ্ট্রদূতরাও অভিযোগ করে।

এই বিক্ষোভ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। গোটা মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। ড্যানিশ দূতাবাসে হামলা চালানো হয় এবং ওই সহিংসতায় মারা যান অনেকে। পরবর্তীতে এ ধরনের কার্টুন প্রকাশ অব্যাহত থাকে।

ফরাসী ব্যঙ্গাত্মক ম্যাগাজিন শার্লি এবদোর অফিসে ২০১৫ সালে এক হামলায় ১২ জন নিহত হন। ওই পত্রিকাটি এ ধরনের কার্টুন প্রকাশ করতো।

কার্টুনগুলো প্রকাশের পরে ওয়েস্টারগার্ড অসংখ্যবার হত্যার হুমকি পেয়েছিলেন এবং তাকে লক্ষ্য করে কয়েকবার হত্যা প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। তিনি প্রথমে আত্মগোপনে চলে যান। তারপর ডেনমার্কের আহারাস শহরের বেশ সুরক্ষিত কাঠামোর একটি বাড়িতে স্বাধীনভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন।

ড্যানিশ গোয়েন্দা সংস্থা ২০০৮ সালে ওয়েস্টারগার্ড হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেয়। এর দুই বছর পরে ড্যানিশ পুলিশ ওয়েস্টারগার্ডের বাড়িতে ছুরি হাতে ২৮ বছর বয়সী সোমালি নাগরিককে ধরে ফেলে।

উনত্রিশ বছর বয়সী মোহাম্মদ গিলির বিরুদ্ধে সে সময় হত্যার চেষ্টা ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হলে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং ২০১১ সালে তাকে নয় বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এরপর ওয়েস্টারগার্ডকে পরবর্তী বছরগুলোয় গোপন ঠিকানায় দেহরক্ষী সাথে নিয়ে থাকতে হয়েছিল।

সংবাদ সংস্থায় রয়টার্সকে ওয়েস্টারগার্ড ২০০৮ সালে বলেন যে, ব্যঙ্গাত্মক চিত্র আঁকা নিয়ে তার মধ্যে কোন আফসোস নেই। তিনি বলেছিলেন, কার্টুনটি ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের সাথে পশ্চিমা দেশগুলোয় ইসলামের স্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জায়গা তৈরি করেছে।

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এই পাতার আরও খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x