ঢাকা | শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০ আশ্বিন ১৪২৮

পালস অক্সিমিটার সম্পর্কে যা জানা জরুরি

স্বাস্থ্য ডেস্ক

প্রকাশনার সময়

০২ আগস্ট ২০২১, ১৪:৪৩

আপডেট

০২ আগস্ট ২০২১, ১৪:৪৫

করোনার এই সময়ে পালস অক্সিমিটার অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অনেকে হাসাপাতালে না গিয়ে বাসায় বসেই অক্সিজেন লেভেল পরিক্ষা করে নিচ্ছেন। তবে এটা যেমন উপকারী তেমনই এর সঠিক ব্যাবহার না জানলে ঘটতে পারে বড় ধরনের বিপত্তি। আজ পালর্স অক্সিমিটার এবং এর ব্যবহার সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাবে নয়া শতাব্দী।

পালস অক্সিমিটার যেভাবে কাজ করে

পালস অক্সিমিটার কাজ করে wavelength এর আলো রক্তের মধ্যে দিয়ে। এ দিয়ে রক্তের অক্সিজেন পার্সেন্টেজ বলে দিতে পারে এবং কতো দ্রুত গতিতে হার্ট বিট করছে সেটাও।

১২ বছর এর উপর নর্মাল অক্সিজেন স্যাচুরেশান ৯২-৯৮% (কিছু কিছু গাইডলাইনে ৯৩), এবং নর্মাল হার্ট রেইট- ৬০-১০০ বিট প্রতি মিনিটে। তাই আঙুলে অক্সিমিটার দিয়ে ৩০-৪০ সেকেন্ড সময় দেবেন তারপর যেই রেসাল্ট আসবে সেটা নেবেন। এটা মেশিন, একটু সময় দেবেন কাজ করতে।

নখে নেইল পলিশ দেওয়া থাকলে, হাত অনেক বেশি ঠাণ্ডা হলে এবং মাঝে মাঝে রোগী অতিরিক্ত অসুস্থ হয়ে শকে চলে গেলে অক্সিমেট্রির রেসাল্ট ভুল আসতে পারে। তাছাড়া ফুসফুসের কিছু রোগ, ওবেসিটি ইত্যাদিতে অনেক সময়ই নর্মাল লেভেল কম থাকে।

কোভিডের জন্যে অক্সিমেট্রি জরুরি। কারণ অক্সিজেন লেভেল কমে আসা করোনা গুরুতর হওয়ার একটা লক্ষণ। নিউ ইয়র্কে একটা গবেষণায় অনেক রোগীকে তারা এই অক্সিমিটার দিয়ে বলেছে ৯২ এর নিচে নামলে ফিরে আসতে।

অনেকেই বলেছে তাদেরকে স্বস্তি দিয়েছে এবং খারাপ লাগলেও বাসায়ই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন কারণ অক্সিজেন লেভেল ভালো ছিল। আর অনেকে হাসপাতালে ফিরে এসে ভর্তি হয়েছে কারণ ৯২% এর নিচে নেমে গিয়েছিল। এদের পরে আইসিইউও লেগেছে কিছু সংখ্যকের।

আবার পালস অক্সিমিটার ব্যাবহার মানসিক সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। যেমন অনেকে ১০-১৫ মিনিট পর পর চেক করার অভ্যেস হয়ে যেতে পারে। অনেকে এক থেকে দুই পার্সেন্ট উঠা-নামা করলেই স্ট্রেস করতে পারেন। এটার কিন্তু প্রয়োজন নেই। অক্সিজেন লেভেল অনেক সময়ই কম হতে পারে, এক্সারসাইজ করলে, দৌঁড়ানোর পর, ঘুম থেকে উঠার পর পর।

নিউ ইয়র্কের স্টাডিতে এটাও পেয়েছে যে ৫০% রোগী অকারণে হাসপাতালে ফিরে এসেছে কারণ একবার দেখেছে ৯২% এর কম। প্রথম পয়েন্টেই বলেছি যে আঙুলে দিয়ে আগে ৩০-৪০ সেকেন্ড সময় দিবেন। দিনে ৩-৪ বার এর বেশি চেক করার কিছু নেই। যদি একবার ৯২% এর কম দেখেন, একটু সময় দিয়ে দেখুন যে নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যাচ্ছে কি না নাকি উঠছেই না।

কোভিড হলে ৩টা জিনিস দেখলে সাথে সাথে হাসপাতালে যাওয়া উচিত, ১.অক্সিজেন স্যাচুরেশান ৯২% এর কম ২. নিজে নিজে ঠিক হচ্ছে না এবং ৩. শ্বাসকষ্ট এমন যে একটা বাক্য শেষ করতে পারছেন না অথবা মুখ-ঠোঁট নীল হয়ে আসছে। এই তিনটার যেকোনো একটা হলেই হাসপাতালে যাওয়া প্রয়োজন।

নয়া শতাব্দী/জেআই/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x