ঢাকা | শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২ আশ্বিন ১৪২৮

‘যুগান্তকারী’ পরীক্ষা বদলাতে পারে ক্যান্সার চিকিৎসা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশনার সময়

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:১৬

এক বিশেষ রক্তের পরীক্ষা শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেয়ার আগেই বলে দিতে পারবে ক্যান্সারের উপস্থিতির খবর। ক্যান্সার শনাক্তকরণে গ্যালেরি নামের এই পরীক্ষা প্রথমবারের মতো মানব দেহে (ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল) শুরু হচ্ছে যুক্তরাজ্যে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। মার্কিন জৈব প্রযুক্তি সংস্থা গ্রেইল ইনকর্পোরেটেড এই পরীক্ষাটির উদ্ভাবন ও ট্রায়ালের জন্য এনএইচএসের সঙ্গে গত নভেম্বর মাসে চুক্তিবদ্ধ হয়।

ব্রিটিশ সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা এনএইচএসের পক্ষ থেকে গত সোমবার এই নতুন ধরনের ক্যান্সার শনাক্তকরণ পরীক্ষা শুরু হয়। গালেরি নামের এই বিশেষ পরীক্ষা রক্ত থেকে ডিএনএ পরীক্ষা করে থাকে। ডিএনএর কোনো অংশ ক্যান্সারের কোষ থেকে এসেছে কি না, এটি তা যাচাই করে দেখে।

ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তির শরীরে ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেয়ার আগেই মোট ৫০ ধরনের ক্যান্সারের উপস্থিতি ধরে ফেলতে পারবে এই নতুন পরীক্ষা।

দেশের মোট আটটি অঞ্চল থেকে প্রায় ৪০ হাজার নমুনা সংগ্রহ করা এনএইচএসের প্রাথমিক লক্ষ্য। এই পরীক্ষার প্রাথমিক ট্রায়ালে যুক্তরাজ্যজুড়ে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার ও অন্য সব পরীক্ষাগারে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এক বিবৃতিতে এনএইচএসের প্রধান নির্বাহী আমান্ডা প্রিচার্ড বলেন, ‘এই সহজ ও দ্রুত রক্তের পরীক্ষাটি ক্যান্সার শনাক্তকরণ ও তার চিকিৎসার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে ও সারা বিশ্বে বিপ্লব ঘটাতে পারে।’

রোগের একেবারে প্রাথমিক ধাপে ধরা পড়লে একজন রোগীর চিকিৎসার দিক নির্ধারণ করা অনেক সহজ হয়ে পড়ে। এনএইচএস বলছে, প্রথম ধাপে (স্টেজ ওয়ান) ধরা পড়লে রোগীর প্রাণে বাঁচার সম্ভাবনা একজন চতুর্থ ধাপের (স্টেজ ফোর) ক্যান্সার রোগীর তুলনায় পাঁচ থেকে ১০ গুণ বেশি থাকে।

ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ বলেন, ‘দ্রুত শনাক্তকরণ প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম। এই পরীক্ষায় আমরা ক্যান্সার শরীরে ছড়ানোর আগেই ধরে ফেলতে পারব। এ রোগকে হারাতে এটাই আমাদের সামনে সবচেয়ে ভালো সুযোগ।’

এদিকে ট্রায়ালের প্রধান অনুসন্ধানকারী গবেষক ও কিংস কলেজ লন্ডনের ক্যান্সারবিষয়ক প্রফেসর পিটার সাসিয়েনির মতে, গালেরি পরীক্ষা ‘প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্তের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী।’

এর আগে শরীরে ক্যান্সার শনাক্ত করতে রক্তের নানা ধরনের পরীক্ষা ছাড়াও, অন্য ধরনের আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন গবেষক ও চিকিৎসকরা। যেমন নিঃশ্বাসের পরীক্ষা করা ব্রিদালাইজার পরীক্ষা।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক গবেষণা যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে ব্যাপকভাবে লাভবান হবে ক্যান্সার শনাক্তকরণের পদ্ধতি।

নয়া শতাব্দী/এম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x