ঢাকা, সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২১ শাওয়াল ১৪৪৩

নাদুসনুদুস ডলফিন

প্রকাশনার সময়: ৩০ এপ্রিল ২০২২, ১৩:৪৯

ডলফিনের নাম শুনলে আমাদের মনে হাসিখুশি আদুরে এক প্রাণীর কথা মনে পড়ে। তারা নানারকম খেলায় পটু এবং দারুণ বন্ধু স্বভাবের। মানুষের অন্যতম প্রিয় এ প্রাণীকে নিয়ে আমাদের জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। বিজ্ঞানীদের দাবি, মানুষের পর ডলফিনই সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী। এ নিয়ে অবশ্য বিতর্কও আছে। কয়েকজন বিজ্ঞানী বলেছেন, ডলফিনের সদা হাস্যমুখ দেখে হয়তো আমরা বিভ্রান্ত হচ্ছি! আবার পানিতে বাস করে বলে অনেকেই একে মাছের প্রজাতি মনে করে থাকে। তবে সত্যতা হচ্ছে, ডলফিন কিন্তু কোনো মাছ নয়, এরা স্তন্যপায়ী। এরা মাছের মতোই পানিতে বসবাস করে, সাঁতার কাটে কিন্তু মাছের মতো ডিম পাড়ে না। মা ডলফিন ছোট্ট বাচ্চা ডলফিনের জন্ম দেয়। সেই ছোট্ট ডলফিন মায়ের দুধ খেয়ে বড় হতে থাকে। আর এজন্যই এদের স্তন্যপায়ী বলা হয়ে থাকে। অনেকের ধারণা, একসময় ডলফিন ডাঙায় বাস করত। পরবর্তী সময়ে ডাঙায় প্রতিকূল পরিবেশ আর জলে খাদ্যের প্রাচুর্যতা দেখে এরা পানির সঙ্গেই খাপ খাইয়ে নিয়েছে। যদিও এর পেছনে খুব একটা যুক্তিসংগত কারণ নেই। ডলফিনদের অজানা জীবন, লাইফস্টাইল ও বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ থাকছে দ্বিতীয় পর্ব।

ওয়ার্ল্ডওয়াইডলাইফ.ওআরজি এর তথ্য মতে, পানির উপরিভাগের মাছের তুলনায় নিচের মাছগুলো অনেক বেশি নাদুসনুদুস হয়ে থাকে। কারণ তলায় খাদ্যের জোগান অনেক বেশি; খাদ্যের জন্য তাই দৌড়াদৌড়ি করতে হয় কম। বোতল-নাক ডলফিনদের আবার এসব মোটাসোটা মাছগুলোর ওপর বেজায় লোভ। জলের তলায় নাক দিয়ে এই মাছগুলোকে বালির ওপরে খুঁজে বেড়ায় এরা। এতে যে অনেক সময় হিতে বিপরীত হয় না, তা নয়। মাঝেমধ্যে রাগী গোবদা গোবদা কাঁকড়ার সামনে পড়ে যায় এরা। তখন অবস্থা সঙ্গীন হয়ে ওঠে। ডলফিনগুলোর নাকের ওপরে ধারালো দাঁড়া দিয়ে কামড় বসায় ওগুলো। সঙ্গে আছে সমুদ্রের তলদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নানা আকারের ধারালো পাথর। তাতে গুঁতো খেয়ে নাকের বারোটা বাজা অসম্ভব কিছু নয়। এই ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্য এরা ব্যবহার করে সামুদ্রিক স্পঞ্জ। ওগুলোকে নাকের মাথায় আটকে রেখে দিব্যি মাছ খুঁজে বেড়ায় ওরা। কাঁকড়ার কামড় আর পাথরের ঘষা সব স্পঞ্জের ওপর দিয়েই যাক!

ডলফিনদের আরেকটি ক্ষমতা হচ্ছে অনুকরণ করার বিষয়টি। তারা অন্যসব প্রাণীর তুলনায় খুব নিখুঁতভাবে মানুষের হাবভাব নকল করতে পারে। শুধু তা-ই নয়, মানুষের কণ্ঠ অনুকরণ করায় তাদের জুড়ি মেলা ভার। প্রাণিজগতে অনেক প্রাণীই দেখা যায়, যারা মানুষের বৈশিষ্ট্য নকল করতে পারে, যেমন বানর বা টিয়াপাখি। কিন্তু বানর শুধু মানুষের অঙ্গভঙ্গি নকল করতে পারে। অপরদিকে টিয়া ও ময়না পাখি পারে শুধু মানুষের কণ্ঠ নকল করতে। অপরদিকে ডলফিল শুধু মানুষের অঙ্গভঙ্গি নয়, কণ্ঠস্বরও নকল করতে পারে নিপুণ দক্ষতায়। অথচ তাদের শারীরিক গঠন মানুষের সঙ্গে একেবারে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। তাই মানুষের শারীরিক ভঙ্গিমা নকল করতে হলে সেটা যে তাদের অনেক ভেবেচিন্তে মাথা খাটিয়ে করতে হয়, তা তো না বললেই চলে। আর যা-ই হোক, পাখনাকে হাতের মতো আর লেজকে পায়ের মতো করে ব্যবহার চাট্টিখানি কথা নয়! অন্যদিকে, মানুষের ভোকাল কর্ড থেকে তাদের ভোকাল কর্ড তো বেমালুম আলাদা। মানুষের কণ্ঠস্বর বলতে গেলে তাদের কাছে ভিনগ্রহী এলিয়েনের মতোই। তবুও ডলফিনের কণ্ঠে মানুষের কণ্ঠস্বর শুনলে আঁতকে উঠতে হয়! এতই নিখুঁতভাবে কাজটা সমাধা করে ওরা!

ডলফিনরা যেখানে ঘুরে বেড়ায়, তার আশপাশেই হাঙর দেখা যায়। কখনো কখনো ক্ষুধার্ত হাঙর ডলফিনকেও তাড়া করতে ছাড়ে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাঙ্গরের কপালে কিছুই জোটে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হাঙ্গর কামড় বসায় বটে, কিন্তু বিশেষ সুবিধে করতে পারে না। বড়জোর এক খাবলা মাংস উঠিয়ে নেয়। বিজ্ঞানীরা অবাক হয়ে লক্ষ করেছেন, হাঙ্গরের আক্রমণে আহত হলেও ডলফিনরা খুব বেশি গা করে না। যেন এটা এদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এমনকি তাদের আচরণে ব্যথার চিহ্নও নেই। আশ্চর্য বিজ্ঞানীরা দুইটি ডলফিনকে পর্যবেক্ষণে রাখলেন। তাদের গায়ে হাঙ্গরের আক্রমণে বাস্কেটবলের মতো সাইজের দুইটি ক্ষত তৈরি হয়েছিল। সপ্তাহখানেকের ভেতরে তাদের ক্ষত ঠিক হয়ে গেল এমনভাবে, যেন ওখানে কোনো ক্ষত ছিলই না। ক্ষততে কোনো ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশনও হয়নি। গবেষণায় বেরিয়ে এলো, এই প্রাণীগুলোর শরীরে কোনো ক্ষত তৈরি হলে সেখানে একধরনের অ্যান্টিবায়োটিক এবং ব্যথানাশক রাসায়নিক ক্ষরিত হয়। ফলে সমস্ত ব্যাপারটা উপেক্ষা করে চলতে পারে!

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ