ঢাকা, সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সেবার ব্রতে এসএইচবিও'র উদ্দীপ্ত যাত্রা

প্রকাশনার সময়: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৯:২৭

পৃথিবীতে যা কিছু অভিনব, দূর্দান্ত ভাবনার উদয় ঘটে, তার অধিকাংশ আসে তারুণ্যের উর্বর মস্তিষ্ক থেকে। তরুণরা চাইলে জয় করে নিতে পারে বিশ্ব। পরিবর্তন আনতে পারে সমাজে। সেবার ব্রতে মানবতার পথে-প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৬ই ডিসেম্বর ২০২০ যাত্রা শুরু করে সার্ভিস ফর হিউম্যান বিয়িং অর্গানাইজেশন (এসএইচবিও)।

চার স্বপ্নদ্রষ্টা মিলে বোনেন মানবিকতার বীজ। নোয়াখালীর মাইজদী শহরের এক তরুণী ও তিন তরুণের সম্মিলিত ভাবনার ফল এটি। চারজনের একজন, সংগঠনের বর্তমান সভাপতি ফাহিদা সুলতানা শোনালেন সেই গল্প- ‘আমাদের ইচ্ছে ছিল মানুষের জন্য কিছু করার। একা একা হয়তো কিছু করতে পারব। কিন্তু অনেক কিছু করতে গেলে, পরিবর্তন আনতে গেলে প্রয়োজন দলগত প্ল্যাটফর্ম। সেখান থেকেই এসএইচবিও শুরু করার আগ্রহ জন্ম নেয়।’

‘আপন ঘরে সুখের হাসি’- প্রকল্পের মাধ্যমে সার্ভিস ফর হিউম্যান বিয়িং অর্গানাইজেশন নিজস্ব ভূমি ও স্ব-অর্থায়নে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ১০টি দরিদ্র ও সম্বলহীন পরিবারকে পাকা ঘর করে দেয়। একই প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে চলছে জমি নির্বাচন। এবারের প্রাথমিক লক্ষ্য ২২টি ঘর তৈরির।

বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ। বিশেষত বন্যাপ্রবণতা এখানে বেশি। ২০২২ সালে আমরা প্রত্যক্ষ করি দুটো ভয়ানক বন্যার। প্রথমে সিলেট, পরবর্তীতে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কুড়িগ্রাম! সার্ভিস ফর হিউম্যান বিয়িং অর্গানাইজেশন এগিয়ে আসে সামর্থ্যের ডানা মেলে।

‘এসএইচবিও উইথ ডিজাস্টার ভিক্টিমস’- নামে প্রজেক্ট, যেটি বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তায় চালিত হয় তার আওতায় দুই দফায় সরাসরি ৬০০ ও ১১০০ মানুষকে ত্রাণ সেবা দেয়। এছাড়া, পুনর্বাসনে পরোক্ষভাবে কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবী ও আর্থিক সেবা সরবরাহের মাধ্যমে।

নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে পরিচালিত ‘উইমেন এম্পাওয়ারমেন্ট’- প্রকল্পের অধীনে ২০২১ সালে ১০ জন নারীকে ছাগল এবং ২০২২ সালে ১৫ জনকে সেলাই মেশিন প্রদান করে সংগঠনটি। ‘শতমুখে ইফতারের হাসি’- প্রকল্পের আওতায় ২০২২ সালের পবিত্র রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন শতাধিক ছিন্নমূল ও ভাসমান মানুষদের ইফতার করানো হয় সোনাইমুড়ী রেলওয়ে স্টেশনে। এছাড়া বিভিন্ন উৎসবে ছিন্নমূল মানুষদের ইদ সামগ্রী উপহার, শীতে শীতবস্ত্র নিয়মিতভাবেই বিতরণ করে সংগঠনটি।

একটি দেশের চালিকাশক্তি হচ্ছে যুবারা। তাদেরকে সঠিকভাবে দিকনির্দেশনা দিতে পারলে সুন্দর আগামীর পথ সুগম হবে। সেই ভাবনা থেকে আন্তর্জাতিক যুব দিবসে এসএইচবিও’র তত্ত্বাবধানে নোয়াখালীতে প্রথম আয়োজিত হয় 'ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কশপ।' কর্মশালায় শতাধিক তরুণ তরুণীর অংশগ্রহণে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

স্বাস্থ্যসেবায় জোরালো নজর এসএইচবিও’র। নিয়মিতভাবে অসহায় ও দুস্থ রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় ও পরবর্তীতে তাদের মেডিসিন খরচ দিয়ে আসছে সংগঠনটি। যাতে আছে ক্যান্সার, থ্যালাসেমিয়া, করোনার মতো রোগে আক্রান্তরা। রক্তের অভাবে মৃত্যুর ঘটনা যেনো বাংলাদেশে খুব স্বাভাবিক।

এসএইচবিও এর বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে নিরন্তর। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে গত দেড় বছরে প্রায় ১৪৬০ ব্যাগ রক্ত ম্যানেজ করে দিয়েছে তারা। রক্তদাতা সংগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইনিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ৫০০০ রক্তদাতা নিবন্ধন করার পাশাপাশি নিয়মিত ফ্রি মেডিকেল চেক-আপ করে সংগঠনটি।

ভালোবাসা দিয়ে বিশ্ব জয় করা সম্ভব, ফুল ফোটে পাথরেও। সভ্যতার বিকাশে মানুষ যেখানে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে, সেখানে এসএইচবিও-র স্বেচ্ছাসেবীরা ব্যতিক্রম। সামাজিক সংগঠন হিসেবে এরই মধ্যে নোয়াখালী জেলায় আস্থার জায়গা তৈরি করেছে সংগঠনটি।

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ