ঢাকা | বৃহস্পতিবার ৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৫ জিলহজ ১৪৪২

বর্ষায় ঘুরতে যাবেন যেসব জায়গায়

নয়া শতাব্দী ডেস্ক

প্রকাশনার সময়: ১১ জুলাই ২০২১, ১৫:৫৪ | আপডেট : ১১ জুলাই ২০২১, ১৬:২৪

একটা সময় মানুষ বেড়াতে যেত শীতের মৌসুমে। এখন সময় বদলেছে, শীত-গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা কোনো বিষয় নয় ছুটি পেলেই হলো।

ভরা বর্ষা মৌসুমেও ভ্রমণ পরিকল্পনা করে অনেকেই। কারণ বর্ষা মৌসুমে বাংলার রূপ বৈচিত্র নিয়ে শত শত লেখকের রয়েছে অগণিত সংখ্যক গল্প, কবিতা।

যারা এই বর্ষায় বেড়াতে যেতে চান আজ তাদেরকে কয়েকটি উপযুক্ত জায়গার সন্ধান দিবে নয়া শতাব্দী।

সিলেট

বাংলাদেশের বর্ষার রানী হিসিবে পরিচিত সিলেট। এ সময়টায় জেলার সৌন্দর্য্য বেড়ে যায় কয়েকগুন। চা বাগান, বন, মেঘালয়ের পাহাড় থেকে বেয়ে বাংলাদেশে প্রবাহিত নদী, সব কিছু মিলে সিলেট হতে পারে এ সময়ের আপনার অন্যতম সেরা গন্তব্য।

অনেক আগে থেকেই সিলেটের জাফলং ভ্রমণপিপাসুদের কাছে প্রিয় একটা জায়গা হিসেবে পরিচিত। পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানি আর দূর থেকে মেঘালয়ের ঝর্ণা মিলে জাফলং এখনো সিলেটের অন্যতম সেরা পর্যটন কেন্দ্র।

শহরের মধ্যে রয়েছে সুরমা নদীর পাড়ে ঐতিহাসিক ক্বিন ব্রিজ ও হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার। সারা দেশে গরম পড়লেও সিলেটে বৃষ্টি পড়ে এবং আবহাওয়া গরম থাকে খুব কম। এছাড়া শহরের কাছেই রয়েছে বেশ কয়েকটি চা বাগান। তবে এখন বিছানাকান্দি, পান্থুমাই, ভোলাগঞ্জ ও রাতারগুলের জলাবন সিলেটের অন্যতম আকর্ষণ।

সিলেটে থাকার জন্য অসংখ্য হোটেল ও রিসোর্ট পাবেন। যোগাযোগ মাধ্যমও বেস ভালো। বাস, বিমান কিংবা রেল সব পথেই সিলেট যাওয়া যায়। আর খাওয়ার জন্য পাবেন চমৎকার সব রেঁস্তোরা। তবে সিলেটে ঘোরাঘুরির জন্য সিএনজি ব্যবহার করাই ভালো। কারণ অনেক রাস্তায় সিএনজি ছাড়া যাওয়া যাবে না।

সুন্দরবন

রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জন্য পৃথিবী জুড়েই ভ্রমণ প্রিয়দের অন্যতম পছন্দের স্থান সুন্দরবন। বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল উপকূলীয় এলাকা জুড়ে সুন্দরবনের অবস্থান। তবে ঘুরতে যাওয়ার জন্য খুলনা বাঘেরহাট অংশে যাওয়াই ভালো। পুরো বন এ সময়টায় সতেজ হয়ে ওঠে। বন্যপ্রাণীও দেখতে পাবেন প্রচুর।

ছয় হাজার বর্গকিলোমিটারেরও বেশি জায়গাজুড়ে ঘুরে পাবেন ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ। বর্ষার ঝর ঝর পানিতে সুন্দরবনকে অন্যান্য যেকোন সময়ের চেয়ে অসাধারণ দেখায়। সেই অভিজ্ঞতা মিস না করতে চাইলে ঢাকার কলাবাগান, কল্যাণপুর, গাবতলী থেকে বাসে করে যেতে পারবেন।খুলনা শহরে থাকার জন্য ভালো মানের হোটেল পাবেন। এছাড়া বন-বিভাগের রেস্ট হাউজগুলোতেও থাকতে পারবেন।

নেত্রকোনার হাওর

বর্ষায় যারা হাওড় ঘুরতে পছন্দ করেন তারা যেতে পারেন নেত্রকোনায়। মোহনগঞ্জ, মদন, খালিয়াজুড়ি ও কলমাকান্দা উপজেলা জুড়ে ছোটবড় ৫৬টি হাওর ও বিল পাবেন। শুকনা মৌসুমে হাওরে চাষাবাদ করা হয় তবে বর্ষায় পানিতে পরিপূর্ণ থাকে এসব হাওর-বিল। তখন এসব এলাকার একমাত্র বাহন হয় নৌকা। বর্ষাকালে হাওরের গ্রামগুলি একেকটি ছোট দ্বীপের মতো মনে হয়। এছাড়াও নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে বর্ষা মৌসুমে লঞ্চে চড়ে যেতে পারবেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে।

চট্রগ্রাম

মিরসরাই-সীতাকুন্ডে বিস্তৃত বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যানের ঝর্ণাগুলোর জন্য বর্ষার মৌসুমে চট্রগ্রাম হয়ে ওঠে ভ্রমনপিপাসুদের কেন্দ্রবিন্দু।

এছাড়াও খৈয়াছড়া, নাপিত্তছড়া, কমলদহ, সহস্রধারাসহ অনেকগুলো ঝর্ণা রয়েছে এ অঞ্চলে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের খুব কাছে হওয়ায় এসব ঝর্ণায় হেঁটে পৌঁছানোও সহজ।

এছাড়াও নতুন রূপে সেজেছে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত।

চট্টগ্রাম শহরের আশেপাশে দেখার মতো পাবেন আনোয়ারার পার্কি সৈকত, মহানগরীর ফয়েজলেক, ফটিকছড়িতে রয়েছে হাজারিখিল অভয়ারণ্য; যেখানে ঘুরতে ও তাঁবুতে রাত কাটানোর জন্য যেতে পারেন।

শ্রীমঙ্গল

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান।

শ্রীমঙ্গলে পাবেন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বাইক্কার বিলসহ নানান দর্শনীয় স্থান। বর্ষায় শ্রীমঙ্গল সাজে অপরূপ সাজে। শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য পাবেন ভালো মানের বেশ কিছু হোটেল। এ ছাড়া এখানে গ্রান্ড সুলতান টি-রিসোর্ট, দুসাই রিসোর্টসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মানের রিসোর্টও গড়ে উঠেছে।

মুন্সিগঞ্জ

যারা ঢাকায় থাকেন, তাদের জন্য অল্প সময়ের সেরা যায়গা মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান। যদি কাঁচা মাটির গন্ধসহ বৃষ্টি উপভোগ করতে চান তাহলে আপনার জন্য উপযুক্ত যায়গা এটি। বর্ষায় বাংলার গ্রামগুলো প্রকৃতিগতভাবেই হয়ে ওঠে একেকটি অপূর্ব পর্যটন কেন্দ্র। ইছামতী নদীর পাড় ঘেসে গ্রামের সরু মেঠোপথ দিয়ে হাটতে পারবেন। নৌকা নিয়েও ঘুরে বেড়াতে পারবেন ইছামতীর বুক চিড়ে।

নদীর সঙ্গেই রয়েছে নিমতলা বিল। হালকা স্রোতে নদী থেকেই দেখবেন বিলের জলে সৌন্দর্যের ডানা মেলে ফুটে আছে জাতীয় ফুল শাপলা।ছোট ছোট ডিঙি নৌকা নিয়ে শাপলা তোলার দৃশ্যও আপনার মনকে চাঙ্গা করে দেবে কিংবা আপনিও ডিঙি নৌকা নিয়ে নেমে পরতে পারবেন শাপলা তোলার প্রতিযোগিতায়।

রাঙ্গামাটি

পার্বত্য চট্টগ্রামে অবস্থিত রাঙ্গামাটি জেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম লীলাভূমি। এ জেলার সাজেক ভ্যালি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে খুবই আকর্ষণীয় স্থান। বর্ষাকালে এটি আরও অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

সাজেক ভ্যালিতে পাহাড়ের উপর তুলার মতো মেঘ রাশি ভেসে বেড়ায়।কাপ্তাই লেক রাঙ্গামাটির আরেকটি দর্শনীয় স্থান। ঝুলন্ত ব্রিজ অথবা তবলছড়ি ঘাট থেকে বোট ভাড়া করে কাপ্তাই লেক, শুভলং ঝরনা, বিজিবি ক্যাম্প, জুম রেস্তোরা, চা-বাগান ঘুরে দেখতে পারবেন।

নীলাচল

বান্দরবান শহরের সবচেয়ে কাছে এবং সবচেয়ে সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র নীলাচল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ১ হাজার ৬’শ ফুট। বর্ষা মৌসুমে এ জায়গা থেকে মেঘ ছোঁয়া যায়।

বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে টাইগারপাড়া এলাকায় পাহাড়ের গায়ে লাগোয়া জায়গায় পর্যটকদের জন্য আছে নানান ধরণের ব্যবস্থা। শহর ছেড়ে চট্টগ্রামের পথে প্রায় তিন কিলোমিটার চলার পরেই হাতের বাঁ দিকে ছোট একটি সড়ক এঁকেবেঁকে চলে গেছে নীলাচলে। এ পথে প্রায় তিন কিলোমিটার পাহাড় বেয়ে পৌঁছুতে হবে।মাঝ পথের দুই পাশে ছোট একটি পাড়ায় দেখতে পাবেন ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীদের বসবাস।

বান্দরবান জেলা পরিষদের উদ্যোগে গড়ে তোলা এ পর্যটন কেন্দ্রে থাকার জন্য পাবেন রিসোর্ট

নীলগিরি

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ২’শ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত একটি মনোরম পর্যটন কেন্দ্র নীলগিরি। যা বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৫২ কিলোমিটার দূরে । নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে যেদিকে চোখ যায় চারদিকে শুধু পাহাড় আর পাহাড়। এখানে পর্যটকদের সঙ্গে মেঘের একটা সংযোগ ঘটে।

সেনাবাহিনী পরিচালিত এ পর্যটন কেন্দ্রে থাকার জন্য পাবেন ভালো মানের কটেজ। এখানে ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল।

কক্সবাজার

গোটা পৃথিবী জুড়েই পর্যটকদের জন্য কক্সবাজার একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। কক্সবাজারে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পর্যটক বেড়াতে যায়।

যদিও কক্সবাজারে শীতকালেই সবচেয়ে বেশি পর্যটক যায় তবুও কক্সবাজার বর্ষাকালেও অন্তত একবার যাওয়া উচিত।এর অন্যতম কারণ সমুদ্রের বড় ঢেউ , আর সমুদ্রের বড় বড় ঢেউ দেখার জন্য বর্ষার সময়টাই উপযুক্ত । যদিও পানির রঙ একটু ঘোলা থাকে।

আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণ হলো বর্ষায় কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ খুব সুন্দর লাগে। বৃষ্টিতে পাহাড়গুলো আরো সবুজ হয়ে যায়। এক পাশে পাহাড় আর অন্য পাশের সমুদ্র ধরে এ মেরিন ড্রাইভ! এ সৌন্দর্য আপনার হৃদয় ছুঁয়ে দিবেই।

চলার পথে হিমছড়ির আশেপাশের কয়েকটি ঝর্ণার দেখা পাবেন। ছাদখোলা জীপ গাড়ি ভাড়া পাওয়া যাবে সুগন্ধা বিচে, সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে একেবারে ইনানী সৈকত ঘুরে আবার মেরিন ড্রাইভ ধরেই কক্সবাজার ফিরতে পারবেন।অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় হলে যেতে পারেন প্যারাসেইলিং করার জন্য দরিয়ানগর সৈকতে।

বর্তমানে কক্সবাজার থাকার জন্য পাবেন অসংখ্য হোটেল ও রিসোর্ট। তবুও এ সময়টায় আগে থেকে বুকিং দিয়ে যাওয়া ভালো। ঢাকাসহ দেশের অনেক বড় শহরগুলোর সাথে কক্সবাজারের সরাসরি বাস চলে।এছাড়া বিমানেও ঢাকা থেকে কক্সবাজার উড়ে আসতে পারেন।

কুয়াকাটা

দেশের একমাত্র সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা, যেখান থেকে সূর্যাস্ত ও সূর্যদোয় দেখা যায়। ঢাকা থেকে বরিশাল বা পটুয়াখালী যেয়ে সেখান থেকে বাসে করে কুয়াকাটা যেতে পারেন।

১৮ কিলোমিটার লম্বা সমুদ্র সৈকতসহ কুয়াকাটায় পাবেন অনেকগুলো দর্শণীয় যায়গা। এর দুপাশে পাবেন দুটি ম্যানগ্রোভ বন, যেগুলো দেখতে সুন্দরবনের মতোই।

ভোরে সূর্যদয় ও সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত উপভোগ করার জন্যই মূলত কুয়াকাটা বিখ্যাত। এছাড়াও কুয়াকাটার নাম যে কারণে কুয়াকাটা হয়েছে সেই কুয়া, কয়েকটি বৌদ্ধ মন্দির, শুটকি পল্লী, রাখাইন মার্কেট এসব জায়গায়ও যেতে পারবেন। সৈকত থেকে স্পীডবোটে তিন-চার কিলোমিটার সমুদ্রের দিকে যেয়ে ঘুরেও আসা যায়। কুয়াকাটায় থাকার জন্য এখন অনেক ভালো ভালো হোটেল রিসোর্ট পাবেন। খাবারের ব্যবস্থার দিক থেকে কুয়াকাটা এখনো কিছুটা পিছিয়ে আছে। তবে জিরো পয়েন্টে কিছু খাবারের ভালো হোটেল আছে সেখানে খেতে পারেন। এছাড়া ভাজা মাছ/কাঁকড়া খাওয়ার আগে চেক করে নিবেন তাজা কিনা।

কিছু পরামর্শ :

* রোদ ও বৃষ্টি দুটোর জন্যই প্রস্তুত থাকবেন। ছাতা/রেইনকোট সঙ্গে রাখবেন।

* মোবাইল ও মানিব্যাগের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত পানি নিরোধক ব্যাগ সঙ্গে রাখবেন

* বহন যোগ্য পানির বোতল সঙ্গে রাখতে পারেন। বিশেষত সঙ্গে বাচ্চারা থাকলে অবশ্যই রাখবেন।

* রোদের জন্য সানগ্লাস/ক্যাপ/হ্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

* হাওর/ঝর্ণা এসমস্ত জায়গার জন্য লাইফজ্যাকেট অবশ্যই সঙ্গে নিবেন। অনেক জায়গায় লাইফ জ্যাকেট ভাড়া পাওয়া যায়।

* যথাসম্ভব আগে থেকে বুকিং দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এই পাতার আরও খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x