ঢাকা, বুধবার, ২২ মার্চ ২০২৩, ৮ চৈত্র ১৪২৯, ২৯ শাবান ১৪৪৪

বছরে ৫০ কোটি টাকার শিঙাড়া বেচেন দম্পতি

প্রকাশনার সময়: ১৭ মার্চ ২০২৩, ১৬:৩৮

খুব সাধারণ একটি শিঙাড়া। বাজারে যার দাম সাধারণত খুব বেশি হয় না। আর সামান্য সেই শিঙাড়াই কিনা বদলে দিল এক দম্পতির জীবন। উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে এখন দিনে ১৪-১৫ লাখ টাকার শিঙাড়া বিক্রি করছেন ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বেঙ্গালুরুর এক দম্পতি। আর বছরে তাদের এই বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

বেঙ্গালুরুর ওই দম্পতির নাম নিধি সিং এবং শিখর বীর সিং। ২০১৫ সালে এ দম্পতি ‘সামোসা সিং’ নামে তাদের নিজস্ব ফুড স্টার্টআপ শুরু করার জন্য উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে দেন। নতুন এ স্টার্টআপের ধারণাটি শিখরের শিঙাড়ার প্রতি ভালোবাসা এবং এটিকে বেঙ্গালুরু শহরে জনপ্রিয় করার ইচ্ছা থেকে এসেছে। আলোচিত এ দম্পতি স্টার্টআপে তহবিল জোগাতে এবং রান্নাঘরের জায়গা আরও বাড়াতে তাদের কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। আর আজ তাদের কোম্পানির বার্ষিক টার্নওভার ৫০ কোটি টাকা এবং প্রতিদিন শিঙাড়া বিক্রির পরিমাণ প্রায় ১৪-১৫ লাখ টাকা।

ব্যবসা শুরুর আগে শিখর বীর সিং বায়োকন নামক একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান বিজ্ঞানী ছিলেন এবং নিধি সিং ছিলেন ভারতের গুরুগ্রামের ফার্মা কোম্পানির কর্মচারী। চাকরি করার সময় এ দম্পতির একত্রে বেতন প্যাকেজ ছিল ৩৫ লাখ টাকার কাছাকাছি। তবে পরে তারা নিজেদের চাকরি ছাড়ার মতো ঝুঁকি নেন এবং নিজস্ব ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে একটি ছোট দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন ওই দম্পতি। কিন্তু যখন তারা দেখলেন, ব্যবসা বাড়াতে গেলে একটি বড় রান্নাঘরের প্রয়োজন, তখন নিজেদের বাড়ি বিক্রি করে দেন ওই দম্পতি। আর সেই টাকায় বেঙ্গালুরুতে একটি কারখানা ভাড়া নেন নিধি এবং শিখর।

মূলত হরিয়ানার বাসিন্দা ওই দম্পতি নিজেদের যাবতীয় সঞ্চয় ভেঙে এবং সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বড়োসড়ো একটি রান্নাঘরের জায়গা ভাড়া নেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ওই দম্পতিকে।

২০১৫ সালে বেঙ্গালুরুতে ‘সামোসা সিং’ নামে নিজেদের আউটলেট খোলেন তারা। তারপর থেকেই ভারতীয়দের কাছে অতি পরিচিত শিঙাড়া দম্পতির জীবন বদলে যায়। ‘সামোসা সিং’ নামের এ ব্র্যান্ড দিনে প্রায় ৩০ হাজার সিঙাড়া বিক্রি করে। তাদের এ ব্যবসার বাৎসরিক টার্নওভার প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

ব্যবসা শুরুর পর শিখর বীর সিং ও নিধি সিং দম্পতি তাদের মেনুতে বেশ কিছু উদ্ভাবনী সামোসা বা শিঙাড়া নিয়ে আসেন। তাদের সবচেয়ে বিখ্যাত শিঙাড়া হলো বাটার চিকেন এবং কদাই পনির সামোসা। বেঙ্গালুরুর এ দম্পতির এরই মধ্যেই ভারতজুড়ে প্রায় ৪০টি স্টোর রয়েছে এবং তারা এখন তাদের ব্যবসা আরও প্রসারিত করার পরিকল্পনা করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়ো-টেকনলজিতে বি টেক পড়ার সময় আলাপ হয়েছিল নিধি এবং শিখরের। এরপর হায়দ্রাবাদে গিয়ে এম টেক সম্পন্ন করেন শিখর। পরে বায়োকন নামক একটি সংস্থায় প্রিন্সিপাল সায়েন্টিস্ট হিসেবে চাকরি শুরু করলেও পরে তা ছেড়ে দেন শিখর। গুরুগ্রামের একটি ওষুধ সংস্থায় চাকরি করতেন নিধি। তিনিও সেটি ছেড়ে দেন। তাদের সেই সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল না তা ‘সামোসা সিং’ স্টার্টআপের সাফল্যেই প্রমাণিত। ইকোনমিক টাইমস, হিন্দুস্তান টাইমস এবং টাইমস নাউ।

নয়া শতাব্দী/আরআর

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ