ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯, ১৭ মহররম ১৪৪৪

কানাডায় প্রবাসীদের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন  

প্রকাশনার সময়: ২৫ জুন ২০২২, ০০:২৬

পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রক্কালে ছিল নানা বাধা, ষড়যন্ত্র ও সমালোচনা। অর্থের সংস্থান নিয়েও ছিল গভীর অনিশ্চয়তা। প্রথমেই ষড়যন্ত্র ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। দুর্নীতির অজুহাতে ঋণ প্রস্তাব বাতিল করেছিল বিশ্বব্যাংক। ছিল দেশে বিদেশে কঠোর সমালোচনা। এসবের সাথে ছিল প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জও। তবে সকল প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান। দুই প্রান্তের ২১ জেলাকে সংযুক্ত করেছে পদ্মা সেতু।

আজ ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১০ লাখ লোক সমাগম হবে পদ্মা পাড়ে। এদিন সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এই সেতু।

এদিকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে সারাদেশে বইছে উৎসবের আমেজ। পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, সভা-সেমিনারসহ মিষ্টি বিতরণ করছেন দেশবাসী ।

পিছিয়ে নেই প্রবাসীরাও। পৃথিবী বিভিন্ন দেশে অবস্থারত বাংলাদেশীরা এই উৎসবের সাথে সামিল হয়েছেন। নানা আয়োজনে বিদেশেও উদযাপিত হচ্ছে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। আজ শুক্রবার (২৪ জুন) কানাডার টরেন্টো শহিদ মিনারে বর্ণিল আয়োজনের মধ্যে দিয়ে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপিত হয়েছে। এতে যোগ দেন শত শত প্রবাসী বাংলাদেশী।

কানাডার প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটির উদ্যেগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি এফবিসিসিআই'র পরিচালক ও আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ড. যশোদা জীবন দেবনাথ। আলোচনা সভা শেষে জীবন দেবনাথের নেতৃত্বে এক আনন্দ র‌্যালি বের করেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা।

র‌্যালি শেষে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পদ্মা সেতু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সাহসী প্রচেষ্টা ও প্রত্যয়ের ফসল। বছরের পর বছর কষ্টের পর প্রমত্তা পদ্মার বুক চিরে সেতু তৈরির এই সুন্দর স্বপ্ন এখন বাস্তবায়ন হয়েছে। পদ্মা সেতু এখন শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটা বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতীক, আত্মমর্যাদার প্রতীক, এগিয়ে যাওয়ার প্রতিচ্ছবি। দেশের অন্যতম অহংকার ও গৌরবের প্রতীক। আত্মমর্যাদা সম্পন্ন বাঙালির গর্বের আরেকটা নতুন সংযোজনের নাম পদ্মা সেতু। শুধু তাই নয়, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসানও হবে। উদ্বোধনের প্রাক্কালে পদ্মা সেতু নিয়ে প্রশংসায় ভাসছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা এখন দেশ থেকে বিদেশেও। এসময় তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনী আনন্দ উদযাপনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অন্টারিও আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল, বৃহত্তর ফরিদপুর সমিতি কানাডার সভাপতি ইউসুফ শেখ , সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম, ফেরদৌস মো: রাসেল, মোস্তাফিজুর রহমান, রাইসুল ইসলাম , আব্দুস সামাদ হাওলাদার, মো: ওয়াহিদুল আলম, শাকিল আহমেদ, লাভলী, সামিনা আক্তার, রাহিমা বেগম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. যশোদা জীবন দেবনাথ বলেন, পদ্মা বহুমুখী সেতু কেবল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নয়, পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতিই বদলে দেবে। আরও বিশদভাবে বলতে গেলে এই সেতু দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যোগাযোগ, বাণিজ্য, পর্যটনসহ অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সব মিলিয়ে এই সেতু আসলেই দেশের মানুষের স্বপ্নের সেতু হয়ে উঠবে। পদ্মা সেতু বার্ষিক জিডিপিতে এটি প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ অবদান রাখবে। দারিদ্র্য হ্রাস করবে ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াবে। এটি দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগের দরজা খুলে দেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকা, আর নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসই ছিল পদ্মা সেতু গড়ার মূল ভিত্তি। শেখ হাসিনার ইস্পাত সমান দৃঢ়তায় পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান। গর্বের সেতু আজ দাঁড়িয়ে আছে। নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

নয়া শতাব্দী/জিএস

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ