ঢাকা, শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯, ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

অসহায় মানুষের আলাদিনের প্রদীপ!

প্রকাশনার সময়: ২০ জুন ২০২২, ১৩:৪৪

সবার জীবনের ইচ্ছে থাকে একটা আলাদিনের প্রদীপ পাওয়া। যে প্রদীপের গায়ে ঘষা দিলেই একটা জীন বেড়িয়ে আসবে। যার কাছে ইচ্ছে প্রকাশ করলেই পূরণ হয়ে যাবে। কিন্তু ইচ্ছে করলেই কী আর আলাদীনের প্রদীপের জিনের দেখা পাওয়া যায়। তবে জিনের দেখা না পেলেও অনেকেই একজন তাশরীফ খানের দেখা পেয়েছেন। যার ছোঁয়াতেও অনেক সুবিধাবঞ্চিত মানুষ পেয়েছেন ইচ্ছেপূরণের স্বাদ।

গোলাপ দিবসে যার হাত থেকে গোলাপ পায় রিকশাচালক, নিরাপত্তাকর্মী কিংবা দোকানিরা। ভালোবাসা দিবস মানে যার কাছে পথশিশু আর ভিক্ষুকের মুখের হাসি। যার চেষ্টা থাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোন নাচ কিংবা গানের ট্রেন্ড না করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর আনন্দের জন্যে ঈদ শপিংয়ের ট্রেন্ড তৈরি করা।

শুধু তাই নয়, কখনও কোনো গরীব মায়ের চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহ করা, কিংবা কারো পড়াশোনার সকল খরচের দায়িত্ব নেওয়া, বা কারো চোখের আলো ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্বটাও নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি। নিজের যতটুকু সামর্থ্য তা দিয়ে তো সাহায্য করেন বটেই, সেই সাথে সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার বানিয়ে অন্যান্য মানুষের থেকেও অর্থ সংগ্রহ করে পৌঁছে দেন অসহায় মানুষের দ্বারে।

তারকা মানে সাধারণ মানুষের কাছে আকাশের তারা। যা নাকি ধরা যায় না, ছোঁয়া যায়না। কিন্তু ‘কুঁড়েঘর’ ব্যান্ডের জনপ্রিয় তরুণ সংগীতশিল্পী তাশরীফ খান যেন সে ধারণাই বদলে দিয়েছেন। যে কিনা ইচ্ছে করে এসেই ধরা দেন সবার মাঝে। নিজের সব খুশি ভাগাভাগি করে নেন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে।

যে কোনো মানুষের বিপদে যোগাযোগ করলেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তাশরীফ। এখন তিনি ছুটেছেন জলে ভাসা সিলেট শহরে। বেশ কিছুদিন ধরেই সিলেটে অবস্থান করছেন তাশরীফ। সহযোগীদের নিয়ে বন্যাকবলিত মানুষদের সাহায্য করছেন। বারবার সোশ্যাল মিডিয়ায় আহ্বান জানাচ্ছেন তাদের পাশে দাঁড়ানোর। দুদিনে ১৬ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও করেছেন তিনি।

অনেক তারকাই তাদের নিজেদের সাধ্যমত চেষ্টা করছেন বন্যাকবলিত মানুষদের সাহায্য করার। কিন্তু তাশরীফ সেখানে কেবল অর্থ সাহায্য দিয়েই বসে থাকেননি। তিনি হাঁটুজলে নেমে মানুষের কাছে নিজে খাবার পোঁছে দিচ্ছেন, সেনাবাহিনীদের সাথে সহযোগীতা করছেন। সিঙ্গাপুরে কনসার্টের সব টাকা বিলিয়ে দিয়েছেন তাদের সাহায্যে। তার প্রতিটা কথায় প্রকাশ পাচ্ছে তিনি কতটা মর্মাহত মানুষের কষ্টে। এমন তারকা আর কয়জন হতে পারেন?

করোনাকালে লম্বা সময় ধরে চলা লকডাউনের মাঝে যখন লাখ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছিল, অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছিল আর গরিব মানুষগুলোর ঘরে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছিল। সেই সময় ‘তাশরীফ স্কোয়াড’ নামে একটা টিম বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রায় ১৪ লাখ টাকার ফান্ড কালেক্ট করে অসহায় পরিবারগুলোর ঘরে ঘরে গিয়ে খাদ্যসামগ্রীও পৌঁছে দিয়েছিল তাশরীফ।

তাশরীফের ভাষ্যমতে, মানুষের উপকার করে সে প্রচণ্ড আনন্দ পায় এবং কখনোই এই আনন্দ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করতে চান না তিনি। তাশরীফের স্বপ্ন কোনদিন সামর্থ হলে একটি বৃদ্ধাশ্রম এবং এতিমখানা একইঙ্গে স্থাপন করার। যেখানে এতিম বাচ্চাগুলো তাদের মা-বাবা থেকে বঞ্চিত আদরের কিছুটা অংশ পাবে আর বৃদ্ধ মানুষগুলো তাদের সন্তান সমতুল্য কিংবা নাতি-নাত্নির মতো বাচ্চাগুলোর কাছ থেকে একটা সঙ্গ পাবে।

‘ইচ্ছে পূরণ’ ছোটবেলা থেকেই তাশরীফের স্বপ্নের একটা প্রজেক্ট। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে মূলত গরিব পথশিশু, বৃদ্ধ কিংবা যে কোনো বয়সের অসহায়দের একদিনের সবধরনের ইচ্ছেপূরণ করে সে। সেইসঙ্গে চেষ্টা করে তাকে এমন একটা কাজের ব্যবস্থা করে দিতে যার মাধ্যমে তিনি আয় রোজগার করে সংসার চালাতে পারেন।’

গায়কের ভাষ্যমতে, সে মানুষকে সহযোগিতা করতে শিখেছেন বাবার কাছ থেকে। এক সাক্ষাৎকারে তাশরীফ বলেছিলেন, ‘ছোটবেলায় আব্বুকে দেখেছি কেউ সাহাঘ্যের জন্য এলে বা গায়ে বস্ত্র না থাকলে, আব্বু নিজের জামা দিয়ে দিতেন। গত বছর লকডাউনে খেটে-খাওয়া মানুষ খাবারের অভাবে কষ্টে দিনপাতিত করেছে।’

করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউন চলাকালীন বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এখনও ভারতের মানুষ তাকে পূজো করে। সেই সময় অনেককেই বলতে শুনেছি বাংলাদেশে কী এমন কোনো তারকা আছে, যারা মানুষকে সাহায্য করে এইভাবে?

সেই সময় হয়তো আমতা আমতা করতে হয়েছে। কিন্তু এখন এই রকম প্রশ্ন করলে না ভেবেই বলতে পারবো আমাদের একজন তাশরীফ খান আছে। যাকে বিপদে স্মরণ করলেই কাছে পাওয়া যায়।

কয়েক বছর আগে একক প্রচেষ্টায় ব্যান্ড ‘কুঁড়েঘর’ দাঁড় করান তাশরীফ। এখন পর্যন্ত ৮৫টির বেশি মৌলিক গান প্রকাশ করেছে ব্যান্ডটি। প্রতিটি গানই অল্প সময়ের মধ্যে শ্রোতা জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজনদের প্রশংসায় ভাসছে তাশরীফের সেসব গান। কিন্তু তরুণ প্রজন্মের কাছে তাশরীফ গায়ক পরিচয়ে পরিচিত হলেও খেটে-খাওয়া অসহায় মানুষের কাছে তাশরীফ কেবল গায়ক নন, আলাদিনের প্রদীপের সেই জিন, যার কাছে ইচ্ছে প্রকাশ করলেই পূরণ হয়।

নয়া শতাব্দী/এডি

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ