ঢাকা | বৃহস্পতিবার ৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৫ জিলহজ ১৪৪২

কবরীবিহীন তার জন্মদিন

সিহাব হাসান

প্রকাশনার সময়: ১৯ জুলাই ২০২১, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২১, ০৫:০৫

চলচ্চিত্রের ‘মিষ্টি মেয়ে’ খ্যাত সারাহ বেগম কবরীর আজ জন্মদিন। এটাই প্রথম কোনো জন্মদিনের আগমন, যে দিনে নেই তিনি। বলতে গেলে, এবারই প্রথমবার উদ্যাপিত হচ্ছে কবরীবিহীন তার জন্মদিন। এ বছর থেকে প্রতিবারই দিনটি ফিরবে, শুধু ফিরবেন না কিংবদন্তি অভিনেত্রী কবরী। গত ১৭ এপ্রিল করোনা আক্রান্ত হয়ে চিরতরে চলে যান তিনি।

অল্প বয়সে তিনি অভিষিক্ত হয়েছিলেন রূপালি পর্দায়। ১৯৬৪ সালে পরিচালক সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ ছবি দিয়ে অভিষেক ঘটে এ অভিনেত্রীর। বাকিটা ইতিহাস। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাংলা ছবি হিসেবে তাসখন্দ চলচ্চিত্র উৎসবে ব্যাপক প্রশংসিত হয় ছবিটি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘সুতরাং’ দিয়েই বাংলাদেশি ছবির সম্মাননা প্রাপ্তি শুরু। দেশেও ছবিটি দর্শকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়ায়। এই ছবি দেখেই দর্শকরা ‘জরিনা’র নাম দেন ‘মিষ্টি মেয়ে’।

মিনা পাল থেকে কবরী

চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গি বাজারে বেড়ে ওঠা এই অভিনেত্রীর জন্ম ১৯ জুলাই ১৯৫০। ডাক নাম মিনা পাল। নামটি রেখেছিলেন তার পিতা কৃষ্ণ দাস পাল। নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে কাজ করা মেয়েটি মাত্র ১৩ বছর বয়সে নির্বাচিত হন সুভাষ দত্তের আলোচিত ‘সুতরাং’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য। আর এই সিনেমায় অভিনয়ের সময়ই নির্মাতা সুভাষ দত্তের পরামর্শে ‘মিনা পাল’ নামটি বদলে ‘কবরী’ রাখেন কবি সৈয়দ শামসুল হক। অভিনেত্রী কবরী তার ‘স্মৃতিটুকু থাক’ বইয়ে লিখেছেন, ‘রূপালি পর্দায় নায়িকা কবরী নামই হয়ে গেল আমার নতুন জীবনের পরিচয়। আমিও ধীরে ধীরে মিনার খোলস পাল্টে কবরী মোড়কে বন্দি হয়ে গেলাম।’

প্রথমবার ঢাকায়

পরিচালক সুভাষ দত্ত তখন ‘সুতরাং’ ছবির প্রধান অভিনেত্রী খুঁজে বের করার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কবরী বলেন, ‘সেই সময়ে আমাদের পরিবারের সাথে ওই সিনেমার সঙ্গীত পরিচালক সত্য সাহা যোগাযোগ করেন। তিনি সুভাষ দত্তের খুব কাছের লোক ছিলেন। তাদের ছবির অনেক কিছুই আগে ঠিক করা ছিল। শুধু ছবির যিনি প্রধান অভিনেত্রী হবেন সেই চরিত্রে তারা একজন কিশোরী অভিনেত্রী খুঁজছিলেন’। এক পর্যায়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় কিছু ছবি চালাচালির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হন কবরী। এরপর ঢাকায় এসে অডিশন দেন তিনি। ফ্রক পরে বাবা ও বোনের সাথে ঢাকায় এসেছিলেন কবরী। উঠেছিলেন সদরঘাটের কাছে বিউটি বোর্ডিংয়ে। পরিচালক সুভাষ দত্ত অডিশনের সময় শাড়ি পরা অবস্থায় দেখতে চাইলে তার ফ্রকের ওপরেই পরিয়ে দেয়া হয়েছিল শাড়ি।

প্রথম রোজগার

প্রথম ছবি ‘সুতরাং’-এ অভিনয়ের জন্য সাইনিং মানি পেয়েছিলেন কবরী। সাইনিং মানি ছিল ১ হাজার ১১ টাকা, যা ছিল কবরীর প্রথম রোজগার। শুরু হয় অভিনেত্রীর নতুন জীবন অধ্যায়।

অভিনয় থেকে রাজনীতি

তিনি ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০১৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

দাম্পত্যজীবন

চিত্ত চৌধুরী (প্রথম বিয়ে), সফিউদ্দীন সরোয়ার (দ্বিতীয় বিয়ে)

উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র

বাহানা (জহির রায়হান), হীরামন (প্রাচী গোষ্ঠী), ময়নামতি (কাজী জহির), পারুলের সংসার (সিরাজুল ইসলাম), আগন্তুক (বাবুল চৌধুরী), নীল আকাশের নিচে (নারায়ণ ঘোষ মিতা), ঙ (নারায়ন ঘোষ মিতা), বিনিময় (সুভাষ দত্ত), যে আগুনে পুড়ি (আমির হোসেন), আঁকাবাঁকা (বাবুল চৌধুরী), দীপ নেভে নাই (নারায়ন ঘোষ মিতা), স্মৃতিটুকু থাক (আলমগীর কুমকুম), নিজেরে হারায়ে খুঁজি (রুহুল আমিন), রংবাজ (জহিরুল হক), তিতাস একটি নদীর নাম (ঋত্বিক ঘটক), বেঈমান (রুহুল আমিন), মাসুদ রানা (মাসুদ পারভেজ), অবাক পৃথিবী (মোস্তফা মেহমুদ), সুজনসখী (প্রমোদকর), সারেং বৌ (আবদুল্লাহ আল মামুন), বধূবিদায় (কাজী জহির), কলমীলতা (শহীদুল হক খান), দুই জীবন (আবদুল্লাহ আল মামুন), দেবদাস (চাষি নজরুল ইসলাম) ও চেতনা (ছটকু আহমেদ)

জুটি

নায়করাজ রাজ্জাক, ফারুক, বুলবুল আহমেদ

পরিচালিত সিনেমা

আয়না (২০০৬), এই তুমি সেই তুমি (নির্মাণাধীন)

আত্মজৈবনিক গ্রন্থ

স্মৃতিটুকু থাক

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এই পাতার আরও খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x