ঢাকা | শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

ঢালিউড ঘুরে দাঁড়াবে কবে

প্রকাশনার সময়: ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৭:২১
সংগৃহীত ছবি

হলিউড, বলিউড কিংবা টলিউডের অনেক সিনেমাতেই একসঙ্গে অভিনয় করেন ইন্ডাস্ট্রির একাধিক শীর্ষ তারকা। বর্তমান ঢালিউডে সেই চিত্র দুর্লভ। অথচ সিনেমাপ্রেমী মুখে এখনো আশি দশকের তারকাবহুল বিভিন্ন বাংলাদেশি সিনেমার গল্প শোনা যায়। পোস্টারে কিংবা মাইকিংয়ে শোনা যেত, ‘আসিতেছে, আসিতেছে তারকাবহুল ছবি’। আর সেই ছবিগুলোতে থাকত একাধিক সুপারস্টারের প্রতিযোগিতামূলক মনকাড়া অভিনয়। একেকজন দর্শক তাদের পছন্দের একেক তারকাদের দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়তেন সিনেমা হলে। আর সিনেমাও হতো ব্যবসাসফল কিংবা সুপারহিট। সময়ের বিবর্তনে তা আজ অতীত ইতিহাস।

এদিকে, অন্য ইন্ডাস্ট্রিতে এখনো তারকাবহুল সিনেমা নির্মিত হচ্ছে। পাশের দেশ কলকাতার সিনেমাগুলোতেও ইদানিংকালে একাধিক তারকা নায়ক-নায়িকাদের কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। যেমন সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘জুলফিকার’। এই সিনেমায় একদম বাণিজ্যিক ধারার নায়ক থেকে শুরু করে বিকল্পধারার ছবির অভিনয়শিল্পীরাও ছিলেন। এবং ছবিটিও দর্শকদের কাছে প্রশংসিত ও ব্যবসাসফল। তাই ঢালিউডকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে মানসম্পন্ন গল্পনির্ভর সিনেমার পাশাপাশি তারকাবহুল সিনেমা নির্মাণের বিকল্প নেই।

আশির দশকে ঢালিউডে মুক্তি পাওয়া ছবি ‘মানুষের মন’ ছিল তারকাবহুল ছবি। এতে অভিনয় করেন রাজ্জাক, ববিতা, আনোয়ার হোসেন ও রোজী সামাদসহ অসংখ্য তারকা। মোস্তফা মেহমুদ পরিচালিত এই ছবির কাহিনি ও সংলাপ রচনা করেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার এবং চিত্রনাট্য লিখেছেন মোস্তফা মেহমুদ। চলচ্চিত্রটি ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পায়। এরপর অসংখ্য তারকাবহুল ছবি নির্মাণ হতে থাকে এবং ছবিগুলো সিনেমা হলে দর্শকদের চুম্বকের মতো টেনে নিত। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা গাজী মাজহারুল আনোয়ার দুঃখ করে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘দেশীয় চলচ্চিত্রের গোড়াপত্তনের পর থেকে আশির দশক পর্যন্ত এ দেশে মাল্টি স্টার কাস্টিংয়ের ছবি নির্মাণ হতো। সেসব ছবির প্রতি দর্শক আকর্ষণও থাকত আকাশছোঁয়া। তখন ছবি সফল হওয়ার অন্যতম কারণও ছিল এটি একটি। নব্বই দশক থেকে এই অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করলে ছবির বাজারে ধস নামার এটিও একটি কারণ।’

আশির দশক পর্যন্ত যেসব তারকাবহুল ছবি মুক্তি পেয়ে ব্যবসা সফল হয়েছে ও দর্শক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে তার সংক্ষিপ্ত একটি ছবির চিত্র এখানে তুলে ধরা হলো ‘মানুষের মন’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘আবার তোরা মানুষ হ’, ‘ওরা ১১ জন’, ‘অরুণ বরুণ কিরণমালা’, ‘অতিথি’, ‘আলোর মিছিল’, ‘অবাক পৃথিবী’, ‘সূর্যকন্যা’, ‘তিন কন্যা’, ‘লাঠিয়াল’, ‘দোস্ত দুশমন’, ‘অবুঝ মন’, ‘ফকির মজনু শাহ’, ‘ঘর সংসার’, ‘সখী তুমি কার’, ‘দূরদেশ’, ‘শুভদা’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘রাজলক্ষ্মী-শ্রীকান্ত’, ‘ভাই বন্ধু, ‘মেয়েরাও মানুষ’, ‘আমি সেই মেয়ে’সহ আরো অনেক ছবি।

সর্বশেষ ২০১৫ সালে মুক্তি পায় মাল্টি স্টার কাস্টিংয়ের ছবি ‘জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার’। এফ আই মানিক পরিচালিত এই ছবিতে অভিনয় করেন নায়করাজ রাজ্জাক, সোহেল রানা, আলমগীর, সুচরিতা, শাকিব খান, পূর্ণিমাসহ অনেকে।

কেন এখন তারকাবহুল ছবি নির্মাণ হচ্ছে না? এমন প্রশ্নে প্রখ্যাত নির্মাতা হাফিজউদ্দীন বলেন, ‘আসলে এর কারণ অনেক, যেমন আগের শিল্পীদের মধ্যে প্রফেশনাল এবং চ্যালেঞ্জিং বিষয়টি শতভাগ ছিল। তাই সুপারস্টাররা একসঙ্গে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। এখন শিল্পীদের মধ্যে এই সাহস ও আত্মবিশ্বাসের প্রচণ্ড অভাব রয়েছে। দ্বিতীয়ত নানা কারণে সিনেমা হলের সংখ্যা কমে যাওয়া মানে ছবির বাজার সংকুচিত হওয়ায় বিগ বাজেট নিয়ে ছবি নির্মাণে এগিয়ে আসতে নির্মাতারা ভয় পান। কারণ সিনেমা হলের সংখ্যা কম থাকায় লাভ তো দূরের কথা মূলধনই ফেরত আনা সম্ভব নয়।’

নয়া শতাব্দী/এমআর

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন