ঢাকা | শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৭ কার্তিক ১৪২৮

ব্যান্ডে ভাঙা-গড়ার খেলা

প্রকাশনার সময়: ০৯ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৫২

ব্যান্ডে ভাঙা-গড়ার খেলা নতুন কিছু নয়। সময়ের পরিক্রমায় উত্থান-পতন একটি চলমান প্রক্রিয়া। হয়তো ভেঙে যাওয়া ব্যান্ডটি নতুন শিল্পীকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ায়, আবার দলছুট শিল্পীও একক ক্যারিয়ারে নতুন দিনে পথ হাঁটে; সৃষ্টি হয় নতুন কিছু। তবে ভেঙে যাওয়া ব্যান্ডটিকে আর পুরনো স্পিরিটে পাওয়া যায় না কখনো। আর এই ব্যান্ড ভাঙার পেছনে নানা কারণ থাকলেও প্রকৃত কারণ শিল্পীদের স্টারডম কিংবা ভক্তদের কাছে কার কেমন গ্রহণযোগ্যতা সেই হিসাব-নিকাশ! একজনের সঙ্গে আরেকজনের মনোমালিন্য, হিংসা কিংবা একক ক্যারিয়ার এইসব কারণেও ভেঙেছে অনেক ব্যান্ড। বাংলাদেশি ব্যান্ডসংগীতের ইতিহাসে যেসব ব্যান্ডের ভাঙন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে সেগুলো নিয়েই এ প্রতিবেদন সাজিয়েছেন সিহাব হাসান

মাইলস

সম্প্রতি গুঞ্জন উঠেছে ভেঙে গেছে ‘মাইলস’। যদিও এ নিয়ে এখনো স্পষ্টভাবে কিছু বলছে না ব্যান্ডটির সদস্যরা। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি স্টেজ শোতে সেই গুঞ্জনের আভাস রয়েছে। সদস্যদের মধ্যে যে মনোমালিন্য চলছে এই বিষয়টি ধরা পড়ছে যখন আলাদা মিউজিশিয়ান নিয়ে এসব শোতে অংশ নিয়েছেন ব্যান্ডের অন্যতম সদস্য শাফিন আহমেদ।

এর আগেও এমনটা হয়েছে এই ব্যান্ডে। ২০১০ সালে ব্যান্ডে গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকার প্রতিবাদে বের হয়ে যান শাফিন আহমেদ। সেই সময়ে শাফিন-হামিন দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বের বিষয়টা সামনে আসে। ‘রিদম অব লাইফ’ নামে নতুন একটা ব্যান্ডও করেছিলেন শাফিন। পরে অবশ্য ওই বছরই মাইলসে ফেরত আসেন শাফিন। এবার কি সত্যিই ভেঙে গেছে ‘মাইলস’, ভক্তদের মনে উঁকি দিয়েছে এই প্রশ্ন।

ওয়ারফেজ

বাংলাদেশে রক ব্যান্ডের ইতিহাস লেখা যাবে না ‘ওয়ারফেজ’ ছাড়া। ১৯৮৪ সালে যাত্রা শুরু করে এই ব্যান্ড। তিন দশকের পথচলায় ভাঙা-গড়া হয়েছে প্রচুর। প্রথমে ভোকাল ছিলেন রাশেদ, তারপর সঞ্জয়, তারপর কিছুদিন বালাম, তারপর মিজান। বর্তমানে এই ব্যান্ডটিতে ভোকাল হিসেবে রয়েছেন ‘রেডিও অ্যাক্টিভ’র ভোকাল পলাশ। ব্যান্ড ছেড়ে সলো ক্যারিয়ার গড়েছেন বালাম। মিজান বেরিয়ে যাওয়ার পর বালাম ভোকাল হয়েছিলেন। পরে আবার মিজান ফিরে এসেছিলেন। সবশেষ নারী ও শিশু নির্যাতনের এক মামলায় গ্রেফতার হন মিজান। তাকে বাদ দেয়া হয়। পরে মিজান মনে হয় একক ক্যারিয়ারের পাশাপাশি গড়ে তোলেন ‘মিজান এন্ড ব্রাদার্স’ নামে একটি ব্যান্ড। মিজানের পরে ভোকাল হিসেবে ওয়ারফেজে যোগ দেন রেডিও অ্যাক্টিভের পলাশ।

ব্ল্যাক

মিউজিক, গায়কি আর স্টাইল সবকিছুতেই অনন্য ছিল ‘ব্ল্যাক’। কিন্তু নিজেদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় এক পর্যায়ে ভেঙে যায় ব্যান্ডটি। জন-জাহান-টনি-তাহসান-মিরাজ এই ছিল লাইন আপ। এক সময় সলো ক্যারিয়ার গড়তে তাহসান বেরিয়ে যান। রোড অ্যাকসিডেন্টে আহত হয়ে ব্যান্ড, গান দুটোই ছাড়েন মিরাজ। জন বেরিয়ে গিয়ে ‘ইনদালো’ নামের ব্যান্ড করেন। তাহসানও একটা ব্যান্ড করেন ‘তাহসান অ্যান্ড দ্য সুফিজ’ নামে। টনি আর জাহানের ‘ব্ল্যাক’ এখনো আছে তবে আগের মতো আর জৌলুশ নেই।

ভাইকিংস

২০২০ সালে ‘ভাইকিংস’ ছাড়ার ঘোষণা দেন তাদের ভোকাল তন্ময় তানসেন। জানান যে, নতুন দল নিয়ে নতুনভাবে শুরু করবেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হলে কয়েকদিন পরই তন্ময় বলেন ভাইকিংস ছাড়ছেন না তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত ব্যান্ড ছেড়েছেন তন্ময়। গড়ে তুলেছেন ‘ভাইকিং’ নামে নতুন ব্যান্ড। ইতোমধ্যে এই ব্যান্ডের হয়ে তিনি প্রকাশ করেছেন ‘নীল হবো’ নামে একটি গান। এদিকে ‘ভাইকিংস’কে তেমনভাবে পাওয়া যাচ্ছে না গানে।

শিরোনামহীন

যে কোনো ব্যান্ডেই ভোকাল হচ্ছে প্রচ্ছদের মতো। কিন্তু ২০১৭ সালে ১৭ বছরের বাঁধন ছেড়ে বেরিয়ে যান তুহিন। গড়ে তুলেন ‘আভাস’ নামে আরেকটি ব্যান্ড। তুহিনের পর ভোকাল হিসেবে এই ব্যান্ডে যোগ দেন ইশতিয়াক। নতুন ভোকালকে নিয়ে বেশকিছু গানও ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছে শিরোনামহীন। এদিকে তুহিনও তার ব্যান্ড ‘আভাস’কে নিয়ে প্রকাশ করেছেন নতুন গান।

চিরকুট

চিরকুট এখনো ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে। তবে ভোকাল পিন্টু ঘোষ বেরিয়ে গেছেন। ২০০২ সালে চিরকুটের যাত্রা শুরু। ভোকাল সুমি। লাইন আপে আরো আছেন ইমন-দিদার-পাভেল। এখন চিরকুটের সেরা সময় চলছে।

মেঘদল

সর্বশেষ ব্যান্ড ভাঙায় পত্রিকায় শিরোনাম হয়েছে ‘মেঘদল’। ব্যান্ডটির গিটারিস্ট রাশেদ শরীফ শোয়েব গত বছর ঘোষণা দেন মেঘদলে আর নেই তিনি। তবে তার ব্যান্ড ত্যাগে কোনো কাদা ছোঁড়াছুড়ির কথা শোনা যায়নি। ব্যান্ডের অন্য সদস্যরাও শোয়েবের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়।

নয়া শতাব্দী/এমআর

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন