ঢাকা | শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২ আশ্বিন ১৪২৮

সুচন্দার জবানিতে ‘নবাব’

রাব্বানী রাব্বি

প্রকাশনার সময়

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:২৮

আপডেট

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৩৩

অভিনেতা আনোয়ার হোসেন। বাংলা চলচ্চিত্র-সাম্রাজ্যে তিনি ‘মুকুটহীন নবাব’। ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘কাচের দেয়াল’, ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, ‘রংবাজ’, ‘ধীরে বহে মেঘনা’, ‘লাঠিয়াল, ‘রূপালী সৈকতে’, ‘নয়নমনি’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘ভাত দে’সহ অসংখ্য সিনেমায় দর্শকদের কাছে আজও অনন্য তিনি। আজ এই কিংবদন্তি অভিনেতার ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী। তাকে নিয়ে শতাব্দীর শোবিজে কথা বলেছেন অভিনেত্রী সুচন্দা

তিনি (আনোয়ার হোসেন) কি সে রকম মানুষ যে ভুলে যাব! যাদের সঙ্গে আমি কাজ করেছি, সবার কথাই মনে পড়ে। বিশেষ করে আনোয়ার হোসেন, আমি তাকে ‘আনু ভাই’ বলে ডাকতাম। তার কথা তো ভোলার প্রশ্নই ওঠে না। কোনো দিনও ভুলবো না। আনু ভাইয়ের কথা আলাদা করে বলতে হয়। তাছাড়া এতটা বছর সুখে-দুঃখে যাদের সঙ্গে কাজ করেছি, গল্প করেছি- সেই সমস্ত কথা তো আর ভুলে যাওয়ার মতো না; স্মৃতির পাতায় চিরদিন অম্লান হয়ে থাকবে।

আনু ভাইয়ের সঙ্গে অনেক ছবিতে কাজ করেছি। অনেক অনেক ছবি। উর্দু ছবিতেও কাজ করেছি। আমাদের রহমান ছিলেন, তার পরিচালনায় ‘যাহা বাজে সাহনাই’ ছবিতে কাজ করেছিলাম। আনু ভাইয়ের সঙ্গে অভিনয়ের কথা বলতে গেলে ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘স্বপ্নকন্যা’ ছবির কথা বলবো। জহির রায়হান পরিচালিত ‘জীবন থেকে নেয়া’ আমাদের দেশের প্রধান একটা ছবি, সেই ছবিতে আনু ভাই ছিলেন। কিছু কিছু মানুষ, তাদের কথা তো না বলে পারা যায় না, আর ভুলে যাওয়াটাও সম্ভব না। অবশ্যই জহির রায়হানের নাম উল্লেখ করব। তারপরে আরো অনেক পরিচালক ছিলেন, যারা ভালো ভালো ছবি বানিয়েছেন সে সময়- তাদের কথা বলব। এটা আমার সৌভাগ্য যে ষাট-সত্তর দশকে তাদের মতো গুণী পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি। ছোট-বড় সব পরিচালকদের সঙ্গে আমি কাজ করেছি।

নবাব সিরাজউদ্দৌলা চরিত্রে আনোয়ার হোসেন

আনু ভাই (আনোয়ার হোসেন) ছিলেন হাসি-খুশি স্বভাবের মানুষ। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সহশিল্পীদের আপন করে নিতেন। এবং তিনি এত মজা করে কথা বলতেন যে আমরা খুব আনন্দ পেতাম। কাজ করতে করতে হয়তো আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, তার মধ্যে আনু ভাই লোকেশনে বা মেকআপ রুমে এমন একটা কথা বললেন, আমরা তো তার কথা শুনে হাসতে হাসতে লুটোপুটি। খুব মজা পেতাম আমরা। শিল্পীদের মন যে কত সহজ-সরল আর কত সুন্দর হয়- আনু ভাই ছিলেন তেমনই একজন মানুষ। তিনি হয়তো বুঝেছেন, আমরা সবাই খুব ক্লান্ত তবু আমাদের কাজ করতে হবে; সেই পরিবেশটাকে মজার মজার গল্প করে আরো হালকা ও সুন্দর করে তুলতেন আনু ভাই। আমরাও উদ্যোমী হয়ে যেতাম, আবার কাজ করতে ভালো লাগতো। এ রকম একজন অসাধারণ মানুষ ছিলেন তিনি। আর আনোয়ার ভাইয়ের অভিনয়ের তো তুলনা নেই, দারুণ...অসম্ভব ভালো একজন শিল্পী। আর মানুষ হিসেবেও অসাধারণ ভালো মানুষ ছিলেন, মিশুক ছিলেন। তার মধ্যে কখনো কোনো অহংকার দেখিনি আমি। তখনকার শিল্পীরাই ছিলেন এ রকম, যার কথাই বলি না কেন। আনু ভাই মারা যাওয়ার কয়েক দিন আগে আমরা তিন বোনই (ববিতা, চম্পা ও সুচন্দা) গিয়েছিলাম তার সঙ্গে দেখা করতে। তিনি খুব খুশি হয়েছিলেন।

আনু ভাই খুব শক্তিশালী অভিনেতা ছিলেন। তার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার ছিল। বেঁচে থাকলে হয়তো আরো অনেক কিছু দিতে পারতেন। আর তিনি খুব অকপটে কথা বলতেন, কাউকে ভয় পেয়ে কোনো কথা না; যা সত্যি বা অনুভব করতেন সেটাই বলতেন। এবং শিল্পী হিসেবে তো তার জুড়ি নেই, সে কথা আগেই বলেছি।

আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন সুচন্দা

ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। আমার একটা বিষয় খুব কষ্ট লাগে, শুধু কষ্টই না- আমি খুব হতবাক হই। এদেশের মানুষেরা যখন চলচ্চিত্রের শিল্পীদের কথা বলেন, নায়ক-নায়িকাদের কথা উল্লেখ করেন; তখন ষাট কিংবা সত্তর দশকের শিল্পীদের কথা তারা বেমালুম ভুলে যান। কেন? যাদের কারণে বাংলা চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেসব শিল্পী-পরিচালকরা তাদের শ্রম-মেধায় বিদেশি ছবিকে হটিয়ে বাংলা ছবি, দেশের ঐতিহ্য-সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাদের নামই তো উল্লেখ করতে চান না। এমনটা কেন?

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x