ঢাকা, সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২১ শাওয়াল ১৪৪৩

বেগুনি জারুলে সেজেঁছে ববি 

প্রকাশনার সময়: ১৩ মে ২০২২, ১৪:৫১ | আপডেট: ১৩ মে ২০২২, ১৪:৫৫

গ্রীষ্মের প্রখর রোদ্দুরে জারুলের গাঢ় বেগুনি রঙের বন্যা বয়ে যাচ্ছে সর্বত্র। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ও সেজেঁছে এই বেগুনি জারুলে। গ্রীষ্মের এই প্রচণ্ড খরতাপের মধ্যেও চারদিকে প্রশান্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে বেগুনি জারুল। হালকা বাতাসে সবুজ পাতার ফাঁকে মাথা তুলেছে জারুলের বেগুনি পাপড়ি।

সৃষ্টিকর্তার এমন দৃষ্টিনন্দন সৃষ্টি যে কারও চোখ ভরিয়ে তুলবে। এই বেগুনি জারুলের সৌন্দর্যে মেতেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা হল রোডের পাশে সারি সারি জারুল গাছ। গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে বেগুনি রঙের জারুল ফুল। গ্রীষ্মের শুরু থেকেই এসব গাছে মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিচ্ছে জারুল।

যার বেগুনি রঙের আভা ববি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে। কেও কেও ছবি তুলছেন আবার কেউবা ফুলের ভিডিও করে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে নিজের অনুভূতি শেয়ার করছেন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মুহূর্তেই মন ভালো করে দেয় শেখ হাসিনা হলের রাস্তার পাশে সারি সারি জারুল। আগে কখনো এত জারুল দেখিনি। ক্যাম্পাসেই প্রথম দেখা। এই রোডটা ফাল্গুনেও পলাশ ফুলে আগুন রাঙা হয়ে ওঠে। তবে এবার ক্যাম্পাস দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় চারপাশে সবুজে ভরে গেছে। রাস্তায় পরে আছে ঝড়া জারুল। গাছে গাছে ফুটে আছে অসংখ্য জারুল। রাস্তায় প্রবেশ করতেই রোমাঞ্চকর অনুভূতি এনে দেয়।’

জারুল ফুলের বেগুনি বর্ণ যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি সুন্দর তার পাঁপড়ির নমনীয় কোমলতা। ছয়টি মুক্ত পাঁপড়িতে গঠিত এই ফুল। যদিও এর রঙ বেগুনি তবুও অনেক সময় এর রঙ সাদার কাছাকাছি এসে পৌঁছায়। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘লেজারস্ট্রমিয়া স্পেসিওজা’। নামটির প্রথমাংশ এসেছে সুইডেনের অন্যতম তরু অনুরাগী লেজারস্ট্রমের নাম থেকে। স্পেসিওজা ল্যাটিন শব্দ, এর অর্থ সুন্দর। এটি বাংলাদেশের নিম্নভূমির একান্ত অন্তরঙ্গ তরুদের অন্যতম।

জারুল ভারতীয় উপমহাদেশের নিজস্ব বৃক্ষ। এছাড়া চিন, মালয়েশিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে এটি দেখা যায়। এই বৃক্ষ শীতকালে পত্রশূন্য অবস্থায় থাকে। বসন্তে গাঢ় সবুজ পাতা গজায়। গ্রীষ্মে ফোটে অসম্ভব সুন্দর বেগুনি রঙের ফুল এবং এটি শরৎ পর্যন্ত দেখা যায়।

জারুল কাঠ অত্যন্ত শক্ত ও মূল্যবান। ঘরের আসবাবপত্র ও বহুবিধ কাজে জারুল কাঠ সুব্যবহৃত। জারুলের ভেজষ গুণও রয়েছে-জ্বর, অনিদ্রা, কাশি ও অজীর্ণতায় জারুল উপকারী।

কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতায় জারুল এর সরব উপস্থিতি। তিনি লিখেছেন - এই পৃথিবীর এক স্থানে আছে - সবচেয়ে সুন্দর করুণ

সেখানে সবুজ ডাঙ্গা ভরে আছে মধুকুপী ঘাসে অবিরল,

সেখানে গাছের নাম : কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল।

কবি আহসান হাবীব ও তার স্বদেশ কবিতায় লিখেছেন - এই ছবিটি চেনা

মনের মধ্যে যখন খুশি

এই ছবিটি আঁকি

এক পাশে তার জারুল গাছে

দুটি হলুদ পাখি

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ