ঢাকা | বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

কবে উদ্বোধন হবে রিডিং রুম?

উত্তর দিতে বাধ্য নন হল প্রভোস্ট
প্রকাশনার সময়: ২৫ নভেম্বর ২০২১, ১০:০২ | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২১, ১১:৫২

‌‘এটা নিয়ে তোমার চিন্তার কি? রিডিং রুম তৈরি করতেছে প্রভোস্ট। প্রভোস্ট এটা প্রশাসনকে দিয়ে উদ্বোধন করাবে। উদ্বোধনের পর সবার জন্য উন্মুক্ত হবে। তোমরা সাংবাদিকরা যদি এমন পার্সোনালি ধরে ধরে সংবাদ প্রকাশ করো ওগুলোতো আসলে ভালো না। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা উন্নয়ন হবে এটা সবার জন্য কল্যাণকর। দত্ত হল কবে উদ্বোধন হবে, কেন উদ্বোধন হবে এগুলা আমার মনে হয় না সংবাদ প্রকাশের দরকার আছে।’

‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো অনেক সমস্যা আছে ওগুলা নিয়ে কাজ করতে পারো না? রিডিং রুম উদ্বোধন একটি ছোট বিষয় ওটা নিয়ে কেন চিন্তা করতে হবে। এগুলার উত্তর দিতে আমি তোমার কাছে বাধ্য না।’

উদ্বোধন জটিলতায় আটকে থাকা কুবির শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল খোলার বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট ড. জুলহাস মিয়া সাংবাদিকদের এসব বলেন।

খোজঁ নিয়ে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার ১১ বছর পরও স্বতন্ত্র কোন রিডিং রুম তৈরি করতে পারেনি দত্ত হল প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য তিনটি হলে রিডিং রুমের ব্যবস্থা থাকলেও সবচেয়ে পুরনো এই হলে নেই তেমন ব্যবস্থা। এছাড়া আবাসন সংকটের ফলে ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক গণরুমে থাকতে হয়।

প্রতিটি গণরুমে প্রায় ২০-৪০ শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে বাস করেন। যেখানে পড়াশুনার কোন সুযোগ সুবিধা নেই। ফলে পড়াশুনা করার একমাত্র স্থান থাকে রিডিং রুম। কিন্তু রিডিং রুম না থাকায় হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা পড়াশুনার করার কোন পরিবেশ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

বিভিন্ন সময়ে প্রভোস্ট বরাবর রিডিং রুমের দাবি জানালেও তেমন কোন উদ্যােগ নিতে দেখা যায়নি। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে রিডিং রুমের জন্য একটি রুম বরাদ্ধ হলেও কবে চালু হবে জানেন না কেউ।

সরেজমিনে জানা যায়, ৫ম তলা বিশিষ্ট শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের নিচের তলার একটি রুমকে (১০২) রিডিং রুমের জন্য বরাদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার পরও উদ্ধোধনে নেই তেমন কোন উদ্যােগ। ফলে রিডিং রুম হলেও সুফল পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা।

দ্রুত হলে রিডিং রুম চালুর দাবি জানিয়ে হলের শিক্ষার্থী রাজিব সরকার বলেন, আমাদের ভার্সিটিতে লাইব্রেরী থাকলেও সেখানে বাহির থেকে কোনো বই বা ল্যাপটপ নেওয়ার অনুমতি নেই। আর আমাদের পড়ানো হয় এমন বেশির ভাগ বই লাইব্রেরীতে থাকে না। তাই দ্রুত সময় রিডিং রুম চালু করা দরকার। আর এমনিতে হলের গণরুমে সারাক্ষণ হই হুল্লোড় এর মাঝে পড়াশোনা করা অনেক কষ্টকর। আমরা চাই দ্রুত রিডিং রুম চালু হোক।

হলের আরেক শিক্ষার্থী শরীফ মিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার পরপরেই আমাদের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। রিডিং রুম চালু না হওয়ার কারণে গণরুমের শিক্ষার্থীদের সিনিয়রদের রুমে গিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। প্রায় সময়ই তাঁদের রুমে গিয়ে পড়াশোনা করা সম্ভব হয় না।

আবাসিক শিক্ষার্থীরা দ্রুত রিডিং রুম উদ্বোধনের দাবি করলেও কবে নাগাদ রিডিং রুম চালু হবে জানেন না কেউই।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, বিষয়টি জানতে পারলাম। দত্ত হলের প্রভোস্টের সাথে বসে কি কি সমস্যা আছে জেনে সমাধান করার চেষ্টা করবো।

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন