ঢাকা | শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

আজ ১৭ বছর পদার্পনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশনার সময়: ২০ অক্টোবর ২০২১, ১১:৫৩

গৌরব, ইতিহাস ও ঐতিহ্যে প্রতিষ্ঠিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পদার্পণ করেছে ১৭ বছরে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি পা রাখছে ১৬৩ বছরে। ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর জাতীয় সংসদে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। যাত্রার অল্প কয়েক বছরেই বিশেষত ২০০৯ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি উচ্চ শিক্ষার্থীদের তীর্থস্থানে পরিণত হয়।

ইতিহাস বলে, ১৮৫৮ সালে দীননাথ সেন, প্রভাতীচরণ রায়, অনন্তবন্ধু মল্লিক এবং ব্রজসুন্দর কৈত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পুরান ঢাকার 'ব্রাহ্মস্কুল' পরে মানিকগঞ্জের বালিয়াটির জমিদার জগন্নাথ রায় চৌধুরীর ছেলে কিশোরীলাল চৌধুরী ১৮৭২ সালে 'জগন্নাথ স্কুলে' রূপ দেন।

১৮৮৪ সালে এটি একটি দ্বিতীয় শ্রেণির কলেজে ও ১৯০৮ সালে প্রথম শ্রেণীর কলেজে পরিণত হয়। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা শুরু হলে জগন্নাথ কলেজের স্নাতক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয় অবনমিত হয় ইন্টারমিডিয়েট কলেজ।

তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের ডিগ্রির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গ্রন্থাগারের বই পুস্তক ও জার্নাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সাজাতে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ গ্রন্থাগারের ৫০ ভাগ বই দান করা হয়। পাঠশালা থেকে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও কলেজ পেরিয়ে পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নতুন হলেও প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে সুদীর্ঘ দেড়শ বছরেরও পুরনো ইতিহাস। বাংলদেশের ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ৬ দফা ও ১১ দফার আন্দোলন এবং উনসত্তরের গণঅভ্যুথান ও মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি আন্দোলনের ইতিহাসে জগন্নাথের অবদান কখনো অস্বীকার করার মতো নয়।

প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পর প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় কর্তৃপক্ষ নিজেরাই বহন করে। ২০১১ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে প্রকৃত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা অর্জন করে।

বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি অনুষদে ৩৬টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউটে প্রায় ৬৭৯ জন শিক্ষক, ১৩ হাজার ১৬৫ জন শিক্ষার্থী, ৬৮৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে সাতটি শিক্ষাবর্ষে ২১৪ জন শিক্ষার্থী এমফিল ও ৮৭ জন পিএইচডি করছেন।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ৩১টি বিভাগ। ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের অন্তর্গত বিবিএ এবং এমবিএ প্রোগ্রাম ইতিমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশ-বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনকারী একদল শিক্ষক নিষ্ঠার সঙ্গে এই অনুষদে অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখে চলেছেন। এ ছাড়াও খুব কম সময়ের মধ্যে এই অনুষদের বিভাগগুলো উচ্চতর গবেষণা তথা এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু করেছে।

১৯৮৫ সালের আগে সাবেক জগন্নাথ কলেজের (বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) কয়েকটি হল, হোস্টেল ও ডরমেটরি ছিল। ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা তাদের আবাসিক হলের জন্য একাধিকবার আন্দোলন করেন। স্থানীয় প্রভাবশালীদের ক্ষমতার অপব্যবহারের ফলে তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে বেশি আবাসিক হল থাকা জগন্নাথ কলেজ থেকে হাতছাড়া হয় সব আবাসিক হল। উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এখন পর্যন্ত আবাসনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে এরই মধ্যে নির্মিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল। শুরু হয়েছে ছাত্রীদের ওঠানোর প্রক্রিয়াও।

বিশ্ববিদ্যালয়টি মাত্র ১১ দশমিক ১১ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। অবশ্য ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে এক হাজার ৯২০ কোটি ৯৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। কিন্তু তিন বছর পার হলেও ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়া প্রকল্পে নেই কোনো অগ্রগতি।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ ইমদাদুল হক বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি প্রকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দিতে আমি কাজ করছি। আমরা গবেষণা খাতে গতবারের চেয়ে বাজেট ডাবল করে দিয়েছি। সাথে সাথে লাইব্রেরী, আইসিটি, কম্পিউটার কেনা এসকল ক্ষেত্রে বাজেট বাড়ানো হয়েছে। আমি উপাচার্য হয়ে আসার সাথে সাথে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও গবেষণা শিল্প পরিষদ (বিসিএসআইআর) এর সাথে চুক্তি করেছি যাতে আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সহজে গবেষণা করতে পারে। আমরা শীঘ্রই পরমাণু শক্তি কমিশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের সাথে চুক্তি করবো।#

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন