ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ৫ কার্তিক ১৪২৮

‘শিগগিরই অভিযান পরিচালনা হবে কুবির হোটেলগুলোতে’

মানছুর আলম, কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশনার সময়: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:০১ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:০৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাসের আশেপাশের হোটেলগুলোতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে খাবার এবং তা বিক্রি করা হচ্ছে চড়া দামে। যার কারণে বিপাকে পড়তে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের। এছাড়াও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার রান্না হওয়ায় খাবারের মান নিয়ে শঙ্কা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

করোনা সংক্রমণের প্রভাবে গতবছরে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে তার সাথে বন্ধ হয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়াটিও। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিনবার সশরীরে পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করলেও এখনো বন্ধ রয়েছে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়াটি। যার ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খাবার খেতে হচ্ছে ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থিত হোটেলগুলোতে।

বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন হোটেলগুলোতে পরিদর্শন করে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের সামনের মায়ের দোয়া হোটেল, মামা হোটেল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মানাধীন শেখ হাসিনা হল সংলগ্ন নবী মামার হোটেলসহ প্রায় সবগুলোতেই অনেকটা অস্বাস্থ্যকর এবং নোংরা পরিবেশে রান্না হচ্ছে খাবার। তিনটি হোটেলের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে ময়লার ড্রেন। খাবার যেখান থেকে পরিবেশিত হয় সেখানে মাছির বেশ আনাগোনা এবং খাবারের ডালাগুলোতে নেই কোন সুরক্ষিত ঢাকনা।

এছাড়াও হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে খাবারের দামও অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যার জন্য প্রতিবেলা খাবার খেতে শিক্ষার্থীদের প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিতান্তই কঠিন।

হোটেলগুলোতে নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া করা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী নয়া শতাব্দীকে জানায়, ‘হোটেলগুলো ইচ্ছেমতো দাম রাখে। আর খাবারগুলো অস্বাস্থ্যকর। তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই হোটেলগুলোর খাবার খায়। তাছাড়া আগের দিনের খাবার গরম করে খাওয়ানো হয় ফলে পেটব্যথা, ডায়েরিয়াসহ নানারকম অসুস্থতায় ভুগতে হচ্ছে তাদের। এই অবস্থায় তাদের দাবি দ্রুত ক্যাফেটেরিয়া খুলে দেওয়া হোক।'

খাবার হোটেলগুলোর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও ক্যাফেটেরিয়া খোলার সম্ভাব্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার(অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের শুধু পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে তাই এই মূহুর্তে ক্যাফেটেরিয়া খোলা সম্ভব নয়। আর হোটেলগুলো যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরে অবস্থিত তাই আমাদের পক্ষে সরাসরি মনিটরিং করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা তাদের স্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনের কথা বলতে পারি।’

এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শুভাশিস ঘোষ বলেন, ‘আমরা শিগ্রই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করবো। উপযুক্ত প্রমাণ ফেলে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন