ঢাকা | সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৫ আশ্বিন ১৪২৮

পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীদের ফের বিক্ষোভ

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশনার সময়

১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:০৩

আপডেট

১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:২২

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীরা পাশ করিয়ে দেওয়ার দাবিতে ফের বিক্ষোভ করেছে।

রোববার গাজীপুরের বোর্ডবাজারস্থিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে তারা এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।

জিএমপি’র গাছা থানার ওসি ইসমাইল হোসেন ও এলাকাবাসি জানায়, ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার ফল গত ২০ জুলাই প্রকাশিত হয়। ওই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া চট্রগ্রাম সরকারি কলেজ, বরিশাল বিএম কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, টঙ্গী সরকারি কলেজ ও সিদ্ধেশ্বরী মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রোববার সকালে গাজীপুরের বোর্ডবাজারস্থিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে একই দাবিতে তারা গত ১১ ও ১৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ ও আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেছে তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, গত ২০ জুলাই ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। ফলাফলে ৭২ শতাংশ কৃতকার্য হয়। অবশিষ্ট ২৮ শতাংশ পরীক্ষার্থীকে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। এ ফলাফল নিয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। ঘোষিত ফলাফলে সাড়ে ২৪ হাজারের বেশী শিক্ষার্থীকে এক বিষয়ে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। স্বশরীরে পরীক্ষায় অংশ নিলেও অনেক শিক্ষার্থীকে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী চতুর্থ বর্ষের ১০টি কোর্সের মধ্যে ৯টিতে প্রথম শ্রেণি পেলেও তুলনামূলক সহজ বিষয়ে যেমন সাংগঠনিক আচরণ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ইত্যাদিতে গণহারে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। যা হতাশাজনক ও লজ্জাদায়ক। আশানুরূপ ফলাফল না আসায় শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষের সৃষ্টি হওয়ায় তারা এ ফলাফল মেনে নিতে পারছেন না।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভালো পরীক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও দায়সারাভাবে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

এছাড়াও উক্ত শিক্ষাবর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা ২০১৯ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও দুই বছর দেরীতে ২০২১ সালে শেষ হয়। চার বছরের বিপরীতে ছয় বছর লেগে যাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা অনেক পিছিয়ে পড়েছে এবং চাকুরির পরীক্ষা হতে বঞ্চিত হয়েছে। তাই ওই পরীক্ষার ফলাফল সঠিক মূল্যায়ন করে শীগ্রই ফলাফল ঘোষণার দাবি জানান আন্দোলনরতরা।

নতুন করে পরীক্ষার খাতাগুলোর নম্বর প্রদান সম্ভব না হলে পুনঃনিরীক্ষণের মাধ্যমে ন্যূনতম গ্রেড দিয়ে অকৃতকার্যদের উত্তীর্ণ করিয়ে দেয়ার দাবি করেন। পরীক্ষার খাতার সঠিক মূল্যায়নের পরেও কোন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলে শীগ্রই অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে পরীক্ষা সম্পন্ন করে তাদের ফলাফল প্রদানেরও দাবি জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এ ব্যাপারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বদরুজ্জামান জানান, ইতোমধ্যে ২২ হাজার শিক্ষার্থীর ২৬ হাজার খাতা পুনঃমূল্যায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ওই খাতা পুনঃমূল্যায়নের পর ছাত্র-ছাত্রীদের দাবির বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে শতকরা ২৮ ভাগ ফেল করার বিষয়টি সঠিক নয়। কারণ এখানে অন্ততঃ ১০ ভাগ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।

নয়া শতাব্দী/এম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x