ঢাকা | সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৫ আশ্বিন ১৪২৮

কুবিতে মশার প্রকোপ বৃদ্ধি, আতঙ্ক ডেঙ্গু

মানছুর আলম, কুবি

প্রকাশনার সময়

১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০

আপডেট

১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:২৭

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যত্রতত্রে ময়লা আর্বজনার স্তূপ, ড্রেন- নর্দমাগুলো জমে থাকা পানি থেকে মশার প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ডেঙ্গু আতঙ্কে পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পাহাড় ঘেরা ক্যাম্পাসটির প্রায় সর্বত্রই ঝোপঝাড়পূর্ণ হয়ে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন বিভিন্ন ভবনের চারপাশ, আবাসিক হলসমূহের চারপাশ, একাডেমিক ভবন, ডরমেটরির পিছনের অংশে ময়লা আর্বজনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বিভিন্ন স্থানে জমে আছে ময়লা পানি। এছাড়া কলা ও মানবিক এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনের কূপে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে আছে। এ ময়লা পানিতে মশা ছাড়া বিভিন্ন পোকামাকড় বিচরণ করছে। ফলে সেখান থেকে নিয়মিতই জন্ম নিচ্ছে মশা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন ধরণের উদ্যোগ নিচ্ছেন না।

জানা যায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। যার ফলে কর্মকর্তা কর্মচারীদের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে ফিরছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা প্রহরী ও আনসার সদস্যদের ক্রমান্বয়ে ২৪ ঘণ্টাই দায়িত্ব পালন করতে হয়। কিন্তু মশা নিধনের জন্য কোন ধরণের প্রয়োজন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের দাবি দ্রুত কীটনাশক ছিটানো ও মশা নিধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

এদিকে সারাদেশের মতো কুমিল্লা অঞ্চলে বৃদ্ধি পাচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। কুমিল্লায় সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ৮ দিনেই ১৮ জন আক্রান্ত হয়েছে। সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বরকে ডেঙ্গু মৌসুম মনে করা হলেও অক্টোবর নভেম্বরেও থাকে ডেঙ্গুর প্রকোপ। এমতাবস্থায় ক্যাম্পাসবাসীদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে ডেঙ্গু।

বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বরত এক প্রহরী বলেন, দিনে রাতে মিলিয়ে আমাদেরকে ২৪ ঘণ্টাই দায়িত্ব পালন করতে হয়। দিনের বেলা মশার উপদ্রব কম থাকলে সন্ধ্যার পর থেকে তা অনেক বৃদ্ধি। দাঁড়িয়ে থাকাই সম্ভব হয়না।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবিএস ফরহাদ বলেন, কোভিডের পাশাপাশি দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ফলে এখানে ঝোপঝাড় বেশী। যেখানে মশা উৎপন্ন হয়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ময়লা আবর্জনা, ময়লা পানি আটকে আছে। যেখান থেকে মশা উৎপন্ন হচ্ছে। যা পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। প্রশাসনের উচিত হবে পূর্বের ন্যায় মশা নিধন অভিযান শুরু করা এবং কীটনাশক ব্যবহার করা। তাহলে আমাদের ডেঙ্গুর উদ্বিগ্নতা দূর হবে।

ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য পরামর্শ স্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি চীফ ডাঃ মাহমুদুল হাসান খান বলেন, ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি সবাই দিনে কিংবা রাতে যখনই ঘুমাক মশারি টানিয়ে যেন ঘুমায়।

বিশ্ববিদ্যালয় এস্টেট শাখার সাথে যোগাযোগ করা হলে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমাকে এ ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি। আর আমাদের কাছে অত উন্নত মানের কোনো সরঞ্জামও নেই যে ব্যবস্থা নিবো। এগুলোতো সবসময় সিটি করপোরেশন থেকে করা হয়। এবছর এখনো তাদের কাছে আবেদন করা হয়নি। রবিবার অফিসে আসলে এ ব্যাপারে একটা ব্যবস্থা নিবো।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মো. দলিলুর রহমান বলেন, আমি এ সম্পর্কে সঠিক বলতে পারবো না। এ বিষয়ে এস্টেট শাখাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা কোনো ব্যবস্থা নিয়েছি কিনা আমার জানা নেই। আপনি তাদের সাথে কথা বলে দেখতে পারেন।

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x