ঢাকা | রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮

যেভাবে হবে ক্লাস

শতাব্দী প্রতিবেদক

প্রকাশনার সময়

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:২৭

১২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের সব প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির পক্ষ থেকে স্কুল-কলেজ খোলার পক্ষে মত দেয়া হয়েছে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক থেকে শুরু

করে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার চাঁদপুরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হলেও কী পন্থায় ক্লাস হবে তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও শুরুতে একসঙ্গে সব শ্রেণির ক্লাস হবে না। প্রথমে হয়তো এ বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং আগামী বছরের পরীক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস থাকবে। বাকি শ্রেণির ক্লাস গোড়াতে এক দিন করে হবে। পরে অবস্থা বুঝে ধীরে ধীরে ক্লাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে অনলাইন ও টেলিভিশনের ক্লাসও চলবে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে বৈঠক করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পক্ষে মত দেয় করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা জানান, করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ পজিটিভ হার থেকে ৭০ শতাংশ কমে যাওয়া এবং ধীরে ধীরে করোনার টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়ায়; সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বেশ কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া সাপেক্ষে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া যায়।

গত ২৬ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সভায় পরিকল্পনা করা হয়, টিকা দেয়া সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগামী ১৫ অক্টোবরের পর থেকে খুলতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, ১৫ অক্টোবরের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেটি আলোচনা সাপেক্ষে পরিবর্তিত হতে পারে। অর্থাৎ, এগিয়ে আসতে পারে। অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষা বিষয়ে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেয়। ২৬ আগস্টের ওই সভায় উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত করোনা সংক্রমণের হার ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে নামলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যায় কিনা, সে বিষয়ে করোনাসংক্রান্ত কারিগরি পরামর্শক কমিটির পরামর্শ চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে বৈঠকে বসে কারিগরি কমিটি। সেখানেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পক্ষে মত উঠে আসে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার বিষয়ে আগামী রোববার আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে হয়তো আরো বিস্তারিত বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

জাতিসংঘ শিশু তহবিল বা ইউনিসেফের ২৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিডের কারণে স্কুল বন্ধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম দেশ। দীর্ঘ বন্ধের ফলে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত চার কোটির বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় সবকিছু খুলে দেয়ার পর এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। ১৮ আগস্ট সচিব সভায় করোনাসংক্রমণ পরিস্থিতি এবং টিকা দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে বলেছেন, শিগগিরই স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে।

নয়া শতাব্দী/এমআর

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x