ঢাকা, সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২১ শাওয়াল ১৪৪৩

ঊর্ধ্বমুখী পেঁয়াজ-ডিম-সবজি-মুরগির দাম

প্রকাশনার সময়: ১৩ মে ২০২২, ১১:৪৭

গত সপ্তাহের তুলনায় বাজারে দাম বেড়েছে পেঁয়াজ, ডিম, সবজি, মুরগি ও কাঁচা মরিচের। এছাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে অন্যান্য পণ্যের দাম ও সবজি দাম। শুক্রবার (১৩ মে) সকালে রাজধানীর মিরপুরের ১১ নম্বর বাজার, মিরপুর কালশী বাজার ও পল্লবী এলাকা, রায়ের বাজার, সাদেক খান কৃষি মার্কেট ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

এদিকে, সবজির বাজারের দাম নিয়ে ব্যাপক ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। তারা বলছেন, প্রতিটি সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী। বাজার করতে এসে আমরা কেউ সুস্থ্য মেজাজে বাড়ি ফিরতে পারি না।

এসব বাজারে প্রতিকেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, টমেটো ৬০ টাকা, করলা ৯০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, মটরশুঁটি ১২০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতিপিস ৫০ টাকা, প্রতিপিস লাউ আকারভেদে ৬০ টাকা, কাঁচা কলা ৪০ টাকা ও লেবু ২০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা আবু বকর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজার ঊর্ধ্বমুখী। আর কি বলবো। দোয়া করি সবাই ভালো থাকুক। কারও তো বাজার যাচাই করা লাগে না, বাজার একা একাই যাচাই হয়। বাজার কেমন আছে, তা বাণিজ্যমন্ত্রীকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন। আমাদের সঙ্গে কথা বলে কোনো লাভ নেই। তারা যা ভালো বুঝেন তাই করেন। আমরা জণগণ বাজার থেকে পণ্য কিনতে পারলাম কি, পারলাম না সেটা তো আর তাদের দেখার বিষয় না।

রায়ের বাজারের সবজি বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাজারে ঈদের পরে সবজির চাহিদা বেড়েছে। রোজায় ক্রেতারা সবজি কম খেয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সবজির দামও বেড়েছে। দাম বাড়ার কারণ হচ্ছে গত কয়দিনের বৃষ্টি।

এসব বাজারে কাঁচামরিচ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা। কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ টাকায়।

বাজারে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে আলু। আলু প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা। কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। ৩৫ টাকার পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে। আর একটু ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা কেজি দরে।

সাদেক খান কৃষি মার্কেটের পেঁয়াজ বিক্রেতা শাহরিয়ার বলেন, মূলত আমদানি বন্ধ থাকায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে।

এসব বাজারে চায়না রসুন প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। দেশি রসুন ৫০ টাকা। দেশি আদা ৮০ টাকা। চায়না আদার দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে।

প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। এছাড়া প্যাকেট চিনি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। দেশি মসুরের ডালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।

এসব বাজারে বেড়েছে ডিমের দাম। লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকা। হাঁসের ডিমের ডজন ১৬০ টাকা। দেশি মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়।

ডিম বিক্রেতা ইমরান মাসুদ বলেন, গত তিন দিনের বৃষ্টির কারণে ডিমের দাম বেড়েছে। ঈদের পরে বাজারে ডিমের চাহিদা বেড়েছে। ডিমের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে দামও বেড়েছে।

বাজারে গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকায়। খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকায়।

এসব বাজারে বেড়েছে মুরগির দাম। ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩১০ টাকা। লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায়।

১১ নম্বর বাজারের মুরগি বিক্রেতা মন্টু মিয়া বলেন, মুরগির খাবারের দাম বাড়ায় খামারিরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। দাম বাড়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে গত তিন-চার দিনের বৃষ্টি। এছাড়া রয়েছে সিন্ডিকেটের প্রভাব।

নয়া শতাব্দী/এস

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ