ঢাকা | সোমবার ২ আগস্ট ২০২১, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮, ২২ জিলহজ ১৪৪২

কোরবানির পশুর চামড়া কেনার ঋণে শর্ত শিথিল

শতাব্দী প্রতিবেদক

প্রকাশনার সময়: ১৫ জুলাই ২০২১, ০০:০০ | আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২১, ০৩:১৫

ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের বিশেষ ঋণ সুবিধা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগের বছরের অপরিশোধিত ঋণের ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৩ বছর মেয়াদে পুনঃতফসিল করার সুযোগ পাবে। এ ছাড়া অগ্রিম জমা অর্থাৎ কোনও ধরনের কম্প্রোমাইজড অ্যামাউন্ট ছাড়াই এবার ঋণ নিতে পারবেন। এ সুবিধা চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পাবেন কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ীরা।

গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

জানা গেছে, প্রতি বছর ঈদুল আজহার আগে এ ঋণ দেয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী যারা আগের বছরের ঋণ পুরোপুরি শোধ করে শুধু তারাই এ ঋণ পায়। এ ছাড়াও ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের বিবেচনায় অনেক প্রতিষ্ঠান ঋণ দিয়ে থাকে। তবে করোনা মহামারীতে কাঁচামাল সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্য এ খাতে ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার দিতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একইসঙ্গে চামড়া ক্রয়ের সুবিধার্থে বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয়া হয়েছে। তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চামড়া ক্রয়ের উদ্দেশে চামড়া ব্যবসায়ীদের (কাঁচা চামড়া ক্রয়-বিক্রয়/প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্যানারি শিল্পসহ চামড়া খাতের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প) প্রতি বছর তফসিলি ব্যাংকগুলো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণ বিতরণ করে থাকে। চামড়া শিল্পে বিরাজমান সমস্যাসহ কোভিড-১৯-এর নেতিবাচক প্রভাবজনিত কারণে ২০২০ সালে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া ক্রয়ের জন্য দেয়া ঋণের কিছু অংশ অনাদায়ী রয়েছে বলে জানা গেছে।

ফলে ২০২১ সালের আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া কেনার প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধা দেয়া তফসিলি ব্যাংকগুলোর পক্ষে দুরূহ হয়ে পড়েছে। সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, দেশীয় চামড়া শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের প্রায় অর্ধেক জোগান আসে প্রতি বছর কোরবানির পশুর চামড়া থেকে। এ সময় চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করা গেলে একদিকে মূল্যবান কাঁচামাল সংরক্ষণ করা সম্ভবপর হবে, অন্যদিকে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আর্থিকভাবে উপকৃত হবে।

সার্বিক বিবেচনায় নিয়ে, ২০২০ সালে কোরবানির পশুর চামড়া কেনার ঋণের অপরিশোধিত অর্থের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গোডাউনে স্টক বা সহায়ক জামানত থাকা সাপেক্ষে ওই অপরিশোধিত অর্থের ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট নিয়ে সর্বোচ্চ ৩ তিন বছর মেয়াদে পুনঃতফসিল করতে পারবে। এ পদ্ধতিতে পুনঃতফসিলিকরণের পর ব্যাংকিং নিয়মাচার অনুসরণ করে ব্যাংকগুলো ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ২০২০ সালের পূর্বনির্ধারিত কোটার (বরাদ্দ করা অর্থের) সমপরিমাণ ঋণ দিতে পারবে।

এ ছাড়া ঋণগ্রহীতাদের অনুকূলে ২০২১ সালে কোরবানির পশুর চামড়া কিনতে নতুন ঋণ দেয়ার সময় কোনও ধরনের কম্প্রোমাইজড অ্যামাউন্ট আদায় করা যাবে না বলে সার্কুলারে বলা হয়েছে।

সার্কুলারের নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং সুবিধাটি চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, চামড়া খাতে দেয়া ঋণ সহজে আদায় হয় না, এ কারণে বেসরকারি ব্যাংকগুলো এই ঋণে তেমন আগ্রহী নয়। কিন্তু শিল্পের স্বার্থে প্রতিবারই কাঁচা চামড়া কিনতে স্বল্পমেয়াদী ঋণ দেয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। এর ধারাবাহিকতায় এবারো কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া কিনতে ঋণ দেবে। কাঁচা চামড়ার বড় সরবরাহ আসে এই কোরবানির ঈদে। ব্যবসায়ীরাও এ ঈদে বেশি চামড়া সংগ্রহ করে থাকেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এ খাতের মন্দা অবস্থা বিরাজ করছে। ফলে আগের নেয়া ঋণ সিংহভাগই আদায় হয়নি।

বিভিন্ন ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ঈদুল আজহার আগে ৫ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ ৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক এ খাতে বরাদ্দ রেখেছিল ৬৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কিন্তু এর বিপরীতে ব্যবসায়ীরা ঋণ নিয়েছিল মাত্র ৬৫ কোটি টাকা। এবারো চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের প্রায় ৬০০ কোটি টাকার মতো তহবিলের জোগান দিতে বরাদ্দ রেখেছে চার রাষ্ট্রায়ত্তসহ ৬ বাণিজ্যিক ব্যাংক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রেখেছে রূপালী ব্যাংক ২২৭ কোটি টাকা। এরপর জনতা ব্যাংক ১৪০ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংক ১২০ কোটি টাকা এবং সোনালী ব্যাংক ২৫ কোটি টাকা।

বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে চামড়া কিনতে বেশি বরাদ্দ রেখেছে ইসলামী ব্যাংক ৬৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ব্যাংকাররা জানান, বেশ কয়েক বছর ধরেই পশুর চামড়া বাণিজ্যে এক ধরনের মন্দভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। এর প্রভাবে ব্যবসায়ীরা আগের মতো ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না। ফলে বেড়ে যাচ্ছে খেলাপি ঋণ। তবে এ সুবিধায় খেলাপি ঋণ কমার পাশাপাশি চামড়া কিনতে ঋণও নিতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।

নয়া শতাব্দী/এসইউ

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এই পাতার আরও খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x