ঢাকা | সোমবার ২ আগস্ট ২০২১, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮, ২২ জিলহজ ১৪৪২

ভারতের রফতানি বাজারে বাংলাদেশের অগ্রগতি

শতাব্দী ডেস্ক

প্রকাশনার সময়: ১৪ জুলাই ২০২১, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২১, ০২:০৪

২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরে সামগ্রিকভাবে ভারতের রফতানি ৭ শতাংশ কমে গেলেও ভারত থেকে বাংলাদেশে রফতানি প্রায় ১১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশ বর্তমানে ভারতের পঞ্চম বৃহৎ রফতানি বাজার। ২০২০-২১ অর্থবছরে চার ধাপ অতিক্রম করে ভারতের পঞ্চম বৃহৎ রফতানি বাজারে পরিণত হয় বাংলাদেশ।

গত ৩১ মার্চ ভারতের ২০২০-২১ অর্থবছরের সমাপ্তি ঘটে। ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় মহামারী চলাকালে গত অর্থবছরে বিশ্বে সামগ্রিকভাবে ভারতের রফতানি ৭ শতাংশ কমে গেলেও ভারত থেকে বাংলাদেশে রফতানি প্রায় ১১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই তালিকায় বাংলাদেশ নবম অবস্থানে থাকলেও গত অর্থবছরে বাংলাদেশে ৯০৯ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করে ভারত। ফলে, বার্ষিক রফতানির হার ১০ দশমিক ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

ভারতের রফতানি বাজার হিসেবে বাংলাদেশের আগে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং হংকংয়ের নাম।

তবে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের হিসাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে রফতানির পরিমাণ হংকংকেও ছাড়িয়ে গেছে। উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশের উত্থান নিশ্চিতভাবেই ভারতের জন্য সুবিধাজনক বলে জানান ভারতীয় অর্থনীতিবিদ সঞ্জয় কাঠুরিয়া।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাড়তে থাকা মধ্যবিত্ত শ্রেণি ভারতের কৃষি-খাদ্য, উৎপাদিত পণ্য এমনকি বিভিন্ন পরিষেবার জন্য বৃহৎ একটি বাজারের সৃষ্টি করেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের বাণিজ্যিক প্রতিবেদনই তার প্রমাণ। এ ছাড়া ভারতে চিকিৎসা নিতে আসা পর্যটকদের অধিকাংশই বাংলাদেশ থেকে আসেন। তিনি বলেন, একইসঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ক্রমবর্ধমান বেসরকারি খাতও ভারতের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের জন্য সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রধান উৎস হতে পারে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত বাংলাদেশের এই সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেয়া।

মহামারীর কারণে প্রধান রফতানি বাজারগুলোর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্রমশ হ্রাস পেলেও ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি বৃদ্ধি পায়। গত এক দশকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নে দ্রুত সফলতা অর্জন করেছে। এমনকি, মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ।

করোনা মহামারীর কারণে সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় অধিকাংশ রফতানিকারক দেশে ভারতের রফতানি হ্রাস পেয়েছে। দেশটির শীর্ষ ২০ রফতানি গন্তব্যের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়া চীন (২৭ দশমিক ৫ শতাংশ), ইন্দোনেশিয়া (২১ দশমিক ৭ শতাংশ) এবং ব্রাজিলে (৭ শতাংশ) রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ভারতের শীর্ষ রফতানি বাজার। ২০২০-২১ অর্থবছরে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ১৬৩ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করা হয়েছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ছাড়িয়ে ভারতের দ্বিতীয় রফতানি বাজার হিসেবে উঠে এসেছে চীনের নাম। ২০২০-২১ অর্থবছরে ভারত থেকে চীনে ২ হাজার ১২০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করা হয়েছে।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা আরব আমিরাতে ভারতের ১ হাজার ৬৬৮ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এ ছাড়া চতুর্থ অবস্থানে থাকা হংকংয়ে ভারত থেকে রফতানির পরিমাণ ১ হাজার ১৫ কোটি ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে সব থেকে বেশি রফতানি হয়েছে ১৫০ কোটি ডলারের তুলা ও সুতা। এ ছাড়া ৫১ কোটি ৭ লাখ ডলারের বিদ্যুৎ, ৪৯ কোটি ৬ লাখ ডলারের জ্বালানি, ৩৫ কোটি ৬ লাখ ডলারের চাল এবং ৩২ কোটি ৮ লাখ ডলারের ভুট্টা রফতানি হয়েছে। মহামারীর কারণে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কমলেও ভারতের মতো অর্থনৈতিক মন্দার সৃষ্টি হয়নি। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি থেকে ভারত বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর রিসার্চ অন ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক রিলেশনসের (আইসিআরআইইআর) অধ্যাপক নিশা তানেজা।

তিনি বলেন, ‘ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প কারখানার তুলা ও সুতি কাপড়ের প্রধান সরবরাহকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। উৎপাদন জিডিপির ৪৫ শতাংশ এবং মোট রফতানির ৮৫ শতাংশ তৈরি পোশাক শিল্প খাত থেকে আসায় বাংলাদেশ এই খাতের প্রতি বিশেষভাবে নির্ভরশীল’।

নয়া শতাব্দী/এসইউ

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এই পাতার আরও খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x