ঢাকা, সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

রাজবাড়ীর পদ্মায় ফের ভাঙন, হুমকিতে শতশত পরিবার

প্রকাশনার সময়: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২১:১৭ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২৩:১২

রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে আবার ভাঙন দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার বড়চর বেনীনগর গ্রামের শহররক্ষা বাঁধের পদ্মার তীররক্ষা ব্লক ধ্বসে গেছে। এছাড়া তিন কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনরোধে পাউবোর উদ্যোগে বালুর জিও বস্তা ডাম্পিং হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বড়চর বেনীনগর, কাকিলাদহ, মহাদেবপুর গ্রামে ভাঙন শুরু হয়েছে। বড়চর বেনীনগর গ্রামে তীররক্ষা প্রকল্পের ব্লক ধ্বসে গিয়েছে। একটি রাস্তার কিছু অংশ নদীতে চলে গেছে। ব্লকের পশ্চিমদিকে বালুর জিও ও টিউবব্যাগ ফেলা হয়েছে। নদীর পার ঘেঁষে বালুবাহী বাল্কহেড ও বড় নৌযান যাওয়ার কারণে বড় বড় ঢেউ নদীর পারে আছড়ে পড়ছে। এতে ভাঙন আরো ত্বরান্বিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ভাঙনের হাত থেকে পদ্মার তীর সংরক্ষণের জন্য ৩৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এতে মোট ছয়টি প্যাকেজ রয়েছে। বড় প্যাকেজের আওতায় সাড়ে চার কিলোমিটার এলাকায় পদ্মার তীর সংরক্ষণ ও খনন করা হয়। কাজের ব্যয় ৩০৪ কোটি টাকা। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড। কিন্তু কাজ করছে (কাজ কিনে নিয়েছে) মেসার্স দুলাল ব্রাদার্স লিমিটেড (ডিবিএল)। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া কাজ সম্পন্ন করার কথা ছিল ২০২০ সালে। পরে কয়েক দফা মেয়াদও বাড়ানো হয়। গোদার বাজার এলাকায় দেড় কিলোমিটার এলাকা সংস্কার কাজ ২০১৯ সালে শুরু হয়। ব্যয় ধরা হয় ৭২ কোটি টাকা। পাঁচটি প্যাকেজে কাজ সম্পন্ন হয় চলতি বছরের ৩১ মে। কোনো কাজই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়নি। চলতি বছরের জুনে কাজ বুঝে নেয় পাউবো।

বেনিগরের বাসিন্দা আক্কাস আলী সরদার বলেন, বাপ দাদার প্রায় দেড়শ বিঘা জমি ছিল। সবই নদীগর্ভে। এখন আমরা কোনো ভাবে দিনযাপন করি। তেমন জমিজমা নেই। কয়েকদিন ধরে ভাঙন শুরু হয়েছে। আমার ফসলী চার-পাঁচ বিঘা জমি নদীতে চলে গেছে। বিভিন্ন ধরণের সবজি চাষ করেছিলাম। নদী ভাঙনে আগে থেকে পদক্ষেপ নিলে আমাদের খুব ভালো হতো।

রহিমা বেগম বলেন, আগে আমাদের বাড়ি ছিল সিলিমপুরে। সেই বসত জমি এখন পদ্মার মধ্যে। এখানে ১৫ বছর ধরে বসবাস করছি। এই বাড়ি হুমকির মুখে। ছোট ছোট ছেলে মেয়ে আছে। কি করবো, স্বামীর আর্থিক অবস্থাও ভালো না। মাঠে কাজ করে। এবার নদীতে আগের মতো পানি বাড়েনি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন দেখা দিলে বস্তা ফেলা হয়। এতে তেমন একটা কাজ হয় না। নদী শুকনা থাকলে নিচ থেকে কাজ করে আসলে খুব ভালো হতো। গরীব মানুষগুলো বেঁচে যেতো।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল আমীন বলেন, নদীর তীর রক্ষায় একটি বড় প্রকল্প কিছুদিন আগে সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসে কাজ বুঝে নেওয়া হয়েছে। পদ্মা নদীর পানির প্রবাহ সম্প্রতি বেড়েছে। এতে করে ডুবোচর তৈরি হওয়ার পাশাপাশি কিছু কিছু এলাকা ভেঙে যাচ্ছে। ভাঙনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে।

নয়াশতাব্দী/এমএস

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ