ঢাকা, সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর সহায়তায়

সুখী-সমৃদ্ধ পরিবারের স্বপ্ন দেখছেন কমলা বেগম

প্রকাশনার সময়: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২০:২৯ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২১:২৫

হত-দরিদ্র উন্নয়ন মডেলে যুক্ত হতে পেরে আজ আমি আত্মবিশ্বাসী ও সমাজের অন্য সকলের মত সামাজিক ভাবে প্রায় প্রতিষ্ঠিত -উচ্ছসিত অভিব্যক্তি প্রকাশ করে কথাগুলো বলছিলেন সুন্দরপাহাড়ী গ্রামের কমলা বেগম (৪০)।

এক সময়ের হতদরিদ্র কমলা বেগমের বর্তমানে তিনটি গরু ও আটটি ছাগল আছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ১,৬০,০০০ টাকা।

কমলা বলেন, আমার স্বামী মোঃ আব্দুল কাদির মূলত দিনমজুরের কাজ করেন, আমার পরিবারে তিন মেয়ে ও এক ছেলেসহ মোট ছয় জন সদস্য। আমার প্রতিবন্ধী বড় মেয়ে রোকসানা চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে, ছেলে জসিম ৩য় শ্রেণিতে, প্রতিবন্ধী ৭ বছরের মেয়ে মদিনা ওয়ার্ল্ড ভিশনের স্পন্সর্ড শিশু ও ছোট মেয়ে তাবাছুম (৪ বছর)।

তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন তাহিরপুর এপি (এরিয়া প্রোগ্রাম) এর বাদাঘাট পিএফএ’র ভিডিসি সদস্যদের সহায়তায় আমি ২০১৮ সালে হত-দরিদ্র উন্নয়ন মডেলে অন্তর্ভুক্ত হই। আগে আমার একাধিক আয়ের উৎস ছিল না। আমি ঘরের কাজ করেই দিন কাটাতাম, সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকতো। পরবর্তীতে একই বছরে ওয়ার্ল্ড ভিশনের মাধ্যমে একটি বকনা বাছুর পাই। বকনা বাছুর পাওয়ার পূর্বে আমি প্রশক্ষিণ গ্রহণ করি। গরু পালনের বিভিন্ন প্রযুক্তিসমূহ যেমন, গাভীর বাসস্থান, কৃত্রিম প্রজনন, উন্নত জাতের ঘাস, টীকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পর্কে অবগত হই।

তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞানকে সর্বােত্তম কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে থাকি যা দেখে এলাকার অনেকেই আমাকে অনুকরণ করতে থাকে। এছাড়াও তাহরিপুর এপির সহায়তায় আমি বাড়ির আঙ্গিনায় সবজির বাগান চাষ বিষয়ে জ্ঞান লাভ করি এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সহযোগতিায় পারিবারিক সবজির বাগান স্থাপন করি, যা থেকে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি কিছু বিক্রি করে নিয়মিত দ্বিতীয় আয়ের সন্ধান পাই।

উল্লেখ্য, এর আগে পালনকৃত একটি গরু ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি করি যা দিয়ে ভালভাবে জীবন জীবিকার জন্য আমি ঘর মেরামত করি।

এখন নিয়মিত গাভীর দুধ আমার পরিবারের সন্তানদেরকে খাওয়াতে পারি যার ফলে তাদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হচ্ছে ও অতিরিক্ত দুধ বিক্রি বাবদ টাকা নিয়মিত সঞ্চয় করতে থাকি। এভাবে আমি একাধিক আয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হবার চেষ্টা করছি।

সামাজিক ও আত্মবিশ্বাস উন্নয়নের লক্ষ্যে আমি নিয়মিত ভাবে তাহরিপুর এপি আয়োজিত বিভিন্ন সেশন যেমন, সামাজিক কাঠামো, পারিবারিক স্বপ্ন, পুষ্টি শিক্ষা ও উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন ফসল ও ফল উৎপাদন, নারী-পুরুষের সমতা, আয় বৃদ্ধিমূলক কর্মকান্ড, সঞ্চয়, সামাজিক সুরক্ষা-নিরাপত্তা কর্মসূচী, বাল্যবিবাহ ও যৌতুক, নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার, শিশু সুরক্ষা ও নিরাপত্তা, দুর্যােগ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি ।

সামাজিকভাবে এভাবে আমাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশকে আবারো অভিনন্দন জানাই বলে দৃঢ় ভাষায় অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন কমলা বেগম।

নয়াশতাব্দী/এমএস

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ