ঢাকা, বুধবার, ৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

নারী ফুটবলকে এগিয়ে নিতে চান কিশোরী নওশন

প্রকাশনার সময়: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:০৭

দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে নারীরা। বয়সভিত্তিক দল থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে নারীদের সাফল্য ছুঁয়ে যাচ্ছে সবাইকে। অনেক হতাশার মাঝেও আশার আলো দেখাচ্ছে এই নারী ফুটবলাররা।

গ্রামের নিম্মমধ্যবিত্ত গরিব ঘরের ছেলে মেয়েরা দিন শেষে একটা স্বপ্ন নিয়ে ঘুমাতে যায়। একদিন অনেক বড় কিছু হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের মাঝে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় অর্থনৈতিক সমস্যা। তবে লক্ষ্য যদি অটুট থাকে তাহলে জয় করা যায় সকল বাধাকেই। এমনই স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়া এক দরিদ্র পরিবারের কিশোরী ফুটবলার নওশন জাহান নীতি।

২০১৮ ও ২০১৯ সালে দেশের বাইরে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানে ২বার, থাইলেন্ড ১বার ও মায়ানমার ১ বার এবং ২০২২ সালে ভারতে ১ বার খেলতে যায়। এর আগেও নারী দলে টাঙ্গাইল জেলায় বিভিন্ন সময়ে অনেকবার অংশগ্রহণ করেন।

যাদের পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মত অবস্থা সেই পরিবারের মেয়ে নওশন জাহান নীতি। নীতি শগুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পাশ করেন। পরে যদুনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন। প্রাইমারী স্কুল থেকেই ফুটবল খেলার প্রতি তার ঝোঁক। এ কারণে নীতি ঠিকমত একাধারে এক স্কুলে পড়তে পারেননি। পরে গোপালপুর সুতী ভিএম মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২২ সালে এসএসসি পাশ করেন। বর্তমানে এইচএসসিতে পড়াশুনা করছেন ধনবাড়ীর উখারিয়াবাড়ী বিএম কলেজে।

লেখাপড়ার পাশাপাশি বর্তমানে বাফুফের অনুর্ধ্ব ১৮ দলে খেলছেন নওশন জাহান নীতি। ইতিমধ্যেই তিনি জাতীয় ফুটবল দলের একজন সেরা খেলোয়াড় হিসেবেও পরিচিতি লাভ করতে শুরু করেছেন। টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর (বর্তমান ধনবাড়ী) উপজেলার বংশাই নদীর পাড় ঘেষা যদুনাথপুর ইউনিয়নের বাড়ইপাড়া এলাকার বাসিন্দা নীতি। নীতি ও তার ২ বোনকে রেখে ৯ বছর আগে নীতি’র মা মারা যায়। মা মারা যাওয়ার পরে তার মায়ের আপন ছোট বোন সীমা খাতুন কে দ্বিতীয় বিয়ে করেন নীতির বাবা। এই সংসারেও নীতি’র আরও দুই বোন রয়েছে। বাবা নজরুল ইসলাম নদীর পাড়ে একটি মুদির দোকান দিয়েছেন। ঐ দোকান থেকে যে টাকা আয় হয় তাই দিয়ে চলে তাদের সংসারের ব্যায়ভার ও সকল বাচ্চার লেখা পড়ার খরচ।

নিজের পরিবারের উৎসাহ ও খেলোয়াড়ী ওস্তাদ বাপন এর প্রচেষ্টার কারণে নীতি আজ জাতীয় দলের খেলোয়াড়। শুধু অভিভাবকই নয় তার প্রতিবেশী চাচা স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজান প্রথম সময়ে তাকে ফুটবল কিনে দিয়েছিলেন। এজন্যই আজকের এই নীতি জাতীয় দলে খেলতে পারছেন। ৫ বোনের বোনের মধ্যে দ্বিতীয় নীতি। ধনবাড়ী থানা এলাকার যদুনাথপুর ইউনিয়নের বাড়ইপাড়াএলাকার বংশাই নদীর পাড়ে তার বসতবাড়ি। টিনের বেড়া ও ছাউনি বেষ্টিত ঘরেই বেড়ে ওঠা নীতি কখনো ভাবতে পারেনি জাতীয় ফুটবল (কিশোরী) দলে অংশগ্রহণ করবে।

কয়েক বছর ধরেই জাতীয় দলে খেলছেন তিনি। তার খেলা শুরু অনুর্ধ্ব ১৫ থেকে বর্তমানে অনুর্ধ্ব ১৮ তে খেলছেন।

তিনি বলেন, খেলাধুলা দেখতে ভালো লাগে। ছোটবেলায় টিভিতে ফুটবল খেলা উপভোগ করতাম। পরবর্তীতে নারীদের ফুটবল খেলা দেখে কেমন যেন মনে হতো এটাও কি সম্ভব। এক সময় দেখি নারীরা ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি ফুটবল খেলায়ও এগিয়ে যাচ্ছে। তাই পঞ্চম শ্রেণিতে থাকাকালীন সময় ফুটবল খেলায় নাম লেখায়। এরপর ধনবাড়ী উপজেলায় খেলে পরে অনূর্ধ্ব-১৫ তে টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে খেলার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে চান্স হয়। পরে জাতীয় দলে খেলে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে আমি পুরস্কার পাওয়ায় নিজেকে ধন্য মনে করছি। দেশের বাইরেও খেলে সুনাম অর্জন করেছি এবং ভবিষ্যতে ভালো খেলোয়াড় হিসেবে দেশের সুনাম বয়ে আনতে চান এই কিশোরী।

জাতীয় ও বয়সভিত্তিক দলের নিয়মিত মুখ নওশন জাহান নীতি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর সন্তান। তার পরিবারও তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে। তার পরিবার ও প্রতিবেশিরা মনে করেন, জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের উচিত এই প্রতিভাবান কিশোরীর পাশে দাঁড়ানো। অথচ নীতি’র আক্ষেপ, তাকে টাঙ্গাইল ও ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধি তেমন কেউ চেনে না।

২০২০ সালে অনুর্ধ্ব ১৭ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা গোল্ডকাপ টুর্ণামেন্ট খেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র কাছ থেকে পুরুস্কার পেয়েছিলেন নওশন জাহান নীতি।

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর সচেতন মহল মনে করেন, এই এলাকায় বেড়ে ওঠা একজন কৃতি খেলোয়াড় আজ জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করছে এটা অবশ্যই তাদের জেলার জন্য গর্বের বিষয়। তাদের সম্মানিত করা উচিত। তাতে করে ফুটবলের মাধ্যমে তারা দেশের সুনাম বয়ে আনতে পারে।

নয়াশতাব্দী/এমএস

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ