ঢাকা, বুধবার, ৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সরকারি সহায়তা পেয়ে ভিক্ষাবৃত্তি ত্যাগ করার শপথ

প্রকাশনার সময়: ১৬ আগস্ট ২০২২, ০২:০৩

সরকারি সহায়তা পেয়ে ভিক্ষাবৃত্তি ত্যাগ করার শপথ করেছেন ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার পয়ারী গ্রামের জমিলা খাতুন, নগরভেড়া গ্রামের অহেদ আলী, নয়াগাঁও গ্রামের জেলেখা খাতুন, ঠাকুরবাখাই গ্রামের তসিরন খাতুন ও চক ঢাকিরকান্দা গ্রামের প্রতিবন্ধী (হাত নেই) আব্দুর রহমান।

হাত নেই, আবার কারো নেই স্বামী। এতদিন ভিক্ষা করেই চলত তাদের সংসার। দীর্ঘদিন যাবৎ তারা ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবনযাপন করছেন। তবে এখন থেকে তারা আর ভিক্ষা না করার শপথ করেছেন। কারণ তারা জীবিকা নির্বাহের জন্য পেয়েছেন আয়ের একটি উৎস। জীবনের এই ক্রান্তিলগ্নে এসে অন্যের কাছে হাত পেতে খেতে হবে না, এই ভেবে তারা খুবই আনন্দিত।

ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলা সমাজসেবা অধিদফতরের পক্ষ থেকে এই পাঁচজনের মধ্যে একজনকে ব্যাটারি চালিত রিকশা, একজনকে ভ্যান ও তিন জনকে গরু দেয়া হয়েছে। এদের মাঝে জমিলা খাতুনকে অটোরিকশা, অহেদ আলীকে ভ্যান গাড়ি, জেলেখা খাতুন, তসিরন খাতুন ও প্রতিবন্ধী (হাত নেই) আব্দুর রহমানকে গরু দেয়া হয়েছে।

সোমবার (১৫ আগস্ট) উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল করিম রাসেল ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শীতেষ চন্দ্র সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে অটোরিকশা, ভ্যান গাড়ি ও গরু প্রদান করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পৌর মেয়র শশধর সেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা আক্তার ববি, ভাইস চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান, ফুলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শিহাব উদ্দিন খান প্রমুখ।

ভিক্ষুক জমিলা খাতুন ও জেলেখা খাতুন বলেন, ‘অন্যের কাছে হাত পাতলে লজ্জা লাগে। কিন্তু উপায় ছিলো না।পেটে ক্ষুধা রেখে মুখে লাজ করলে চলবে না। তাই এতদিন ভিক্ষা করে সংসার চালিয়েছি। আজ থেকে আর ভিক্ষা করতে হবে না।’

উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল করিম রাসেল বলেন, আপাতত পাঁচ জনকে স্বাবলম্বী করতে এ উদ্যোগ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গড়তে উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

নয়াশতাব্দী/জেডআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ