ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯, ১৭ মহররম ১৪৪৪

গাছে গাছে কাঁঠাল, মিষ্টি গন্ধে থমকে দাঁড়ায় পথিক 

প্রকাশনার সময়: ৩০ জুন ২০২২, ১০:৩২

ময়মনসিংহের নান্দাইলে এবার জাতীয় ফল কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিটি গাছে ঝুলে রয়েছে ছোট-বড় কাঁঠাল। বাগানের গাছগুলোতে ঝুলছে সারি সারি কাঁঠাল। কাঁঠাল দেখে থমকে দাঁড়ায় পথিক, ঘ্রাণে হারিয়ে যায় তাদের মন। মিষ্টি ঘ্রাণে বারবার ফিরে তাকায় গাছে ঝুলে থাকা কাঁঠালের দিকে। পাকা কাঁঠালের মিষ্টি গন্ধে গাছে গাছে ভিড় করছে পাখ-পাখালির দল। ম-ম গন্ধে এখানকার চারপাশ এখন মুখরিত।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নান্দাইলে বাণিজ্যিক ভিত্তিক কাঁঠাল বাগান নেই। বাড়ির আঙিনা, পতিত জমি ও রাস্তার দুই পাশের জমিতে কাঁঠালগাছ রয়েছে। গাছে প্রতিবছর প্রচুর কাঁঠাল উৎপাদন হয়। প্রতিটি গাছের গোঁড়া থেকে আগা পর্যন্ত শোভা পাচ্ছে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ জাতীয় ফল কাঁঠাল। উপজেলার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করেন গাছ মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

পৌর শহরসহ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ৮ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০০ মে: টন কাঁঠাল উৎপাদন হবে বলে কৃষি অফিস ধারনা করছে।

উপজেলায় ছোট কিছু বাগানের পাশাপাশি প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায়, রাস্তার দুধারে, পতিত জমিতে প্রচুর কাঁঠাল গাছের দেখা মেলে। যা প্রত্যেক পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে থাকে। প্রতিটি গাছে ৫০ থেকে ১০০টি পর্যন্ত ফল ধরেছে। আর এসব গাছে ঝুলে থাকা কাঁঠালের দৃশ্য অনেকের নজর কাড়ে। এ যেন কাঁঠালের রাজত্ব।

সরেজমিন উপজেলার বীরবেতাগৈর ও চরবেতাগৈর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি কাঁঠাল গাছে শুধু কাঁঠাল আর কাঁঠাল। বীরবেতাগৈর ইউনিয়নের বীরকামট খালী গ্রামের নামা এলাকা এবং চরবেতাগৈর ইউনিয়নের চরকামট খালী, চরউত্তরবন্দ, চরকোমরভাঙা, চরশ্রীরামপুর লক্ষ্মীচর লক্ষ্মীদিয়া, চরভেলামারী গ্রামে গাছে গাছে শুধু কাঁঠাল আর কাঁঠাল। কাঁঠালের রাজত্বে যেন হারিয়ে যায় মন।

এলাকাবাসীরা জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন হাট-বাজারে, চাষিদের বাড়িতে পাইকারদের উপচেপড়া ভিড় থাকে। দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা বিভিন্ন যানবাহনে করে কাঁঠাল দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়।

এখানে প্রতিটি বড় সাইজের কাঁঠাল ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সাইজের কাঁঠাল ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং ছোট কাঁঠাল ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা বিক্রেতাদের কাছে মাঝারি সাইজের কাঁঠালের কদর রয়েছে সবচাইতে বেশি। বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় খুশি কাঁঠাল মালিকরা।

আষাঢ়-শ্রাবণ মাস কাঁঠাল পাকার উৎকৃষ্ট সময়। তবে জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ কাঁঠাল বাজারে বেচা-কেনা হচ্ছে।

কাঁঠালের একটি বড়গুণ এর কোনো কিছু বাদ যায় না। কাঁঠালের কোষ, খোসা ও বিচি সব কিছুই প্রয়োজনীয়। বিচি উৎকৃষ্টমানের সবজি হিসাবে তরকারি রান্না করে খাওয়া হয়। কাঁঠালের খোসা গরু-ছাগলের প্রিয় খাদ্য। তাছাড়া কাঁঠালের পাতা ছাগল-ভেড়া-গরুর প্রিয় খাবার হিসাবে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কাঁঠাল উৎপাদনে কোনো খরচ না থাকায় চাষিরা লাভবান বেশি হয়।

চিকিৎসকদের মতে কাঁঠালে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন-সি ভিটামিন-বি, ভিটামিন ই-ক্যালসিয়াম ফলিক এসিড রয়েছে। টাটকা ফলে পটাশিয়াম ম্যাগনোশিয়াম এবং আয়রনের একটি ভাল উৎস। তাছাড়া পটাশিয়াম হার্টের গতি ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পাকা কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণ আঁশ রয়েছে। ফলে পাকা কাঁঠাল খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

চরকোমরভাঙা গ্রামের কাঁঠাল বাগান মালিক মোখলেস জানান, তার বাগানে ৬০ কাঁঠাল গাছ আছে। এখন পর্যন্ত ২৫ হাজার টাকার কাঁঠাল বিক্রি করেছন। মো. রুহুল আমিনের বাগানে রয়েছে ৪০টি কাঁঠাল গাছ। তিনি বিক্রি করেছন ১৫ হাজার টাকা।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, নান্দাইলের মাটি বিশেষ করে চরাঞ্চলের মাটি কাঁঠাল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ বছর উপজেলায় কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে করে কৃষকরা কাঁঠাল বিক্রি করে অনেক লাভবান হবেন।

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ