ঢাকা, শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯, ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ে বাবা-ছেলেসহ ৪জন খুন

প্রকাশনার সময়: ২৩ জুন ২০২২, ১০:৫৭

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম বড়থলি ইউনিয়নে সশস্ত্রী হামলায় চারজন নিহত হওয়ার দাবি করছেন ওই এলাকার চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ইউনিয়ন সভাপতি আতুমং মারমা।

জানা গেছে, বিলাইছড়ি উপজেলায় কুকি চীন ন্যাশনাল ফ্রন্ট’র (কেএনএফ) হামলায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি’র (পিসিজেএসএস) জুম্মল্যান্ড আর্মির (জেএলএ) সদস্য তারা।

নিহতরা হলেন-বৃষচন্দ্র ত্রিপুরা (৫২), তার ছেলে ধনরাম ত্রিপুরা (১৬), সুভাস চন্দ্র ত্রিপুরা (২৩) ও বীর কুমার ত্রিপুরা (২০)।

এর আগে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জুম্মল্যান্ড আর্মির (জেএলএ) তিন সদস্যকে হত্যার দায় স্বীকার করে নিজেদের নিজস্ব ফেসবুক পেজে বিবৃতি দিয়েছেন কেএনএফ’র হেডকোয়ার্টার্স’র লেফটেন্যান্ট কর্নেল সলোমন।

সশস্ত্র সংগঠন কেএনএফ তাদের নিজস্ব ফেসবুক পেজে বিবৃতিতে জানায়, সশস্ত্র সংগঠন কুকি চীন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) তাদের নিজস্ব ফেসবুক পেজে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে উল্লেখ করে-মঙ্গলবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় বিলাইছড়ি ইউনিয়নের দুর্গম বড়তলী ইউনিয়নের জাইজাম পাড়ায় সদ্য গঠিত জেএলএর স্বশস্ত্র বেসমেন্ট ক্যাম্পে কেএনএফের স্পেশাল কমান্ডো ফোর্স হেড-হান্টার টিম সফলভাবে হামলা চালায়। এতে জেএলএর তিনজন সশস্ত্র সদস্য ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আর আহত অবস্থায় জেএলএর বেশ কয়েকজন সদস্য পালিয়ে পালিতে যেতে সক্ষম হন।

কেএনএফ আরও দাবি করছে, দীর্ঘদিন ধরে জাইজাম এলাকায় স্থানীয় নিরীহ বম, খিয়াং, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। কিন্তু জেএলএ ওই গ্রামবাসীকে সেখান থেকে চলে যেতে হুমকি দেয় এবং নির্যাতন করে। যে কারণে ভয়ে স্থানীয়রা তাদের সহায়-সম্পদ ফেলে পালিয়ে যান। জেএলএর এসব অপকর্ম বেশ কয়েকদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করেছে কেএনফ বাহিনী।

সংগঠনটি বলছে, জেএলএ ওই এলাকায় তাদের সশস্ত্র ক্যাম্প তৈরি করেছে মূলত টহলরত সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালাবে এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে।

বড়থলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ওই ইউনিয়নের পিসিজেএসএস’র সভাপতি আতমং মারমা বলেন, কেএনএফ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিলাইছড়ি ইউনিয়নের দুর্গম বড়থলী ইউনিয়নের জাইজাম পাড়ায় এলাপাতাড়ি গুলি করে নিরীহ তিনজনকে হত্যা করেছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছে। আমি বর্তমানে বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় অবস্থান করছি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মাহমুদা বেগম বলেন, ঘটনাস্থলটি বেশ দুর্গম। নিশ্চিত না হয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ