ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯, ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

দিনাজপুরে প্রতিদিন ১০ কোটি টাকার লিচু বিক্রি

প্রকাশনার সময়: ২৮ মে ২০২২, ১৬:৫৭

বাঁশের ঝুড়িতে থাকা লাল ও সবুজ রঙের থোকা থোকা লিচু নজর কাড়ছে সবার। নজরকাড়া এই লিচু দিনাজপুরের গর্ব, যার চাহিদা দেশজোড়া। রসাল এই লিচুর খ্যাতিও রয়েছে বেশ। এ জেলায় নানা জাতের ও সুন্দর সুন্দর নামের লিচু পাওয়া যায়। ব্যবসায়ীরা জেলার বড় বড় বাজার থেকে এসব লিচু কিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছেন।

এরই মধ্যে মাদ্রাজি ও মোজাফফরি লিচু বাজারে তুলছেন চাষী ও ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিন লিচু নিয়ে দিনাজপুর ছাড়ছে সহস্রাধিক পরিবহন। লিচুকে কেন্দ্র করে জেলায় প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, দিনাজপুরে এবার লিচুর মোটামুটি ফলন হয়েছে। এ বছর উৎপাদন হবে ৩০ হাজার টন লিচু। তা বিক্রি হবে ৬১৬ কোটি টাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, সদর উপজেলার মাশিমপুর ও বিরলের মাধবমাটি গ্রামের লিচু সারাদেশে পরিচিত। এ এলাকাগুলোর উৎপাদিত মাদ্রাজি, বেদানা, বোম্বাই, চায়না-থ্রি, ও কাঁঠালিসহ সব লিচুকে রসগোল্লা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এরই মধ্যে মাদ্রাজি ও মোজাফফরি লিচু বাজারে উঠতে শুরু করেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে লিচুর রঙ পুরোপুরি লাল ধারণ করলেই বেদানা ও বোম্বাই লিচুর বাজারজাত শুরু হবে।

চায়না থ্রি ও কাঁঠালি লিচু আসবে সবার পরে। দিনাজপুর গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে উদ্বোধন করা হয়েছে লিচুর অস্থায়ী বাজার।

লিচু চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লিচুর রাজ্য হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরে দিন দিন লিচু চাষ বাড়ছে। সারাদেশে চাষ হলেও দিনাজপুরের লিচু স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়। তাই দিনাজপুরের লিচুর কদর আলাদা। প্রতি বছরই ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে লিচু চাষের জমির পরিমাণ। এখন লিচুকে এ জেলার জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দিনাজপুরবাসী।

কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি কয়েক বছর ধরে লিচুর আবাদ করছি। কিন্তু গত দুবছর করোনার কারণে লিচুতে কিছুটা লোকসান হয়েছিল। কিন্তু এ বছর ফলন দেখে খুব ভালো লাগছে। দামও ভালো পাবো বলে আশা করছি।

মাধবমাটি গ্রামের কৃষক সাহেব হোসেন বলেন, আমাদের লিচুর অনেক সুনাম রয়েছে। কিন্তু এ লিচু দীর্ঘদিন সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। লিচু সংরক্ষণের জন্য একটি হিমাগার তৈরি করা হলে আমরা অনেক লাভবান হবো। লিচু গাছ থেকে নামানোর পর কয়েকদিনের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। এতে অনেক ক্ষতি হয়। একটি হিমাগার থাকলে সেই লিচু সংরক্ষণ সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি দামও ভালো পাওয়া যাবে।

ঢাকা থেকে আসা লিচু ব্যবসায়ী রাজা ইসলাম বলেন, প্রতি বছর এ জেলার কয়েকটি লিচুর বাগান কিনি। ঢাকায় আমার লিচুর বড় আড়ত রয়েছে। সেখানে দিনাজপুরের লিচুর অনেক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু গত দুবছর করোনার কারণে গাড়ি সংকটে থাকায় কিছু লোকসান হয়েছির। তবে এবার ভালো লাভ হবে বলে মনে করছি।

লিচু ব্যবসায়ী লিটন ও রানা বলেন, দিনাজপুর থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে এক হাজার যানবাহন যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়। এছাড়া কুরিয়ারে এবং ট্রেনেও লিচু যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন বাজারে। স্থানীয়ভাবে বেচাকেনা তো আছেই। সব মিলিয়ে প্রতিদিন লিচুর বাজারে কমপক্ষে ১০ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। বোম্বাই, বেদানা ও চায়না থ্রি লিচু বাজারে এলে লেনদেন ১৫ কোটি টাকার বেশি হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো. খালেদুর রহমান জানান, গত বছর দিনাজপুরে ৫ হাজার ৪৮১ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। ফলন হয়েছিল ২৮ হাজার টন। এবার দিনাজপুরে ৫ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে লিচু উৎপাদন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে ৩০ হাজার টন। গত বছর লিচু বিক্রি হয়েছে ৫৭৫ কোটি টাকা। এবার তা বেড়ে ৬১৬ কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০ মে থেকে জেলায় মাদ্রাজি ও মোজাফফরি লিচুর প্রথম দফায় আহরণ শুরু হয়েছে।

নয়াশতাব্দী/জেডআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ