ঢাকা, সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২১ শাওয়াল ১৪৪৩

চলনবিলাঞ্চলে ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলন

প্রকাশনার সময়: ১৪ মে ২০২২, ১১:০৩

চলনবিলাঞ্চল শস্যভান্ডার খ্যাত নাটোরের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, সিংড়া, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, পাবনার ভাঙ্গুড়া, চাটমোহরসহ ৯টি উপজেলার কৃষি প্রধান ইরি বোরো ধান। পাকা ধানের গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে চারদিক। মাঠজুড়ে এখন শুধুই সোনালি স্বপ্ন। সময় মতো পাকা ধানগুলো গোলায় তুলতে না পারলে ভেস্তে যেতে পারে সারা বছরের স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের পাকা ধানগুলো গোলায় তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চলনবিলের কৃষাণ-কৃষাণীরা। একাজে সহযোগিতা করছেন স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী যুবক যুবতি এমনকি বৃদ্ধরাও। কারণ ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় রয়েছে কৃষকরা। এজন্য দেখা দিয়েছে শ্রমিকসংকট। এদিকে শ্রমিকের বাড়তি দাম নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও বাজারে ধানের ভালো দামে কৃষকের মুখে খুশির ঝিলিক।

খোঁজনিয়ে জানা গেছে, নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া, বড়াইগ্রাম, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, পাবনার ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুর, বগুড়ার নন্দীগ্রাম ও নওগাঁর আত্রাই উপজেলা মুলত বর্তমানে চলনবিলের মুল অংশজুড়ে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। চলনবিলের মাঠগুলোতে পুরাদমে চলছে ধানকাটা। ধানকাটা ও মাড়াই শেষে কৃষকদের গোলাঘরে উঠতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই ৭৫ শতাংশ ধান ঘরে উঠেছে।

চলনবিলঞ্চলের পিপলা গ্রামের কৃষক রমজান আলী নয়া শতাব্দীকে জানান, তার ১০ বিঘা জমির বোরো ধান বেশ ভালোই হয়েছে। তিনি ধান ক্ষেতে আগাম কীটনাশক প্রয়োগ করার কারণে পোকা আক্রমণ থেকে বোরো ক্ষেত রক্ষা পেয়েছে। এতে ফলনও ভালো পাচ্ছেন। তবে সময় মতো ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। যদিও পরিবারের সবাই একাজে সহযোগিতা করছে।

চলনবিলবেষ্টিত উপজেলার বিলশা, রুহাই, বামনবাড়িয়া গ্রামের কয়েকজন কৃষক নয়া শতাব্দীকে জানান, অধিকাংশ জমির আগাম জাতের জিরা ধান কর্তন করা হলেও যেসমস্ত জমিতে শরিষা আবাদ শেষে জিরাসহ ব্রিধান ২৯ চাষ করা হয়েছে সেসব ধান কাটতে এখনও ২ সপ্তাহ বাঁকি। বৈশাখী ঝড়, অতিবৃষ্টি, শীলাবৃষ্টিসহ প্রকৃতিক দুর্যোগের শংকায় ওই ধান ধরে তোলা নিয়ে চিন্তিত তারা।

কৃষকরা আরো জানান, শ্রমিক সংকট, অতিবৃষ্টি দেখা দিয়েছে। চুক্তিভিক্তিক ১ বিঘা জমির ধান কাটতে শ্রমিকদের ৪ থেকে ৫ মন ধান দিতে হচ্ছে। টাকার অংকে একজন শ্রমিককে মুজুরী ৬’শ থেকে শ টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে উৎপাদন খরচ তাদের বেড়ে গেছে। তার পরেও ভালো দামে নতুন আশা দেখছেন চলনবিলের কৃষকরা।

গুরুদাসপুর উপজেলার বিলশা গ্রামের কৃষক আব্দুর রউফ নয়া শতাব্দীকে বলেন, সেচ খরচ, চাষ, চারা রোপন, সার, বালাই নাশক, কর্তন মিলে তার প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ১৭ হাজার টাকা। প্রতিবিঘায় ফলন হয়েছে ২২ মন। প্রতিমনের (কাঁচ-ভেজা) বাজারমুল্য ১ হাজার টাকা। এতে প্রতি বিঘায় তিনি ৫ হাজার টাকা লাভবান হয়েছেন।

গুরুদাসপুর পৌর সদরের আনন্দ নগর গ্রামের কৃষক দেলবর হোসেন নয়া শতাব্দীকে বলেন, তিনি বিলশা মাঠের পুর্বাশে ৪ বিঘা জমিতে আগাম জিরা ধান চাষ করেছিলেন। মাঝে অনাবৃষ্টির কারণে সেচ সংকট, শীষ বের হবার সময় ঝড়ো বাতাস, ধানগাছ মাটিতে নুইয়েপরার কারণে ফলন বিপর্যয় দেখা দেয়। প্রতি বিঘায় স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ৪ থেকে ৫ মণ ফলন কম হয়েছে তার। এর পরেও তিনি বিঘাপ্রতি ২২ মন ধান পেয়েছেন। এতে খুশি তিনি।

নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫৭ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে চলনবিল অধ্যুষিত গুরুদাসপুরে ৫ হাজার ৪শ’ হেক্টর, বড়াইগ্রামে ৭ হাজার ৯শ’ হেক্টর ও সিংড়ায় ৩৬ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। ফলনও আশানুরূপ হয়েছে। কৃষকরা ধানের ফলনও ভালো পাচ্ছেন। ইতোমধ্যেই ৭৫ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্পূর্ণ হয়েছে। অবশিষ্ট ধান কাটা অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হবে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ফলনের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকতা মো: হারুনর রশীদ নয়া শতাব্দীকে বলেন, চলতি বছরে গুরুদাসপুর উপজেলায় ৫ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এছাড়াও কৃষি অফিস থেকে সময়মতো বীজ, সারসহ কৃষকদের সার্বক্ষনিক পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। প্রকৃতিক দুর্যোগের আগেই অধিকাংশ কৃষক ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন। যাদের কর্তন উপযোগী ধান মাঠে রয়েছে তাদের দ্রুততম সময়ে কেটে ফেলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে মাঠ পর্যায়ে লোক পাঠিয়ে কৃষকদের খোঁজ খবর রাখার কারণে এবার ধানের ভালো ফলন হয়েছে।

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ