ঢাকা | বৃহস্পতিবার ৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৫ জিলহজ ১৪৪২

পানির দরে চামড়া কিনেও লোকসানের শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

জনাব আলী, রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশনার সময়: ২১ জুলাই ২০২১, ২২:০৫ | আপডেট : ২১ জুলাই ২০২১, ২২:১৪

রাজশাহীতে গরুর চামড়া প্রতি পিস ২০০ টাকা এবং খাসির চামড়া প্রতি পিস ১৪ টাকা দরে কিনেছেন মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। ফলে পানির দরে চামড়া কিনেও লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন তারা। কারণ লকডাউনের কবলে পড়ে সংগৃহিত চামড়া বিক্রি করতে পারবেন কিনা তা নিয়েও শঙ্কা বিরাজ করছে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের।

রাজশাহীর মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস খাঁন নয়া শতাব্দী বলেন, ‘গরুর চামড়া প্রতি পিস আকারভেদে ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা দরে ক্রয় করছি। এছাড়া ছাগলের চামড়া প্রতি পিস ১৪ টাকা থেকে ১৮ টাকা করে ক্রয় করেছি। ঈদের দিন একজন শ্রমিকের দিনে ১ হাজার টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে। ৫ হাজার পিসের চামড়া কিনেছি। কিন্তু বিক্রি করতে পারবো কিনা শঙ্কায় রয়েছি। কারণ লকডাউনে চামড়া দাম একেবারেই নেই। পানির দরে বিক্রি হচ্ছে চামড়া। এরপরও ব্যবসায়ীরা চামড়া নিচ্ছে না। ঈদের দিন বাড়ি বাড়ি ঘুরে আমরা চামড়া ক্রয় করেছি। এসব চামড়া আমরা ক্রয় না করলে মাটিতে পুঁতে নষ্ট করে ফেলা হতো। চামড়া কেনার ক্রেতা খুবই কম। এসব চামড়া বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরি তুৃলতে পারবো কিনা শঙ্কায় রয়েছেন বলে জানান তিনি।’

লকডাউনের কারণে চামড়া নিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হতে পারেন বলে মনে করছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা।

কোরবানিকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর রাজশাহীতে প্রচুর পশু জবাই হয়। চামড়া কেনাবেচা হয় কোটি কোটি টাকার। এ বছর গরুর চামড়ায় ৫ টাকা ও খাসির চামড়ায় দাম বেড়েছে দুই টাকা। এমন দামে অপত্তি না থাকলেও ঈদের পরেরদিন লকডাউনকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন রাজশাহী-নাটোরের চামড়া ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন- ‘চামড়া সংগ্রহ, বিক্রি ও রক্ষণা-বেক্ষণের জন্য কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময় লাগে। এসময় চামড়া ব্যবসার জন্য পরিবহন ও যোগাযোগ বিষয়ে লকডাউনের মধ্যে চলাফেরার সুযোগ চান তারা।

অন্যদিকে, সীমান্তে চামড়া পাচার রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বিজিবি সদস্যরা। রাজশাহী-১ বিজিবি জানায়, সিমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।

রাজশাহী ও নাটোরের চামড়া ব্যবসায়ী নেতারা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে চরম শঙ্কার মধ্যে দিন কাটছে তাদের। ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া পড়ে আছে কোটি কোটি টাকা।

রাজশাহী জেলার ব্যবসায়ীদের ২০১৫ সালের ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে ট্যানারি মালিকদের কাছে। এছাড়া নাটোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ীদের বকেয়া রয়েছে ১৯৯০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত। এসময়ে বকেয়ার পরিমান ৬৫ থেকে ৭০ কোটি টাকা। এবছর রাজধানীতে লবনযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম গরুর প্রতি বর্গফুট ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়া ১৫ থেকে ১৭ টাকা, বকরির চামড়া ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর গতবছর রাজধানীতে লবনযুক্ত গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ছিলো ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। আর ঢাকার বাইরে ছিলো ২৮ থেকে ৩২ টাকা।

রাজশাহী জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি আসাদুজ্জামান মাসুদ জানান, ‘কোরবানির ঈদের দিন পশুর চামড়াগুলো ক্রয় করে একত্রিত করতে হয়। এগুলো সংরক্ষণ ও বিক্রি করতে কমপক্ষে আরো এক সপ্তাহ সময় লাগে। এবার ঈদের পরের দিন রয়েছে লকডাউন। কি হবে জানি না। কপালে তার চিন্তার ভ্যাঁজ পড়েছে। ব্যবসার স্বার্থে লকডাউনে তাদের চলাচলের সুযোগ দিতে হবে বলে জানান তিনি। রাজশাহীতে চামড়া রাখার মতো ব্যবস্থা নেই তাই বিপদ আরো বাড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি।

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এই পাতার আরও খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন
x